আমার জীবনের সত্য ঘটনাঃ
.
ছোটবেলায় আমার কথা জড়িয়ে জড়িয়ে যেত। মানুষের সাথে ভালো মতো কথা বলতে পারতাম না। গুছিয়ে কথা বলা তো দূরের কথা। আশেপাশের মানুষ, প্রতিবেশীরা আমাকে প্রতিবন্ধী বলতো। ( এখনো অনেকে বলে)
আমাদের এলাকার এক বড় ভাই, আমরা তাকে ডাকি ইকবাল পটু। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির
একজন বেঁটে মানুষ তিনি। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় কথা বলেন বলে কেউ তাকে বেঁটে বলে না। বলে ইকবাল "পটু"। তিনি মানুষকে নানান রকম উদ্ভট উদ্ভট নাম দিতেন এবং উদ্ভট নামগুলো সমাজের লোকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেন। ( ভীষণ অপমানজনক ব্যাপার।)
আমি কথা বলতে গেলেই,আমার কথা জড়িয়ে যাওয়ায় ইকবাল ভাই আমার নাম দিয়েছিলেন " ল্যাবা"। (নামটা যে যথার্থ ছিল এই কথাটা বলতেই হবে।)
কথা জড়িয়ে যাওয়ার এই সমস্যাটা মেট্রিক পরীক্ষা পর্যন্ত ছিল। তারপর আচমকা সমস্যাটা ঠিক হয়ে যায়।
কথা জড়িয়ে যাওয়ার এই সমস্যার কারণে আমি মানুষের সাথে ঠিক মতো কথা বলতে পারতাম না। উল্টাপাল্টা বকবক করতাম। ইংরেজিতে যাকে বলে "ব্ল্যাবারিং"। মানুষ বিরক্ত হয়ে আমার কাছে ঘেষতে চাইত না।
মানুষের সাথে এক পর্যায়ে যোগাযোগ ভীষণ ভাবে কমে গেল। মানুষের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দিলাম।
তবে কথা জড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা কিন্তু সব সময় হত না। এই সমস্যাটা হত বিশেষ করে মুরুব্বী টাইপের মানুষ এবং মেয়েদের সাথে কথা বলার সময়। খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় এই সমস্যাটা হত না। পরে, চিন্তা করে দেখেছি যে, এমনটা ঘটেছে স্রেফ আত্মবিশ্বাসের অভাব এর কারণে।
( দ্য কিংস স্পিচ মুভিটা দেখলে আমার কথা বুঝতে পারবেন।)
তখন মুরুব্বী টাইপ মানুষ আর মেয়েদের সামনে গেলে আমি ভয়াবহ রকমের হীনমন্যতায় ভুগতাম (এখনো ভুগি)। সেই কারণে মেয়েদের আমি তখন থেকেই এড়িয়ে চলা শুরু করি। এবং এটা আমার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়।
ছোটবেলার পনেরোটা বছর আমি বলতে গেলে যোগাযোগ বিহীন অবস্থায় বড় হয়েছি। মানুষের সাথে যোগাযোগ করার অভ্যাস না থাকায় আমার ভাষার উপর দক্ষতা কমে গিয়েছিল। প্রচুর সংখ্যক মানুষের মাঝে থাকলেও নিজেকে তখন একলা একলা লাগতো। (এই ব্যাপারটা এখনো আছে।)
পরে আমি ইংরেজি শিখতে শুরু করি। ইংরেজি ভাষা শেখার ফলে বাংলা ভাষাতেও যোগাযোগ দক্ষতা চলে আসে। এখন আমার যোগাযোগ ক্ষমতা ছোটবেলার থেকে কিছুটা ভালো।
যদিও, নট আপ টু দ্য মার্ক। তবে, ডেফিনিটলি, আগের তুলনায় অনেক ভালো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


