গল্প
বেত
-আমিনুল ইসলাম মামুন
শরীফদের শ্রেণী শিক্ষক আমির আলী সাহেব খুবই রাগী একজন মানুষ। গায়ের রংটা তার ধবধবে ফর্সা। রাগলে তার দু’টো গাল আপেলের মতো লাল হয়ে যায়। প্রতিদিনই তিনি ক্লাসে ঢুকে বেত দিয়ে টেবিলের ওপর ‘কষ’ ‘কষ’ করে কয়েকটা আঘাত করেন। তার ওপর লালচে চোখের শাসানো ভাষাতো আছেই। তার হম্বি-তম্বিতে ছাত্র-ছাত্রীরা যতটুকু পড়া মুখস্ত করে আসে, তাও যেন ভুলে যায়। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তারপর চড়া গলায় বললেন, `যারা পড়া মুখস্ত করে আসোনি তারা সবাই একদিকে এসে দাঁড়াও। আগে এদেরকে ধোলাই করে নিই।’
শ্রেণী কক্ষের ভেতরে যেন যথারীতি ভূমিকম্প হচ্ছে। যারা পড়া মুখস্ত করে আসেনি তারা সবাই বেঞ্চ থেকে উঠে এসে শিক্ষকের টেবিলের ডানপাশে দাঁড়াতে লাগলো। দাঁড়ানো শেষ হলে আমির আলী সাহেব এক এক করে গুনতে লাগলেন, এক... দুই... তিন...। এভাবে সতেরো পর্যন্ত। আমির আলী সাহেব মনে মনে ভাবলেন, এতোগুলোকে পেটাতে গেলে তো আমি নিজেই হয়রান হয়ে যাবো। তার চেয়ে ভালো ওদের একজনকে দিয়ে আরেকজনকে পেটানো যাক।
যেই ভাবা, সেই কাজ। হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, ‘বাহ্ বাহ্ ..., এ তো দেখি পড়া না শেখাদের মিছিল হয়ে গেলো। সবুজ, তুমিতো পড়া শিখোছো। যাও, অফিস কক্ষ থেকে মোটা দেখে দশটা বেত নিয়ে আসও।’
সবুজ জানে বিলম্ব হলে এ কারণে তার ওপর খড়গ নেমে আসতে পারে। তাই দ্রুত পায়ে গিয়ে বেত নিয়ে এলো। ভীত কণ্ঠে বলল, ‘স্যার চিকন-মোটা মিলিয়ে নয়টা পেয়েছি।’
বেশ ভারী কণ্ঠে আমির আলী সাহেব বললেন, ‘চলবে।’
একটা বেত নিজ হাতে নিয়ে বললেন, ‘আটজন এখান থেকে আটটা বেত নিয়ে চারটা গ্রুপ করো। বাকিদের পালা পরে।’
অত্যন্ত ভীত ও ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে এক এক করে আটজন টেবিলের ওপর থেকে আটটি বেত নিয়ে চারটি গ্রুপে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ালো। তারপর বললেন, ‘এবার শুরু করো। যে খাতির করবে, তার জন্য আমি আছি।’
একজন সহপাঠি আরেকজন সহপাঠির গায়ে আঘাত করছে। এ যেন মূল আঘাতের চাইতে তিন-চারগুণ বেশি জোরে শরীরে বিধছে। রুমের ভেতরে শুধুই বেতের আঘাতের ‘কষ’ ‘কষ’ শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে পড়া মুখস্ত করাদের মধ্য থেকে একে একে আরও দু’জন পড়া মুখস্ত না করাদের সারিতে এসে হাজির হলো। তারা বাড়ি থেকে পড়া শিখে এসেছিল। কিন্তু এই অবস্থা দেখে ভয়ে সব পড়া খেয়ে ফেলেছে। আর একজন পেছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে স্কুলের বারান্দায় পড়ে যায়। কিন্তু আবার উঠে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
এমন সময় টেবিলের ওপর রাখা আমির আলী সাহেবের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। বিরক্তির সাথে ফোনটির দিকে তাকিয়ে ‘এই জিনিসটা যে আবিস্কার করেছে, তাকে কাছে পেলে ইচ্ছেমতো বেত দিয়ে কষে পেটাতাম’ বলে কলটা রিসিভ করতে করতে বারান্দার দিকে গেলেন। এই সুযোগে ছাত্ররা ‘খাতির পর্ব’ সারতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করলো না।
একটু পরই দেখা গেল আমির আলী সাহেবের অন্য হাতে থাকা বেতটি মাটিতে পড়ে গেল। চোখ দু’টি টলটল করে উঠলো পানিতে। ক্ষণিকের মধ্যেই আমির আলী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন স্কুলের বারান্দায়। অন্য শিক্ষক ও ছাত্ররা এসে তাকে ধরাধরি করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলেন স্কুল সংলগ্ন একটি ডাক্তার খানায়।
পরে জানা গেলো আমির আলী সাহেবের একমাত্র ছেলে যে স্কুলে পড়তো সে স্কুলের একজন বদমেজাজী শিক্ষকের হাতে অতিরিক্ত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অসতর্ক ও মাত্রাতিরিক্ত বেত্রাঘাতে জ্ঞান হারিয়েছিল। আধাঘণ্টা পর নিশ্চিত হওয়া গেলো যে, সে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
E-mail : [email protected]
=====0=====
আলোচিত ব্লগ
প্রিয় কন্যা আমার- ৯১
প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ ও আগামী
অন্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করো না, মানুষ !
অন্যের হাতের শিল্প হয়ো না।
অন্যের চোখে বিশ্ব দেখ না,
অন্যের সুর-নৃত্যে আর দুলো না।
নিজেকে খুঁজে নাও তুমি!
বুঝে নাও নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বিশ্ব এবং এর মাঝেই আমাদেরকে একটু আনন্দ নিশ্চিত করতে হবে



ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ অতিক্রম করছে। যুদ্ধের তীব্রতা না কমে বরং পারস্পরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট
ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !

বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।