শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা- বিষয়টা খুবই কদর্য।
ওরা হয়তো ভাবছে, ২০২৪ এর মতো তারাও বীরপুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ২৪ শে একটা বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। সর্বস্তরের জনগণ সেটা গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু বর্তমানে যারা কথায় কথায় ২৪ ফিরিয়ে আনার হুমকি দিচ্ছে তাদের জন্যই ২৪ ধীরে ধীরে অগুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে। সব চাইতে বড়ো সত্য, ঘোষণা দিয়ে কিম্বা পরিকল্পনা করে শহীদ আবু সাঈদ-ওয়াসীম-মুগ্ধ হওয়া যায় না। কাজেই এখন দরকার এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা। ২৪শে অভিভাবকরা মাঠে নেমেছিল শিক্ষার্থীদের কে সহযোগিতা করতে, এবার অভিভাবকরা মাঠে নামুক এদের এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাতে।
প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা যদি অশালীনতা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ঘৃণায় পরিণত হয়, তাহলে সেই আন্দোলনের নৈতিক শক্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কিছু কর্মসূচিতে যে ধরনের অশোভন ভাষা ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেখা যাচ্ছে, তা কোনো সভ্য রাজনৈতিক বা ছাত্রসংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মতের অমিল থাকতে পারে, নীতির সমালোচনা হতে পারে- কিন্তু শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে তা জনসমর্থনের পরিবর্তে জনবিরক্তিই সৃষ্টি করে।
যদি কোনো শিক্ষার্থীর ন্যায্য দাবি থাকে, তাহলে তা যুক্তি, তথ্য এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আন্দোলনের আড়ালে উসকানি, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের পরিচয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একটি আন্দোলনের শক্তি তার স্লোগানের উচ্চতায় নয়, তার যুক্তির দৃঢ়তায়। অশালীন ভাষা কখনো যুক্তির বিকল্প হতে পারে না।
আসুন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখি, কিন্তু শালীনতা, দায়িত্ববোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাও সমানভাবে রক্ষা করি।




অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

