ঘটনা ১
রামপুরায় ১০শিশু উদ্ধার ও চার মানব পাচারকারী গ্রেফতার
গত ১২ই সেপ্টেম্বর রামপুরা থেকে ১০ শিশুকে নাকি উদ্ধার করেছে পুলিশ! আমরা বরাবরই কোন খাচা থেকে বের হলেই একটি হাসি দিয়ে উপর ওয়ালার শুকরিয়া আডায় করি, কিন্তু সেই ১০ শিশুর কে শুকরিয়ে আদায় করে তা আমার জানা নেই। সেই ঘটনায় আটক করা হয়েছে আরিফ,জাকিয়া,হাসিব ও শুভ গ্রেফতার দেখায়। অতি উৎসাহী পুলিশ তাদের মানব পাচারকারী হিসাবে তাদের 'ডিএমপি' পেজ থেকে একটি পোস্টও দেয়, যেখানে অনেক মানুষের ক্ষোভ লক্ষনীয় ছিল।
আদালতের কাজ কোন বিচারকে নিরপেক্ষ ভাবে দেখা, কিন্তু আদালত তাদের সম্পুর্ণ কথা না শুনেই পুলিশের হাতে দুই দিনের রিমান্ডে তুলে দেয়। ফলাফল রিমান্ডের নামে নির্যাতন, যদিও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু মানব পাচারের আড়ালে সেই মানুষগুলো আসলেই কী করত তা এখন সবাই জানে, কিন্তু তারপরও গত দুই শুনানিতেও জামিন পায়নি তাদের কেউ।
আমি জানি তারা একদিন জামিন পাবে, মামলার রায়ও তারাই পাবে কিন্তু জীবন? সেটা আবারও স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা কে দেবে, পথশিশুদের ঈদতো পরের কথা এবার সেই মানুষগুলোর ঈদ কেমন যাবে, তাদের পরিবারগুলোর ঈদ?
আটক জাকিয়ার জময বোন জেরিন, সেও পথশিশুদের জন্য কাজ করত। হয়তো দুই বোন একসাথে থাকলে ঈদের আগের রাতে মেহেদি মাখত, শিশুদের হাতে ফুল তুলত, কিন্তু এবার জেরিন একা কী করবে?
ঘটনা ২
প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলি, নিহত ৩
দেশ নাকি অনেক উন্নত হয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কিন্তু এখনো কিছু মাতব্বর রয়ে গেছে, রয়ে গেছে আমাদের মতো কিছু গরু যারা শুধু মাথা নিচু করে ঘাসই খেতে পারে। ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন যেন মানুষরূপী জানোয়ারদেরই প্রকাশ করে। সেই ঘটনায় মানুষ যখন রাজপথে তখন সেই মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষন কিসের উদাহারণ হতে পারে তা আমার জানা নেই। কোন সভ্য দেশে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে?
ঘটনার পর কিছু পুলিশের ব্যারাকে ফিরে যাওয়াই কী শেষ? যে তিনজন মারা গেল, ৩০জন আহত হয়েছে তাদের কী? তারাও তো মানুষ, পুলিশ নামী হায়নাদের পা চাটার জন্য যে জীবন গুলো গেল তার কে ফিরিয়ে দিবে?
এমন ঘটনায় তাদের নামেও হত্যা মামলা হওয়া দরকার, বিচারের মুখোমুখি হওয়া দরকার। তা না হলে তারা যখন যেভাবে ইচ্ছে আমাদের পিশে যাবে আর বিচারের নামে বদলি হবে।
ঘটনা ৩
মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া আমাদের দেশে একটি নিত্য ঘটনা। পিএসসির প্রশ্ন থেকে শুরু করা শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন, এমন কিছু নেই যা ফাঁস হয় না। কিন্তু আমাদের কাছে টিনের চশমা নামক একটি জিনিস আছে চা চোখে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দিব্যি ভালো আছে। আজ যে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কিছু অতি মেধাবীদের চিকিৎষক বানানোর স্বীদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তারা কী আসলেই আগামীতে মানব সেবার যোগ্য হবে?
যারা এখনই টাকা দিয়ে কাজ করছে, তারা আগামীতে টাকার জন্য কারো কিডনি বেচে দিবে না এমন ভাবার দরকার নেই। যারা টাকা নিয়েছে তারাতো বুক ব্যাথা হলেই সিঙ্গাপুর যাবে কিন্তু আমরা?
***
জানি এই প্রশ্ন গুলোর কোন উত্তর হবে না, কিন্তু আমি আজও পুরোপুরি জানোয়ার হতে পারিনি। তাই যেটুকু মনুষ্যত্ব আছে, তা মাঝে মাঝে আমায় ভাবিয়ে তুলে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


