
এলাকার কয়েক জন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীর সাথে আলাপ হলো, খেলনা ব্যবসায়ী, লাইব্রেরী, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিক্সের দোকান। প্রতিটি দোকানের স্বাভাবিক সময়ে রোজ আয় ছিলো ৮/ ১০ হাজার টাকা। দোকানের ভাড়া ১৫/২০ হাজার টাকার মতো, অ্যাডভান্স করা আছে, ১/২ লাখ টাকার মতো। করোনার কারণে প্রতিটি দোকান এখন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত খোলা থাকে। কিন্তু এতে করে সারাদিনে ১০০০/১৫০০টাকাও বেচাকেনা হয় না। এভাবে মাসে যদি, ৫০ হাজার টাকার কেনাবেচা হয়, এবং সেখানে যদি ২০% ও মার্জিন থাকে, তাহলে লাভ হবে ১০ হাজার টাকা।
এই টাকা দিয়ে দোকানের ভাড়া কিভাবে উঠবে, স্টাফ বেতন কিভাবে দিবে, ইউটিলিটি বিলই বা কোথা থেকে কিভাবে দিবে? এভাবে দোকান খোলা রাখাটা ক্যান্সারের মতো হচ্ছে, এতে করে, আস্তে আস্তে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নিঃশেষ হয়ে যাবেন। মাসে যদি ৩০/৫০ হাজার টাকা ফিক্সড খরচ থাকে (ভাড়া, ইউটিলিট এবং স্টাফ মিলিয়ে) আর ১০ হাজার টাকা যদি মুনাফা আসে, তার মানে, আপনাকে মাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা লস গুনতে হবে, এভাবে সামনের ৫/৭ মাসে আপনি আরও লাখ খানেক টাকা হারাবেন এবং ক্রমেই দেউলিয়া হয়ে যাবেন। ভ্যাক্সিন না আসা পর্যন্ত কিছুতেই অবস্থা স্বাভাবিক হবে না। উদ্ভুত এই সিচুয়েশন আরও এক/দেড় বছর চলে , এমন সময় এই ফিক্সড খরচ বহন করা কেবল মাত্র যাদের অঢেল টাকা আছে, তাদের পক্ষেই সম্ভব। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যে আমার ১০টি পরামর্শঃ
১। অনতি বিলম্বে সকল ফিক্সড কস্ট কমিয়ে আনতে হবে বা বন্ধ করে দিতে হবে।
২। ফেসবুকে পেজ খুলে ঘরে বসে বেচা বিক্রি করা। দিনে ২ হাজার টাকার বিক্রি সেখান থেকেও হবে।
৩। স্পেসের ভাড়া কমিয়ে আনার ব্যাপারে দোকানের মালিকের সাথে নেগোশিয়েট করা। দোকানের মালিক হার্টের পেশেন্ট হলে, দোকান ছেড়ে দিন।
৪। একটি টাকাও পকেট থেকে বের করার আগে ১০ বার ভাবুন। দরকার পড়লে প্যান্টের পকেট সেলাই করে নিন, যাতে, টাকা বের করার সময় সেলাই কাটার ভয়ে চাহিদা মিটে যায়। অথবা এমন প্যান্ট পরবেন, যেটায় পকেটই নাই।
৫। কর্মী বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত সামলে রাখুন, যেটুক বেচা বিক্রি হয়, কিছু ভাগ করে দিন।
৬। কর্মী বাহিনী দিয়ে হোম ডেলিভারি করান, ই- কমার্স সাইটে যুক্ত হন।
৭। যে কোন প্রোডাক্ট বাল্কে কেনা এড়িয়ে চলুন, ইনভেন্টরি কমিয়ে আনুন।
৮। শো-রুমে এসি বন্ধ রাখুন, শুধুমাত্র কাস্টমার আসলেই লাইট জ্বালান।
৯। দোকানে বাইরের খাওয়া বন্ধ করে দিন, বাসা থেকে ডাল ভাত, সবজি নিয়ে যান।
১০। দোকানে আসা প্রতিটি কাস্টমারকে পরবর্তী কেনাবেচার জন্যে নম্বর দিন, ফেসবুক পেজে অ্যাড করুন। এভাবে দোকান চালানোর চেয়ে বন্ধ করে বাড়ি বসে থাকা ভালো। এতে করে, যেটুকু সারভাইভ করা যায়। তা এরকম দোকান চালু করে ধীরে ধীরে দেউলিয়া হওয়ার চেয়ে উত্তম হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



