
সকালের মিষ্টি রোদে কুয়াকাটার দিকে তাকালে মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজে হাতে কোনো নিখুঁত ক্যানভাস এঁকে রেখেছে। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর পাড়ের সবুজ বন মিলে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করে। এই মায়ার টানেই তো মানুষ ছুটে যায় সমুদ্রের কাছে। একটু শান্তির খোঁজে, একটু সমুদ্রের গর্জন শুনতে।
এবার কুয়াকাটায় গিয়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলাম। জোয়ারের পানি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে হাজার হাজার সাদা ঝিনুক। ভাটার টানে সেই ঝিনুকগুলো পুরো বালুচরে এমনভাবে বিছিয়ে থাকে, যেন কে যেন সাদা কার্পেট পেতে দিয়েছে। লাল কাঁকড়াদের ছোটাছুটি আর ঝিনুকের শৌখিন রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। মানুষ প্রকৃতির এই দান পরম যত্নে উপভোগ করছে। কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার আনমনে হেঁটে বেড়াচ্ছে সৈকতজুড়ে।
সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, এখন কুয়াকাটায় শুধু দেশি মানুষ নয়, বিদেশিরাও আসছেন। রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, নাইজেরিয়া কিংবা নেপালের মানুষ ঘুরছেন এখানকার মেঠোপথ ধরে। মিনি সুইজারল্যান্ড বা লেম্বুর বনে তাদের চোখে-মুখে যে বিস্ময় দেখি, তাতে মনটা ভরে যায়। আমাদের দেশের মাটি ও মানুষের সহজ সরল আতিথেয়তা তাদের মুগ্ধ করছে।
তবে ভয় একটাই। মানুষের অতিরিক্ত ভিড় আর অসচেতনতায় এই সুন্দর পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়। ঝিনুক ভাঙচুর করা বা সৈকতে ময়লা ফেলার মতো বোকামি আমরা যেন না করি। প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি আমাদের উপকূলের প্রাণের গল্প।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




