somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছোটবেলাটা যেমন কেটেছে।

১৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ছোটবেলাটা যেমন কেটেছে। (টাকা-পয়সার দিক দিয়ে।)
.
আমি ছোটবেলায় টাকা তেমন একটা একেবারেই পেতাম না। ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত তো আমাকে নগদ টাকা একেবারেই দেয়া হত না। ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত আমাকে টিফিনের জন্য ২ টাকা দেয়া হত। এবং ক্লাস নাইন-টেন-এ আমাকে দেয়া হত পাঁচ টাকা।
.
যখন কলেজে উঠি, তখন আমাকে দেয়া হত ২০ টাকা। আমার কলেজ ছিল মালিবাগ মোড়ে, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ। তো... ওই কলেজে যাওয়ার জন্য যাতায়াত খরচ হিসেবেই ১২ টাকা খরচ হয়ে যেত। ক্লাসের ফাঁকে খাওয়ার জন্য হাতে থাকত মাত্র ৮ টাকা।
.
এমনকি আমি যখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, তখনও আমাকে এই ২০ টাকাই দেয়া হত। অনার্স পড়ার জন্য আমাকে যেতে হত খিলগাও-এ। এখানেও যাতায়াত ভাড়া হিসেবে আমার খরচ হত ১২ টাকা।
.
তো, আমার স্বভাব হচ্ছে, আমি চুরি করতাম না। টাকা বাঁচানোর জন্য তাই আমাকে অন্য একটা কৌশল বের করতেই হত। আমি সৎ একটা কৌশলই বেছে নিলাম। আমি যখন খিলগাঁও-এ অনার্স পড়তাম, আমি ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে হেঁটে খিলগাঁও-এ যেতাম। আবার, ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে হেঁটে আমি খিলগাঁও থেকে আসতাম। আমার কাছের বন্ধুরা জানে যে, আমি এই কাজ করতাম। এবং এভাবেই দৈনিক ১০ কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে আমি আমার টাকাটা হালাল করে নিতাম।
.
আমার কিন্তু আরও দুটো ভাই ছিল। একজন আমার চেয়ে ৪ বছরের বড়। আর আরেকজন আমার চেয়ে ৫ বছরের ছোট। তবে, এই দুইজন আবার আমার মতন এত বোকাটে টাইপের সৎ ছিল না। আমার বড় ভাই বাপের ড্রয়ারের থেকে নিয়মিত টাকা চুরি করত এবং বাপের হাতে মাইর খেত। আমার ছোট ভাই আলমারি থেকে টাকা চুরি করত। এবং আমি দেখেছি, এদের হাতে খরচ করার মতো প্রচুর টাকা থাকত। তবে, আমি তো চুরি করতে পারতাম না। নৈতিকতায় আটকাত কিনা!
.
আবার, আমি আমার বাবাকে দেখতাম। তিনিও এই দুটো ছেলেকেই বেশি বেশি করে টাকা দিতেন। কেন দিতেন? আমি অন্য মানুষের মুখে শুনেছি... আমাকে তিনি টাকা দিতেন না। কারণ, আমার নাকি চাহিদা নেই। আর, ওদেরকে দিতেন, কারণ, ওদের নাকি চাহিদা বেশি। আমি দেখতাম... আমার ভাইয়েরা খুব দামী দামী সব মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঞ্জা মারছে। হ্যান করতেছে, ত্যান করতেছে।
আবার, আমার মা-বাবা মুখে বলতেন, তারা নাকি তাদের সব ছেলেকেই সমান চোখে দেখতেন। তবে, তাদের কাজ কর্মে কিন্তু সেটা প্রকাশ পেত না।
.
তা সে যাহোক। ভাই এবং বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করি। তারা যা করার করেছেন।
.
এখন এই যে, আমাকে এত কম টাকায় চলতে হত। এতে কিন্তু এক অর্থে ভালোই হয়েছে। আমি এই কম টাকাতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাকে যদিও নগদ টাকা একেবারেই দেয়া হত না। কিন্তু তারপরেও আমার খাবার এবং কাপড় চোপড়ের তেমন কোনো অভাব হয়নি। খাবার এবং কাপড়টা আমি বাসা থেকেই পেতাম। তো, আমি দেখলাম, পেটে যদি যথেষ্ট পরিমাণ খাবার থাকে, তাহলে নগদ টাকা ছাড়াও কিন্তু দুনিয়ায় খুব ভালো করেই চলাফেরা করা যায়। আমি দেখলাম, ভালো থাকার জন্য আসলে খুব বেশি টাকা লাগে না। টাকা জিনিসটা দরকার, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু খুব বেশি টাকা আসলেও লাগে না।
.
তো, ছোটবেলা থেকেই যেহেতু আমাকে খুব অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে দিয়ে বড় করা হয়েছে। এবং, আমিও ওই অল্প পরিমাণ টাকাতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি... সেই কারণে যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে, আমার অতিরিক্ত টাকা আর্ন করার ইচ্ছেটাই একদম মরে গিয়েছে। আমি এখন জাস্ট খেয়ে পরে বাঁচার মতোন কিছু টাকা আর্ন করতে পারলেই খুশি।
আমার ধারণা, আমার বাবা-মা আমাকে নগদ টাকা তেমন একটা দিতেন না, তার কারণ, তারা আমাকে উৎসাহ দিতেন, যেন আমি নিজেই টাকা আর্ন করি।
কিন্তু বাস্তবে যেটা ঘটেছে, সেটা হয়তো তারা নিজেরাও আশা করেননি। আমি দেখতে পাচ্ছি, বেঁচে থাকতে হলে খুব বেশি টাকা লাগে না। অল্প টাকায় চলাফেরা করতে করতে অভ্যস্ত মানুষ আমি। তাই, অতিরিক্ত টাকার পেছনে আমি ছুটি না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ৭:৩৬
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×