somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প আমার আর কণার ভালোবাসার ফসল

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি আর করব সময়ের বিরুদ্ধে কিছু করার মত ক্ষমতা কারো নাই । কি না ছিল ? টাকা,জজ,খ্যাতি,একটা সময় কিছুর অভাব ছিল না।
আজ জীবন খাতা শূণ্য ! সব খেয়ে নিল সর্বনাশা জুয়া ! শেষ সয়সম্বল ছিল বাবার দেয়া দাদার বাড়ি,সেটা হারাতে হল একটা ফাল্টু
মামলার ঝামেলায় পরে ।শহরের সব থেকে টপ বিজনেসম্যান ছিলাম,কয়েকটা রাইচ মেল ছিল,সাথে ছয়টি গার্মেন্স ছিল,আজ আর
কিছুই নেই ।

সেদিন সমুদ্র উপকূল এলাকাগুলোতে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত চলছিল ।ঢাকাও একদিকে যেমন তুমুল বৃষ্টি তেমন ধমকা হাওয়া বয়ে চলছিল। খেলা শেষ করে বাড়ি পথে ততক্ষণে বৃষ্টি কিছুটা থেমেছে,তবে কনে কনে বাতাস বয়ে চলছিল জরো হাওয়ার গতিতে।
মাঝ রাস্তায় যেতেই গাড়ির লাইটের কিছু আলো আর বিদুৎ চমকানির আলো দুইয়ের স্পর্স যেয়ে পড়ল রাস্তার এক পাশে,যেখানে
মনে হল আমাদের গাড়ি দেখে কেউ একজন হাত দিয়ে ইশারায় বলছিল গাড়ি থামাতে,গাড়ি আমার হলেও গাড়ির স্টাটিং ছিল
আমার ছোটবেলার বন্ধু রনক ।তাই সাথে সাথে গাড়ি থামানো হয়নি। রনক,কে গাড়ি থামানোর কথা বলতে বলতে গাড়ি দুই কিলোমিটার
অতিক্রম করে ফেলেছে। রনককে গাড়ি থামানোর কথা বলতে সে বললো বাদ দে এত রাতে কে না কে,কি ঝামেলা তাও আমরা
জানিনা,কি প্রয়োজন বল পরের ঝামেলা নিজেদের মাথায় নেয়ার ? তাছাড়া আজকাল যে হারে বিভিন্ন ধরনের ফাদ পেটে তারপর
নানান কৌশলে গাড়ি ছিনতাই থেকে শুরু করে নানান অপকর্ম করে বেরাচ্ছে অপরাধীরা।

আমি রনককে বললাম বন্ধু তুইও গাড়িতে আমিও গাড়িতে,আমরা দুজনের কেউই বলতে পারিনা ওখানে আসলে কি ঘটেছে !
প্লীজ রনক মানবতা বলেও একটা কথা আছে,তাছাড়া তুইতো জানিছ এই পৃথিবীতে একমাত্র তুই আমার কাছের মানুষ,
আপন বলে আমার আর কেও নেই ।বিয়ে করার পরে বছর পাঁচেক সংসার করার মাথায় কণা পেগনেট হওয়ার পর থেকে আজ প্রায় বিশ থেকে একুশ বছর হতে চলছে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই।

সামান্য একটু ভুলবুঝা বুঝির কারনে কণা সেইদিন আমার কাছ থেকে চলে যায়,তারপর তাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু তার কোনো সন্ধান আজও আমি পাইনি । বাদ দে এখন আর কণার কথা নয়,আগে গাড়ি পিছনে নে,একজন বিপদকামি লোক পরে আছে আগে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হবে ।ততক্ষণে সব মিলিয়ে আমরা প্রায় দশ কিলো পথ অতিক্রম করে ফেলেছি।

রনক গাড়ি ঘুরালো,ঠিক সেই জায়গায় এসে রনক গাড়ি থামাল রনক আর আমি দুজনেই তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে
রাস্তার পাশে পড়ে থাকা সেই মানুষটির কাছে গেলাম,বিশ বছর বয়স হবে ছেলেটির ,মাথা বেয়ে প্রচন্ত রক্ত ঝরছে
কোনো শব্দ বা লাড়াচরা নেই, বুকের কাছে কান নিতেই বুঝলাম ছেলেটি এখনো বেঁচে আছে ।দুজনে ধরে দ্রুত ছেলেটিকে গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালের উদ্ধেশে ছূটলাম,

হাসপাতাল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর হবে,হাসপাতালে পৌঁছানোর পরে ছেলেটিকে জরুরি বিভাগে নেয়া হল। ডাক্তার সাহেব আমাকে
আর রনককে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন।ছেলেটি আপনাদের কি হয় ? কেমন করে এরকম একটা দুর্ঘটনা ঘটল ? কে ছেলেটিকে মাথায়
আঘাত করেছে ? এটাতো পুলিশ মামলা । থানায় জানিয়েছেন ? আমি রনককে কথা না বলতে দিয়ে,আমি নিজেই ডাক্তার সাহেবকে
বললাম,আগে আপনি ছেলেটার জীবন বাঁচান তারপর ধীরে সুস্থে আমি আপনাকে সব বলছি । ডাক্তার আমার কোনো কথায় শুনতে
রাজি নন,এক পর্যায় ডাক্তার সাহেব থানায় ফোন দিলেন,দারোগা হামিদুল সাহেব আসলেন,এর মাঝে দারোগা সাহেব আসার আগেই
ডাক্তার সাহেবকে অনেক অনুরোধ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে রাজি করালাম ।

প্রায় এক ঘন্টা পর ছেলেটির জ্ঞান ফিরলো,তাকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতে ছেলেটি বললো এই দুনিয়াতে তার আপন কেউ নেই,
সে অনেক ছোট থাকতেই তার মা মারা গেছে,আর বাবার কথা তার জানা নেই। সে মানুষ হয়েছে একটা এতিমখানায়।অনেকক্ষন
কথা বলতে বলতে হঠাৎ নজর যেয়ে পরলো ছেলেটার গলায় থাকা চেইনের ছোট রকেটে।ঠিক এরকম একটা চেইন আর সেই চেইনে এরকম একটা রকেট ছিল সেই রকেটে আমার আর কণার ছবি ছিল।ছেলেটার গলার রকেটটি আমাকে টেণে নিয়ে যায় আজ থেকে বেশ
কয়েক বছর আগে,সেদিন আমার আর কণার বিবাহবার্ষিকী ছিল আর সে উপলক্ষে আমি কনাকে এরকম একটা রকেটওআলা চেইন
উপহার দিয়েছিলাম ।

ছেলেটার কাছ থেকে আমি তার গলায় থাকা চেইনটা চেয়ে নিলাম।ছেলেটা গলা থেকে চেইনটা আমার হাতে দিল।আমি চেইনে
থাকা রকেটটি খুলে দেখতেই আমার দুইচোখ অশ্রু ভিজে উঠলো।ছেলেটা আর কেউ নয় আমার আর কণার ভালোবাসার ফসল।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×