কুদ্দুস ভাইয়ের ঈদ
০৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের গ্রামে কিনু দর্জি ছিলেন। ঈদ মৌসুম আসলে তিনি বেজায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। পাঞ্জাবির হাতা এবং পাজামার পা কোথায় লাগাতেন খেয়াল থাকতো না। তিনি ছিলেন রসিক প্রকৃতির মানুষ। এই গল্পটি আমার জন্মেরও আগে, তবে প্রয়াত আব্দুল কুদ্দুস ভাইয়ের মুখেই শুনেছি। কুদ্দুস ভাইয়ের বাড়ির পাশেই কিনু দর্জির বাড়ি। বলা যায় দু’পা ফেললেই দর্জি বাড়ি। কুদ্দুস ভাইয়ের বয়স নাকি তখন ৮/১০ বছর। তখন তো গ্রামে বেশ অভাব। ফলে বছরে ওই একবারই পা জামা আর পাঞ্জবি তৈরী হতো। অনেকে তো বিয়ে করার জন্য চেয়ে চিন্তে পাঞ্জাবি, টুপি ও জুতা হাওলাদ করতেন, যা আমার বয়সেই দেখেছি। যাই হোক ঈদের দিন সাত সকালে শিশু আব্দুল কুদ্দুস ভাই দর্জি বাড়ি হাজির। মানুষের ভিড় সামাল দিয়ে দর্জির হাতের নাগালে যাওয়া শিশু কুদ্দুস ভাইয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। এদিকে ঈদের জামায়াতের তোড়জোড় চলছে। কুদ্দুস ভাই দর্জি বাড়ির হাটনেই (বারান্দা) বসে আছেন। এমন সময় কিনু দর্জির মনোযোগ হলো তার দিকে। গলা খেকিয়ে বলে উঠলেন “এই তুই কুদ্দুস না” ? কুদ্দুস ভাই মাথা নাড়িয়ে সায় দিলেন। দর্জি কাপড়গুলো দুমড়ে মুচড়ে কুদ্দুস ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই নে যা বাড়ি যা। তখন তো আর গ্রামে কাপড় ইস্ত্রি করার ব্যবস্থা ছিল না। কুদ্দুস ভাই কাপড়গুলো মেলে ধরে কেমন যেন অসঙ্গতি পেলেন। শিশু কুদ্দুসের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে কিনু দর্জি নিজেই পা জামা আর পাঞ্জবি পরিয়ে দিলেন। হায়! একি? পা জামার পা পাঞ্জবির হাতায় আর পাঞ্জবির হাতা পা জামার পায়ে লাগানো ! নতুন জামার গন্ধ শিশু কুদ্দুস ভাইকে আহলাদিত করলেও তার চোখে পানি। কি ভাবে এই পা জামা আর পাঞ্জবি পরে ঈদগাহে যাবেন ? কিনু দর্জির নিজের ভুল স্বীকার তো করলোই না বরং কুদ্দুস ভাইকে কোলে বসিয়ে বললেন, “এই পা জামা আর পাঞ্জবি পরে তুমি যখন ঈদগাহে যাবা, তখন তোমার বন্ধুরা এই অতিরিক্ত সাইজ দেখে বলবেন ওই দ্যাখ কুদ্দুস আসছে”। ঈদের জামায়াতের আর দেরি নেই। অগত্যা কুদ্দুস ভাই পা জামার পা পাঞ্জবির হাতায়, আর পাঞ্জবির হাতা পা জামার পায়ে লাগানো নতুন কাপড় নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।...
...বাকিটুকু পড়ুন
আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার...
...বাকিটুকু পড়ুন
(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।...
...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশে একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট-এর বিরুদ্ধে যখন জুলাই-আগস্ট মাসে তথাকথিত “মুভমেন্ট” চলতেছিল, তখন এটাকে অনেকে খুব ইনোসেন্টভাবে “পিপলস আপরাইজিং” বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নটা খুবই সিম্পল—এইটা কি আসলেই স্পনটেনিয়াস...
...বাকিটুকু পড়ুন