
কখনও কখনও মানুষের ভালোবাসার রূপ দেখে অবাক হতে হয়। ভালোবাসার টানে মানুষ কত দূরই না পাড়ি দেয়! কিন্তু সেই ভালোবাসা যখন বিশ্বাসের বদলে প্রতারণা আর স্বার্থপরতার জালে জড়িয়ে যায়, তখন তা মানুষের জীবনকে নরক বানিয়ে তোলে।
সেদিন ঢাকার পল্টনে এক রেস্তোরাঁয় বসে এমন এক নারীর গল্প শুনছিলাম। আমাদের এক সাংবাদিক সহকর্মীর পরিচিত এক আপু এলেন আমাদের সাথে দেখা করতে। কথায় কথায় বেরিয়ে এল তার জীবনের এক করুণ ও মর্মান্তিক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এক সরকারি কর্মকর্তার সাথে। লোকটা নিজের পরিচয় গোপন করে সবসময় বলত তার টাকা-পয়সা নেই, সে অসহায়। অথচ সেই নারী নিজের সাধ্যমতো তাকে ভালো ব্র্যান্ডের জামাকাপড়, পারফিউম কত কী উপহার দিয়েছেন।
পরে জানা গেল, সেই লোকটা বিবাহিত এবং হাজার কোটি টাকার মালিক! শুধু তাই নয়, সম্পর্ক চুকেবুকে যাওয়ার পর উল্টো সেই নারীকেই হয়রানি করা হয়েছে, থানায় জিডি করিয়ে জোর করে লিখিত নেওয়া হয়েছে যেন আর যোগাযোগ করা না হয়। মানুষটাকে মানসিকভাবে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে তিনি নিজের আঙুল পর্যন্ত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে ফেলেছিলেন! তবু এত বঞ্চনা আর প্রতারণার পরও তার আকুতি—যদি লোকটার সাথে শেষবারের মতো একটু কথা বলতে পারতেন!
একটি গল্প বলি... এক শিকারী একদিন একটা সুন্দর পাখি ধরে খাঁচায় বন্দী করল। পাখিটা প্রথমে ছটফট করল, কিন্তু আস্তে আস্তে খাঁচার নিয়ম মেনে নিল। একসময় শিকারী খাঁচার দরজা খোলা রেখেই ভুলে গেল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পাখিটি আর উড়ে গেল না। খোলা দরজার সামনে বসেই সে বন্দী দশাকেই নিজের পৃথিবী ভেবে নিল। প্রতারক মানুষগুলোও এভাবেই ভালোবাসার নামে মানুষের মনে একটা অদৃশ্য খাঁচা তৈরি করে দেয়।
সমাজ বদলাচ্ছে, মানুষের মুখোশও পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মন সরল রয়ে গেছে বলেই আজও কেউ কেউ মিথ্যে মায়ার পেছনে জীবন খুইয়ে বসে থাকে। একটুখানি ভালোবাসার বা একটু স্পর্ষের কাঙাল হয়ে মানুষ কতটা নিঃস্ব হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস হয় না। এ অন্ধ মোহ থেকে বের হয়ে আসার সময় কি হয়নি আমাদের?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

