somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুবা

১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে । এমনই একদিন আব্বা আমাকে নিয়ে ঢাকা চলে এলেন । উঠলেন দূর সম্পর্কিয় এক মামার বাসায় । ভদ্রলোক জজ কোর্টের উকিল । আবু ইসাহাক । খুব ছোট বেলায় তাকে একবার দেখেছিলাম । মোটেও সুবিধার কেউ না । আমাকে কোলে নিয়ে বেশ কিছু আদ্ভুত আচরণ করেছে । তখন আমার বয়স কম হলেও মেয়ে হওয়ার দায়ে তাদের ইন্দ্রিয় ঠিকি বুঝিয়ে দেয় কার কি মতলব । চেহারা ঝাপসা হলেও তার আচরণ আমাকে সজাগ করে তোলে ।

তাদের বসার ঘরটা বেশি বড় না । কিন্তু গোছানো । বেতের চেয়ারে সুন্দর হাতের কাজ করা কুশন কাভার দিয়ে ঢাকা । আব্বা একটা চেয়ার জুড়ে বসে বেশ হে হে করে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে । সে যে এক কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা তা বোঝাতে কোন রকম ছাড় দিচ্ছে না। অথচ তখন আমার বয়স ছিলো মাত্র দশ বছর । একটা পোটলা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছি । মনে মনে বলছি এই বাসায় আমাই কোন ভাবেই থাকবো না । আল্লাহ , আমাকে রক্ষ করো।

আবু ইসাহাক লোকটা তার মার্বেলের মতো চোখ দিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিলো । মনে হলো কোন হায়না তার শিকার মেপে দেখছে । লোকটার চোখে মুখে একটা চাপা উল্লাস । মুখ টিপে টিপে হাসছে । আব্বা বিনয়ে মোটামুটি তার পায়ের উপর ঝুকে পরে যাচ্ছে । ভাইজান , মেয়ে আমার খুবি লক্ষি , খুব কম খায় । সাত চড়ে রা করে না । যা বলবেন তাই করে দেবে। ভাবীজানের তো একজন সেবার লোক লাগবে , এই যে আমার মেয়ে। রুপে যেমন তেমনি গুন। সেইবার আমার কলেরা হলো । আমি ভাবলাম আমার কেল্লা ফতে । কিন্তু এই মেয়ে জান দিয়া আমার সেবা কইরা বাচাই তুলছে । একটা হিরা মেয়া । ভাগ্যের দোষে আপনার এখানে রেখে যাচ্ছি ।

আমি মনে মনে হাসি। আমার গায়ের রঙ ঘোর কালো । কুলসুম, আমার বান্ধুবী, ও আমারে ডাকে অমাবইষ্যা। মাঝে মাঝে দুষ্টু কথাও কয় । আমার বিয়া হইলে নাকি আমার জামাই আমারে বাসর রাইতে হারিকেন না জ্বালাইয়া খুইজাই পাবে না । কি একটা শরমের কথা । আর গুন, আমি ভাত ছাড়া আল্লার দুনিয়ায় কিচ্ছু রানতে পারি না । খাই কম কথাটা ভুল । পাই কম তাই খাই না । যদি মওকা মতো পাই আধসের ভাত শুধু লবন আর পোড়া মরিচ দিয়া সাবার করে দিতে পারি ।

আবু ইসাহাক লোকটা আমাকে ইশারায় তার কাছে ডাকলো। চেহারার হায়নার ভাব টা যেন আরো বেশি ফুটে উঠলো । আহা, এত্তো বড় একটা পোটলা হাতে নিয়া দাঁড়িয়ে আছো কেনো । আসো আমার পাশেই বসো । সবরি কলার মতো আঙ্গুল ওয়ালা মোটা হাত দিয়ে আমাকে তার পাশে বসতে ইশারা করলো ।

না, না, মেয়ে আমার অনেক ধৈর্যশিল । ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে কোন কষ্ট হয়ে না । আব্বা ভাতের মার গালানোর গলায় কচি মুরগীর আলুর ঝোল যেন ঢেলে দিলো ।

আরে কি বলেন দুলাভাই, বাচ্চা মেয়ে । আসো মা। আমার পাশে বসো। সেই ছোট বেলায় একবার তোমাকে দেখেছি । কতো বড় হয়ে গেছো । আমি শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে থাকি । কোনভাবেই এই লোকের আশেপাহে যাওয়া যাবে না । আবু ইসাহাক উঠে এসে আমাকে প্রায় কোলে তুলে নিয়ে তার পাশে বসালেন । লোকটার গায়ে কেমন টকটক একটা গন্ধ । বমি করতে করতে ঢোক গিলে সামলে নিলাম ।

শোনেন দুলাভাই। আপনি মোটেও চিন্তা করবেন না । এই মেয়ে এখন আমার মেয়ে । সে তার মামীর সাথে থাকবে ।তার পড়াশুনা বিয়া-শাদি আমার দায়ীত্ব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন ।

আব্বা যেন হাতে চান সুরুজ তারা সব একসাথে পেয়ে গেলো । বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পরলো । আলহামদুলিল্লাহ্‌, তাইলে তো ভাইজান শান্তি পাইলাম । মা, মরা মাইয়ডা নিয়া ব্যাপক চিন্তায় আছিলাম । আপনি চিন্তামুক্ত করলেন ।

আমি জানি আব্বা আমাকে কেন এখানে রেখে যাচ্ছে । আব্বা আবার বিয়া করবে । আমারি বান্ধুবি কলমি কে । কলমির বাপের একটাই শর্ত আমাকে বাড়ি ছাড়া করতে হবে আর তার নামে দুই বিঘা জমি লিখে দিতে হবে । কলমি আমাকে নিজের মুখে বলছে । আব্বা নাকি কিছুদিন আগে ওর বাড়িতে গেছিলো । ওর বাপে আর আব্বায় যা বলছে সব কলমি ব্যারার ফাঁক দিয়ে শুনছে । কলমি আমার গলা ধইরা খুব কাঁদল । রুবা রে, আমি তোর বাপের লগে বিয়া বমু না । আমি মনে মনে হাসি। আমার নিজেরই যাবার জায়গা নাই কলমি কে কি বুঝ দেব ।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব


চলমান......


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×