somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি নিজে থেকে এআইয়ের হেল্প নিয়ে বেশ সহজ সরল মত, কিন্তু প্রচন্ড ইফেক্টিভ একটা POS সিষ্টেম দাড় করাই।



ব্যবসার হিসাব-কিতাব আস্তাে আস্তে POS এ ঢুকানো শুরু করলে দেখা দেয় বিপত্তি। যে পার্টনার হিসাব রাখছেন, তিনি সৎ মানুষ এটা বিশ্বাস করি ঠিকই, কিন্তু তিনি হিসাব মিলাতে পারছেন না। মাত্র ২ মাসে প্রায় ৪,০০০ রিয়ালের হিসাবে গড়বড়। টাকার হিসাব ৩২.৫ করে ধরলেও প্রায় ১.৩ লাখ টাকা নাই। পরে অবশ্য এর থেকে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা হিসাব পাওয়া গেছে; কিন্তু কিচ্ছু লেখা ছিলো না; ব্রেইনের উপর নির্ভর করে বের করতে হয়েছে এক এক করে।

আমরা যদিও তাকে এখনও বিশ্বাস করি, এবং এটাও অন্তর থেকে মানি যে বাকি ৫০-৬০ হাজারের হিসাব আমরা মেলাতে পারিনি, বা উনি দিতে পারেন নি; আমরা সব কিছু আমার বানানো POS এ নিয়ে আসি।

ঐ সময় গুলির মধ্যে আমি একবার কোন মিটিং এ বলে ফেলেছিলাম, একটা টমেটোর হিসাবও থাকা লাগবে! এটা নিয়ে উনি একাধিক বার খোঁটা দিয়েছেন। তখন আমি ইচ্ছা করে POS এ সব কিছুর হিসাব রাখার সিষ্টেম চালু করি। এবং তখনই এক ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে! প্রতি সপ্তাহে ১২-১৫ কেজি মুরগি হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে! অর্থাৎ দিনে প্রায় দুই কেজি, ১২ রিয়াল হিসাবে ২৪ রিয়াল; আর টাকার হিসাবে প্রায় ৭৫০ টাকা! এছাড়া আরও কিছু অসংগতিও চোখে পড়ে। এগুলি এডজাষ্ট করবার পর দেখা যায় আমাদের মাসে একজনের বেতনের টাকা বেঁচে যাচ্ছে!

যাই হোক, যেজন্য আজকের প‌্যাচাল শুরু করা.... আমি কখনওই হিসাব কিতাব রাখায় পটু ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর ভাইয়ার থেকে টাকা নিতে হয় দেখে তখন হিসাব রাখতাম। আল্লাহর রহমতে আমি তৃতীয় সেমিষ্টার (আমাদের বছরে ৩টা সেমিষ্টার ছিলো) থেকেই বেশ ভালো ইনকাম শুরু করি এবং বাসা থেকে টাকা নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দেই। তখন থেকে আর হিসাব রাখা হয়নি।

বহু বছর গেছে, সালটা তখন ২০২২। একদিন আমাকে আামার ফ্যামিলির সবার সামনে পড়তে হয়। বিভিন্ন কথার ছলে আমাকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করে, বেতন তো তোর ভালোই, কিন্তু একটা টাকাও সেভিংস নাই কেন? প্রশ্নটা যতটা না বিব্রতকর, তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে, আমার কাছে আসলেই কোন উত্তর নাই! আমিও অবাক হয়ে ভাবতে শুরু করি, আসলেই তো, এত টাকা যায় কই?

ঐদিন আমি এক্সেল নিয়ে বসলাম, আমার প্রতিটি ব্যাংক, ক্যাশ, সেভিংস সব কিছু একজায়গায় একা্ট্টা করে হিসাব রাখা শুরু করলাম। হিসাব মানে সে পঁই পঁই করে হিসাব। ৪মাস এভাবে হিসাব করবার পর এনালাইসিস করলাম। প্রায় ৩২ হাজার রিয়াল এ চার মাসে খরচ করেছি, যার মধ্যে কিসে খরচ করেছি এমন মনে করতে পারি নাই মাত্র ২৭ রিয়ালের! বাকি পুরা টাকা কিসে, কেন, কিভাবে, কোন ব্যাংকের কার্ড বা ক্যাশ টাকা বা গিফট কার্ড বা কি করে পে করেছি সব সহ! প্রথম প্রথম হিসাব করেত বিরক্ত লাগতো। প্রতিদিনের শেষে ৮-১০ মিনিট লেগে যেতো।

৪মাস পরে আমি একটা রিপোর্ট মত বানিয়ে পরিবারের সবাইকে দেখালাম। হিসাব দেখে সবার চক্ষু চড়ক গাছ! এরপর থেকে সবাই আমার বিষয়ে নমনিয় হয়। আগে যেমন আমাকে একটা লুজার মনে করতো, সেটা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে সবাই।

আমিও অবশ্য ঐ হিসাব কষা থেকে বেশ কিছু বাড়তি খরচ, যেমন রেষ্টুরেন্টে খাওয়া, হাবিজাবি কেনাকাটা বন্ধ বা কমাতে পারি।

এখন অবশ্য একটা ধাতে চলে এসেছি, আগের মত আর পঁই পঁই করে হিসাব রাখি না; তবে আমি জানি কোথায় কত বেশী খরচ করে ফেলছি।

----------------

আমার স্ত্রী আমাকে প্রায়ই বলে, তুমি সহজে সবাইকে ক্ষমা করে আবার মিশে যেতে পারো; এটা যেমন ভালো, তেমন খারাপ! আমি সোলাইমান সুখনের বলা মত পঁই পঁই করে আসলে হিসাব রাখতে পারি না। আমাকে প্রচন্ড প্রয়োজনে হেল্প করেছে এমন দু-চারজন হাতে গোনা মানুষ আছে। তাদের আমি আকঁড়ে ধরে রাখি। তাদের বিপদে আমি সবার আগে দৌড়ে যাবার চেষ্টা করি। বাকিদের বিপদে সাধারণ সম্ভবের বাইরে খুব বেশি কিছু করার চেষ্টা করি না।

আমি বিশ্বাস করি মানুষের মন পরিবর্তন হয়। তাই অনেককেই একাধিকবার চান্স দেই। অধিকাংশই আমাকে ভুল প্রমান করে, বারে বারে!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×