
শনিবার সকালের সূর্যটা বোধহয় সেদিন একটু অন্যরকমভাবেই উঠেছিল বরিশালের উজিরপুরে। বামরাইল বাজারের এক কোণে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এক মানুষ। নাম অনিক সর্দার। দোষ-গুণ যাই থাকুক, মানুষটাকে সারারাত বেঁধে রাখা হয়েছিল সেখানে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চমৎকার এক মহোৎসব চলছে আমাদের চারিপাশে। বিচার দেশের আদালত করবে নাকি বাজারের মোড়ের মাতবররা করবে, সেই প্রশ্ন আজ আর কেউ করে না।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যটা দেখলাম যখন একটি ছোট মেয়ে দৌড়ে এল সেখানে। যার বাবা সারারাত না খেয়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা, সেই ছোট্ট বুকটা কতটা কেঁপেছিল কে জানে! মেয়েটি দোকান থেকে রুটি আর চা কিনে আনল। তারপর নিজের কচি হাতে বাবার মুখে তুলে দিল খাবার। আহা, কী নির্মম দৃশ্য! কোন অপরাধবোধ বা আইনের শাসন এই দৃশ্য মুছে দিতে পারবে? উপস্থিত মানুষেরা সেদিন তামাশা দেখছিল, আর এক অবুঝ শিশু তার বাবার কষ্ট দূর করছিল নিজ হাতে।
পরে অবশ্য স্থানীয়রা মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। আইনগত নিষ্পত্তি হোক, সেটাই তো চাই আমরা। কিন্তু ওই শিশুটির মনে যে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হলো, তার দায় কে নেবে? আমরা সমাজটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি ভাই? যেখানে একজন বাবার অসহায়ত্ব দেখতে হয় তার কলিজার টুকরো সন্তানকে, সেই সমাজকে কি সত্যিই সভ্য বলা চলে? নিজের বিবেকের কাছে এই প্রশ্নটাই আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


