১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল যে পবিত্র সংবিধান নির্মানে, সেই সংবিধানে যখন পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হল। তখন আপনারা উচ্চ আদালত কিংবা আন্তর্জাতিক আদালতে রিট না করে কয়েকদিন হরতাল দিয়ে নাকে তেল ঢেলে ঘুমাচ্ছিলেন। সাজঘরে মেকআপ নিচ্ছিলেন।
সুতরাং আজকের প্রতিটা পেট্রোলবোমার দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে। বার্ণ ইউনিটের ঐ আহাজারী আপনাদের কাঁধেই বর্তাবে।
৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে এক সম্মেলন থেকে যখন ঘোষণা দিলেন যে, আগামী ৪৮ ঘন্টার মাঝে যদি সংলাপের কোন ডাক না আসে, তবে ৭২ ঘন্টার হরতাল। কিন্তু ৩০ ঘন্টা পরে যখন ফোনের মাধ্যমে সংলাপের ডাক আসল আপনাদের কাছে। তখন শুধু ঐ একটি গুজরাটি শব্দ 'হরতাল' বলে উড়িয়ে দিলেন সংলাপের সম্ভাবনার সকল দুয়ার।
সুতরাং মুর্খতার দন্ড হিশেবে নির্বাচনে যেতে হলে আরো ৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর তখন নির্বাচন হলে ক্ষমতায় যেতে পারবেন কিনা সেটা সময় বলে দিবে।
যখন আপনার ছেলে মারা গেলো, তখন গাড়ী নিয়ে আপনার বাসার গেইট থেকে ফিরে আসতে হল।আর আপনি ইনজেকশনের স্বপ্নে বিভোর। তখন প্রশ্ন উঠে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে।
সুতরাং আপনি একজন জেনারেল এর স্ত্রী হলেও আপনার চারপাশের লোকজন নিয়ে জাতি সন্দিহান।
আর আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে, যদিও আপনার একাধিক জন্মতারিখ পাওয়া যায় এবং আপনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বলে বিবেচিত। এস এস সি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কিংবা সাধারণ দেশবাসীর খানিকটা ভালোবাসা অর্জনের জন্য হলেও পরীক্ষার মাঝে হরতাল দিবেন না। বরং শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়ে বলবেন যে, এর মাঝে সংলাপ না হলে টানা হরতাল হবে। সংলাপ না হলেও টিভি টকশোতে আপনাদের সূনাম আসত।
কিন্তু এখন পরীক্ষা হচ্ছে, গাড়ী চলছে,দোকান খোলা হচ্ছে। সবকিছু হচ্ছে। এভাবেই সবকিছু হবে। মানুষের মনে এখন খানিকটা আতঙ্ক আছে। এটা এক সময় গণধোলাইয়ের মুখে কেটে যাবে। কিন্তু "সত্য একবার বলতে হয়; সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়; মিথ্যা বারবার বললে সত্য ব’লে মনে হয়।" -হুমায়ন আজাদ স্যার।
ঠিক তেমনি হরতাল কম দিতে হয়। বার বার দিলে এর উদ্দেশ্য উলটো দিকে যায়। আপনার ক্ষেত্রেও একই হবে। ঠিক যেমন থুথু উপড়ে ছুঁড়লে তা নিজের মাথায় পরবে। সাথে সাথে এদেশের সাধারণ জনগণ এক সময় এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের মুখে থুথু দিবে।
সুতরাং স্বাধীনতার ৪৪ বছরে পা দিয়েও আপনি যখন সেই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান, আপনি যখন ইসলামী জঙ্গী সংগঠন শিবিরের মাথায় লবণ রেখে বড়ই খেতে চান। তখন এদেশের দেশপ্রেমিকেরা বসে থাকবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত থেমে থাকবে না। আপনার ঠিকানা যেন পাকিস্তান না হয়, সেটা মাথায় রেখে আর তালেবান কায়দায় কোন হরতাল দিয়ে বাংলার খেটে খাওয়া নিরীহ মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে হত্যা করবেন না। বীরের জাতি বাঙ্গালীরা অস্ত্র জমা দিয়েছে কিন্তু কৌশল ভুলেনি।
সারা বিশ্ব যখন শিক্ষা,দীক্ষা ও প্রযুক্তি দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে ত্বরান্বিত করছে। আর আপনি সেখানে ৬৫ ভাগ শিক্ষার হার যে দেশে সেখানে ৫ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে থমকে দিয়েছেন। আপনি নিজে যে মানের বার বার ঐ একই মানের পরিচয় দিয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
পিপীলিকার পাখা গজায় নাকি মরিবার তলে। আপনাদের অবস্থা কি এদিকে যাচ্ছে? কিন্তু দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধীদল হিশেবে বাংলার মানুষ সেই জিয়াউর রহমান যিনি স্বাধীন দেশে রাজাকারদের আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যিনি খাল কেটে অমর হয়ে আছেন। তার সংগঠনের উত্তরসূরি হিশেবে আপনাদেরই চায়। কারন, এদেশের অধিকাংশ মানুষের বুকের জমিনে আজও একটি করে আফগানিস্তান, একটি করে কাবুল বসবাস করে।
ইতি
একজন সাধারণ নাগরিক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



