somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুবা

০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে যাচ্ছে। জিমনিস্টিকের প্র্যাকটিস করা উচিৎ ছিল। ব্যালেন্স রেখে বসতে হচ্ছে। সামান্য নাড়াচাড়ায় ব্যালেন্স হারাচ্ছি। চকির ওপাশে অবশ্য অসতিপর এক বৃদ্ধা বসে আছেন। তার ওজন সম্ভাবত চকি গোনায় ধরছে না। বৃদ্ধা মোটামুটি চকির সাথে দুলছে। এতে তার কোন সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি এক মনে পান থিতুনি দিয়ে ঘটরঘটর করতে ব্যস্ত।

ঘরের ভেতর আলো বলতে দেয়ালে স্পাইডার ম্যানের মত তার ধরে ঝুলে থাকা একটা লাইট। যে লাইট থেকে হলদেটে আলো বেরচ্ছে। সেই আলোতে যতোটুকু বোঝা যায় তাতে ঘরের ভেতর এই ঠ্যাং ভাংগা চকি আর বৃদ্ধা রমনী ছাড়া আর কেউই নাই। ছাদের সাথে বিনা প্রতিবাদে একটা ফ্যান অবশ্য লটকে আছে, সে বেচারা তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ঘোরার আপ্রান চেষ্টা করছে। তাতে বাতাসের চেয়ে বাদুরের কিচকিচ ডাক বেশি শোনা যাচ্ছে।

গরমে প্রান ওষ্ঠাগত। গাড়ির মধ্যে জব্বার নামের সেই আধা মানবটা আমাকে যে জিনিস বস্তায় ভড়ার মতো করে পরিয়ে দিয়েছে সেই জিনিসের ভার এবং চাপ পদার্থ বিজ্ঞানের সকল বল প্রয়গ করে ফেলছে এতে বস্তু অর্থাৎ আমি ঘেমে নেয়ে একাকার। এক গ্লাস পানি খেতে পারলে ভাল হত। কিন্তু আশেপাশে বৃদ্ধ রমনী ছাড়া কেউই নাই। সম্ভাবত তিনি কানে কম শোনেন। দুই একবার তাকে উদ্দেশ্য করে শব্দের ব্যবহারেও তার কোন সারা না পেয়ে আমার ধারণা পোক্ত হয়েছে।

কি ব্যাপার কি, এতো ঘামছো কেন? বিয়া করতে আসছ, মাটি কাটতে না। পিতা মহোদয়ের বাজখাঁই গলা কর্নগোহরে ঢুকতেই চমকে উঠলাম। লোকটা কে এই মূহুর্তে নিজের পিতা বলে মানতে যথেষ্ট বাধছে। ভদ্রলোক ধুম করে চকির উপর বসে পরলেন। আর তাতে যেটা হলো সেইটা দেখার মতো একটা কান্ড। চকি বেচারা তার দ্বিতীয় পা বিষর্যন দিয়ে হুমড়ি খেয়ে মাটিতে আছড়ে পরলো। কিছু বোঝার আগেই নিজেকে বৃদ্ধার কোলে আবিষ্কার করলাম। বৃদ্ধার কান ফাটানো চিৎকারে তারাতাড়ি উঠে দাড়াতে গিয়ে আবার হোচট খেয়ে পিতার গায়ে আছড়ে পরে পায়ে বেমাক্কা একটা মোচড় খেলাম। বৃদ্ধা দাত ছাড়া মুখ দিয়ে তারস্বরে চিৎকার করে যাচ্ছে৷। দেখতে কুতসিত লাগছে। তার চিৎকারেই কিনা জানিনা হঠাত করে ঘর মানুষ দিয়ে ভরে গেলো।

