ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম। (এই ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে।)
.
কোরবানি সময় একটা গরুর পায়ে রশি বেঁধে গরুটাকে যখন হ্যাঁচকা টানে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়, তারপরে চকচকে, ধারালো "দা" দিয়ে গরুটার গলা যেভাবে ফাঁক করে দেয়া হয়। গলা দিয়ে যেভাবে ফিনকি-ফিনকি রক্ত বের হয়... গরুটা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে... গরুটার গলার পাশে ধীরে ধীরে রক্তের পুকুর তৈরি হতে থাকে।
একটা পর্যায়ে গরুটার শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। প্রাণ-বায়ু বের হয়ে যায় প্রাণীটার দেহ থেকে। মানুষ এরপরে গরুর গায়ের চামড়া ধীরে ধীরে খুবলে খুবলে নিতে থাকে। এক পর্যায়ে গরুটির গায়ের চামড়া খোলা হয়ে যায়। এরপরে মানুষেরা গরুর অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে হাত বাড়ায়। গরুর শরীরের অভ্যন্তরে থাকা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো একে একে খুলে নেয়া হতে থাকে।
কিছুই বাদ দেয়া হয় না। মাংসগুলো পিস-পিস করে কাটা হয়।
.
এই যে পুরো প্রক্রিয়াটা... এটা দেখে আমার কাছে এনিম্যাল প্ল্যানেট-এ দেখানো সিংহের গরু-শিকারের কথা মনে পড়ে যায়। শিকারের পরে দেখা যায়, এক পাল সিংহ গরুটির দেহকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে। কোরবানির ঈদে আমি এখানে "একপাল" হিংস্র সিংহের জায়গায় "একপাল" হিংস্র মানুষকে দেখতে পাই। যারা ধীরে ধীরে একটা নিরীহ প্রানীর দেহকে সাবাড় করে দিচ্ছে।
.
ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে... জীবে দয়া কর। আবার, অন্য দিকে কোরবানির মাধ্যমে পশু হত্যাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই কন্ট্র্যাডিকশন কেন?
.
বলা হচ্ছে, কোরবানির মাধ্যমে আমরা নাকি আমাদের মনের পশুকে "কোরবানি" করি। তো, তাহলে আমাদের "মন"-এর অভ্যন্তরে যেই পশুটা বাস করে, সেটা কি "গরু"?

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২০ ভোর ৫:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



