
চারপাশে কত কথাই তো ওড়ে। উন্নয়নের মহাসড়ক, মেগা প্রজেক্ট আর আধুনিকতার সোনালী গল্প শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। অথচ খাস বরিশাল শহরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানবন্দরটার দিকে তাকালে বুকটা কেমন যেন খালি হয়ে আসে।
প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করে নাকি বিমানবন্দরটা আধুনিক করা হলো। কাজের প্রায় শেষ পর্যায়। কিন্তু আজব এক কাণ্ড দেখুন! আধুনিক যত হচ্ছে, বিমান তত কমছে। সপ্তাহে তিন দিন চলা ফ্লাইট এখন নেমে এসেছে দুই দিনে। বাকি দিনগুলো ফাঁকা রানওয়ে শুধু হা করে তাকিয়ে থাকে। পদ্মাসেতু হয়েছে বলে কি মানুষের সময়ের দাম কমে গেছে? নাকি দক্ষিণাঞ্চলের কোনো রোগী বাঁচানোর তাগিদ নেই কারো?
বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। উনিও স্বীকার করলেন যে বিমানবন্দরটা শুধু ঢাকা যাতায়াত নয়, পটুয়াখালী ইপিজেড, পায়রা বন্দর আর কুয়াকাটার ট্যুরিজমের জন্য ভীষণ জরুরি। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা থেকে শুরু করে ৯০-এর দশকে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল, তা কি তবে বাজেট আর বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে মরতে বসেছে?
বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো শুধু লাভ-লস বোঝে, মানুষের জীবন বা দুর্ভোগ বোঝে না। কিন্তু রাষ্ট্র তো কেবল মুনাফা খোঁজার জায়গা নয়। মানুষের কল্যাণের কথাও তো ভাবতে হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ইমারত বানিয়ে যদি বিমানই না নামে, তবে সেই সাজানো অর্চনার মানে কী? ভাবলেই অদ্ভুত এক দীর্ঘশ্বাস বুক ঠেলে বেরিয়ে আসে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


