ভোরবেলাতে চড়ুই শালিক কিচির মিচির
ঘুম আরক্ত চক্ষু তোমার একটু একটু খুলবে
গোসল সেরে পট্টবস্ত্রে রাজেন্দ্রাণী
চুলগুলো সব কোমর সমান দুলবে।
তখন না হয় খামখেয়ালী মনে
টুপুস করে আমার কথা ভেবো,
কি আর অমন হবে?
সোনার পালঙ্কে তোমার টোপর মাথায় বর
ভোজবাজিতে হঠাৎ যাবে উবে?
ঠিক বারোটায় তোমার মতন কোমল তোমার
ছানাদু’টো ইশকুলেতে যাবে,
চুমোয় চুমোয় নাইয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে প্রাসাদে ফেরার কালে
মনের ভুলে একটুখানিক আমার কথা ভেবো,
কি আর ক্ষতি হবে?
অনামিকার ঝকঝকে রিং, হীরের দ্যুতি পড়বে খসে?
অমন কথা কে শুনেছে কবে?
মনখারাপের দুপুর বেলা গীতবিতানে, চায়ের কাপে ,
গানের খাতায় - সুর খুঁজে না পেলে, লয় হারিয়ে গেলে
গরাদ আঁটা জানলা দিয়ে চোখটা খানিক রাখ
সাদা মেঘের গোলোক ধাঁধায় আমায় খুঁজে দেখো
পাপ কি অমন হবে?
নীল আকাশের বিশালতায় পঙ্কিলতার ঘ্রাণ
পেয়েছে কেউ ভবে?
বিকেল কিংবা সাঁঝের বেলায়, কর্তাবাবু ছানাপোনার
ক্ষিধের জ্বালা ছটফটানি, নাস্তা জোগান দিতে
বাসনকোসন ঝনঝনানি, ওর মধ্যেই আমায় খানিক ভেবো।
দশটি বছর আগে, বিকেল কিংবা সাঁঝে
দশটি টাকার ডাল-লুচি চায়ে স্বর্গ এসে পড়তো জমা
তোমার আমার পাতে!
সোনার সে দিন ভুলতেই হবে, পণ করেছো আজকে সন্ধ্যা রাতে?
অথবা রাতের ঘোর বিছানায় ভালোবাসার অঘোর ঘোরে
একটুখানিক পাপ ছুঁয়ে যাক – অমন কি দোষ হবে?
তোমার বরের মুখচ্ছবি ঘুরিয়ে খানিক, আমার মুখটি ভেবো।
দেহের চাবি তার কাছে থাক, মনের তালার আগল খুলুক
আমার স্মৃতির জোরে!
জীয়ন কাঠী- মরণ কাঠী, কর্তাবাবু , অট্টালিকা
দেবের মতন, শিশুর মতন, ছানাপোনা
কিসের অভাব আজকে তোমার এ সংসারে?
আমি আজো সেথায় আছি, যেথায় রেখে গিয়েছিলে,
কাগজ - কালি সম্বল করে!


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


