ছুটির দিন। মনোযোগ দিয়ে পত্রিকার একটি আর্টিকেল পড়ছিলাম। রিংকু মেসে এসে হাজির। ওর গায়ে একটা চক্রা-বক্রা শার্ট। বললাম, শার্ট নতুন কিনলি?
সে নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল, আমি কিনিনি। আমার বড় খালা সুইডেন থেকে পাঠিয়েছে।
ওহ!
আমার বন্ধুদের মধ্যে একমাত্র রিংকুই ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালার ছেলে। তার জৌলুসই আলাদা।
রিংকু পকেট থেকে একটা চকচকে আই ফোন বের করে অকারনে কয়েকবার খুলল-বন্ধ করল।
আইফোন নিলি মনে হয়?
সেটের কথা বলছিস? এটা পাঠিয়েছে বড় আপা জাপান থেকে। দাম কত বল তো?
বলতে পারবো না।
অনুমান কর। দেখি তোর অনুমান?
সরি আমি অনুমানে খুব কাঁচা।
তবুও কর না...
পঞ্চাশ হাজার।
তোর কী মাথা খারাপ! একটা সাধারন সেট কিনতেই তো পঞ্চাশ হাজার লাগে। ঐদিন ইষ্টান প্লাজা থেকে স্যামসাং এর একটা সেট নিলাম। দাম পড়ল পঞ্চাশ হাজার। আর এটা অরিজিল্যাল আমেরিকান আাইফোন। একশ একটা ফাংশন আছে।
ওহ!
দাম তো বলতে পারলি না। আচ্ছা আমি বলে দিচ্ছি। কাটায় কাটায় বারশ ইউএস ডলার লেগেছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ছিয়ানব্বুই হাজার।
হঠাৎ আইফোন?
এনড্রয়েড ব্যবহার করতে করতে হাত পঁচে গেছে। বাসায় কয়েকটা পরে আছে।
কিছুক্ষন পর তার মোবাইলে মিস কল এলো। সে ধরতে ধরতে লাইন কেটে গেল। নাম্বারটির দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল, আজকাল মোবাইলে মেয়েরা এত বিরক্ত করে না! ডিসগাস্টিং!
তোর নাম্বার পায় কিভাবে?
আল্লাই জানে!
ভালোই তো। অবসর সময়গুলো তোর ভালোভাবে কাটছে।
অবসর! দম ফেলার সময় পাই না!
রিংকু অদ্ভুত এক মুখভঙ্গি করে সুখী নিঃশ্বাস ফেলল। বাবার কন্ট্রাকটারিতে নেমে সে ইদানিং ভালোই পয়সা কামাচ্ছে। হতাশার ভঙ্গি করে বলল, তুই বিশ্বাস করবি না- সকাল আটটায় বের হই। ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত বারটা। এটা কোন লাইফ হল?
এত কি কাজ?
অন্যের অজ্ঞতা দেখলে মানুষ যে ভঙ্গিতে হাসে, রিংকুও সেভাবে হাসল।
কন্ট্রাকটারি যে কী জিনিস! যে এই লাইনে নাই, সে বুঝবে না। আজ টেন্ডার ড্রপ কর, কাল লেবার সামলাও. পরশু মিনিষ্ট্রিতে দেখা কর। তোদের তো নয়টা-পাঁচটা অফিস করে খালাস।
বললাম, কোথাও ঘুরে টুরে আয়।
ঠিকই বলেছিস। কিছুদিন ডুব দিতে হবে। একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছি। শিট্।
আমি চুপ করে রইলাম।
সে বলল, ভাবছি দেশের বাইরে যাব?
কোথায় যাবি?
প্যারিস।
আগে কখনো গিয়েছিস?
না। তবে সমস্যা হবে না। ওখানকার হোম মিনিষ্টারের ছেলে আমার খুবই ক্লোজ ফ্রেন্ড!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