হুড়াহুড়ির মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেলো। খানিক পরে পাশে একজনার উপস্থিতি অনুভব করলাম। আড় চোখে চেয়ে দেখবো এমন অবস্থাও নাই। বাড়ির লোক জন সব মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। পিতাশ্রী কোথা থেকে এক মহিলা ধরে আনলো সে বিশ্রী গলায় সুর তুলে কিছু একটা গাইছে যা গান বলে যতটা না মনে হচ্ছে তার থেকে গালাগাল বেশি মনে হচ্ছে। গানের মর্মার্থ স্বামী আমার যেমন তেমন দেবর মনের মতন, দেবর কে বুকে নিয়া করিবো যতন। হঠাৎ পাশ থেকে রিনিরিনি গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো, আমার বমি পাচ্ছে। বমির পুরা অংশই আমার গায়ে এসে পরলো।

ক্ষুধায় পেটের মধ্যে ইদুর ষোলই ডিসেম্বরের মার্চ পাস করছে। গায়ে এখনো বমির গন্ধ লেগে আছে। এখন যে ঘরে আছি সেই ঘরে ফ্যান আছে তা ভালোই ঘুরছে কিন্তু কি এক কারনে ফ্যানের বাতাস লাগছে না। ইচ্ছা করছে বমি মাখা এই শেরোওয়ানি টা খুলে ফেলি। কিন্তু তাও পারছি না, অচেনা জায়গায় ন্যাংটো হবার কোন ইচ্ছা নাই। হঠাৎ অনুভব করলাম ঘরের কোনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। ভুত দেখার মতো চমকে গেলাম। কে, কে ওখানে। কাপা গলায় জিজ্ঞাসা করলাম।

জ্বি আমি, রিনিরিনি কন্ঠে উত্তর এলো।

আমি টা কে, এই বাসার সবাই কি ভুতটুত নাকি, হুট করে আসে আবার হুট করে চলে যায়। কি এক আজিব সমস্যায় পরলাম।

জ্বি আমি, আবার সেই একই উত্তর এলো। বুঝলাম আপনি তো আপনার একটা নামতো আছে। রাগে খাটের উপর বসতে গিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতায় তরাক করে দাড়িয়ে গেলাম।

এই খাট টা ভালো, আপনি বসতে পারেন। বসার ঘরের খাটের পায়ায় ঘুন ধরা ছিলো তাই ভেংগে গেছে।

কন্ঠ খারাপ না, নুপুরের মত রিনিঝিনি একটা ছন্দ আছে। অনেকটা হাতরে হাতরে কন্ঠের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করলাম। জ্বী একটা উপকার করতে পারবেন? এই বাসার পেছনের দরজা কোন দিকে বলতে পারবেন।

কোন উত্তর এলো না। আমি আর একটু গলা চড়িয়ে বললাম, আপনি শুনতে পাচ্ছেন? এই বাড়ির পেছনের দড়জা কোন দিকে। এইবারেও কোন উত্তর নাই। রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। গায়ে বমির গন্ধ, ভ্যাপসা গরম, ফ্যান আছে তার বাতাস নাই।

আপনার নাম জানতে পারি, কোন কথা না বলে থাকার চেয়ে নাম জানটা ভালো। একটু আগেও বাড়ির লোকজন উন্মাদের মতো করছিলো অথচ এখন সেই আবার আগের মতো ভুতুড়ে শান্ত।

রুবা, আমার নাম রুবা । কাপা গলায় ওপাশ থেকে উত্তর ভেসে এলো। মনে হলো যেন মাঘ মাসের কুয়াশা উত্তর দিক থেকে ভেসে এসে ঘরে ছড়িয়ে গেলো ।

বসেন, দাঁড়িয়ে আছেন কেন? গলায় যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করে অনুরোধ করলাম । আসলে উনি না বসলে ঠিক খাটের বিষয়ে ভরসা পাচ্ছি না ।

আপনাকে একটা কথা বলার আছে, ওপাশে থেকে আবার কুয়াশার মতো ভেসে ভেসে উত্তর এলো ।

জ্বী বলেন। আমিও চেষ্টা করলাম একটু ভৌতিক স্বরে উত্তর দেবার । কাপা কাপা গলায় টেনে টেনে বললাম ।

খুক খুক করে কাশি দিলো নাকি বিরক্তি প্রকাশ করলো বুঝলাম না । শাড়ির আঁচল টানার খস খস আওয়াজ ছাড়া কোন শব্দ ভেসে এলো না। আঁচল সম্ভাবত বেশ লম্বা বেশ খানিক্ষন ধরেই আঁচল টানাটানির শব্দ কানে লাগছিলো । আপনাকে আসলেই আমার একটা কথা বলা দরকার, একই কথার পুনঃপ্রচার । খানিক বিরক্তি প্রকাশ করে বললাম আমি শুনছি ।

আমি কনসিভ করেছি এক মাস হলো ।

মাথার ভেতর ভুমিকম্প লেগে গেলো । কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার কন্ঠ আগে রিএকশান দিয়ে ফেললো । খানিক সিনেমার মতো করেই যেন চিৎকার দিলো , কি?

আমি কনসিভ করেছি মানে আমি প্রেগন্যান্ট, গর্ভবতি ।

আমি ইংরেজী বুঝি । চিবিয়ে চিবিয়ে উত্তর দিলাম ।

আমার আশেপাশে ঝিঝি পোকা গুলা কি এক অজানা কারনে সভা সমাবেশ বাড়িয়ে দিলো । ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না এর কি উত্তর দেব বা এর বিপরীতে কি বলবো । দাঁড়ানো থেকে বসে গেলাম , আবার ঝট করে দাঁড়িয়ে গেলাম ।

আপনার বাবা বিষয়টা জানেন ।

বাবা জানে? বিস্ময়ে আবার আমি হতবাক । সিনেমার কোন দৃশ্যে এমন আছে ঠিক জানা নাই কিন্তু আমার সাথে ভয়ংকর কোন সিনেমা হচ্ছে ।

জ্বি জানে। তিনি এর জন্য দায়ী । গলাটা খনিকের জন্য কেঁপে গেলো মনে হয়। তিনি আমাকে বিভিন্ন সময়ে আমাকে ধর্ষন করেছেন। আমাদের বাসায় আসতেন । আমার দুলাভাই উকিল মানুষ তার সাথে আপনার বাবার ভালো সম্পর্ক । আপনাকে সম্ভাবত বলেছে আমি তার ফুপাত বোনের ননদের মেয়ে । মিথ্যা কথা বলেছে । আমি বা আমার পরিবারের কেউই তাকে চিনতাম না ।

এই কথা গুলা এখন কেন বলছেন, দিক বিদিক দিশা না পেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ।

আমার মনে হয়েছে আপনি ভালো মানুষ তাই আপনাকে জানানো জরুরী । শান্ত গলায় কথা গুলো বললো রুবা । তার কথা শুনে মনে হলো বিশাল এক পর্বতের বোঝা সে নামিয়ে দিলো । কিন্তু এটা জানলো না যে সেই পর্বত এখন আমার ঘাড়ে চড়ে বসেছে। আমার চিৎকার করে চিল্লাতে ইচ্ছা করছিলো ।

না , আমি ভালো লোক না আমি আমার বাবার মতোই অসভ্য , বেহায়া ও ইবলিশ। আমার চিৎকার করা হয়ে ওঠে না ।

মাথা ঘুড়ছে, হাত কাপছে, পা কাপছে মোট কথা পুরো আমিটাই কাপছি । ঝিঁঝিঁ পোকা গুলা তাদের সভার আওয়াজ সম্ভাবত আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । দুট হাত এগিয়ে এলো । পাশ কাটিয়ে গিয়ে শুধু বললাম জানালা বন্ধ করে দিন । অনেক শব্দ চারিদিকে । ঝিঁঝিঁ ! ঝিঁঝিঁ করে মাথার ভেতর নেচে বেড়াচ্ছে হাজার ঝিঁঝিঁ পোকা ।


প্রথম পর্ব

চলমান.....
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×