
আমি অরুর থেকে চোখ ফেরাতে পারছি না।
বরং কথাটা ঘুরিয়ে বলা যাক, আমি অরুর থেকে চোখ ফেরাতে চাইছি না।
মেয়েটাকে হয়তো বড়জোর একবারই আমি বলেছিলাম যে - শাড়িতেই বাঙ্গালী রমণীদের বেশী সুন্দর লাগে। আজ একসাথে প্রথম বের হবার দিনই সে এই জর্জেটের শাড়িটা পড়ে এসেছে। গাঢ় খয়েরি জমিনে সোনালী পাড়। বুকের ওপর মুক্তোর দানার মত বড় বড় পুঁতির মালা। সবকিছু ছাপিয়ে ফুটে রয়েছে ওর মুখ খানা।
এত শান্ত!
এত মিষ্টি!
এত মায়াবী!
- 'ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এই মেয়েটার একটা স্ক্যান্ডাল আছে না?'
অরু সোনালী চুলের এক নারীর সাথে সোনালী চুলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি কাভারে থাকা এক বই আমার হাতে তুলে দেয়।
- 'মেয়েটাকে তো আপনার চেনার কথা' আমার দিকে তাকিয়ে অরু, তার চোখে কৌতুক, ঠোঁটে গভীর অর্থপূর্ণ হাসি।
কথা হল, মেয়েটাকে আমি চিনি। স্টর্মি ড্যানিয়েলস। খুবই নামজাদা অ্যাডাল্ট মুভি তারকা। ব্যাচেলর, একা বাস করেন, এবং বাসায় ফিরে রাতে নেট খুলে বসার অভ্যাস আছে এমন সকল পুরুষেরই চেনার কথা তাকে, সাধারণত। কিন্তু অরু তাকে চেনে কিভাবে? আমি কৌতূহল উদ্দীপক চোখে ওর দিকে তাকাতেই ও দুষ্টুমি মাখা হাসি ছুঁড়ে আমার হাত থেকে বইটা নিয়ে তা র্যাকে তুলে রেখে আবার সামনে হাঁটতে থাকে।
বেঙ্গল বইয়ে আমরা। আজ শনিবার। ছুটির দিন। দুজনে মিলে প্ল্যান করে ঘুরতে বের হয়েছি, ব্যাপারটা এমন না। আমরা কলিগ। দুজনেই একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। অরু আমাদের ভার্সিটিতে সম্প্রতি জয়েন করা নবীন প্রভাষক। তার শরীর জুড়ে এখনো সেই নবীন নবীন গন্ধ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাজে নিয়ম হল, জয়েন করা মাত্রই টানা তিনমাসের একটা ওয়ার্কশপ, সপ্তাহের প্রতি শনিবার সারাদিন ধরে করা লাগে। ওয়ার্কশপ বাজে জিনিস না। বাজে হল যেভাবে ওয়ার্কশপ কন্ডাক্ট করা হয় সেটা। ইউনিভার্সিটির মালিক পক্ষ, এবং সবচে বুড়ো পুরুষ শিক্ষকেরা সেই সব ওয়ার্কশপ পরিচালনা করে, প্রায়ই আলোচনার ট্রাকচ্যুত হয়ে নতুন জয়েন করা ইয়াং মেয়েদের সাথে রসের আলাপে নিমগ্ন হয়, কোন পুরুষ শিক্ষক এরমাঝে প্রশ্ন করলে, বা কোন বিষয়ে কোন মতামত দিতে চাইলে তাকে নানাভাবে অপমান ও হেয় প্রতিপন্ন করে। তো, অরু আজ এসেছিল ঐ ওয়ার্কশপে অংশ নিতে। আর আমাকে বলা চলে যে খানিকটা ফাঁসিয়ে দিয়েই এই ওয়ার্কশপের কোঅরডিনেটর বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে আমারও আসতে হয়। কাজকর্ম কিছুই নেই তেমন, শনিবার সকালে আর বিকেলে একবার করে তদারক করে যেতে হয় যে ওয়ার্কশপ পরিচালনায় কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, বা কোন লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে কিনা। সকাল বিকাল দু'বেলা আসতে হলে মূলত সারাদিনের জন্যেই আটকা পড়ে যাওয়া। ছুটির পুরো একটা দিন নষ্ট। আমিও তক্কে তক্কে থেকে প্রথম মাসটা পার হবার পর রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে কায়দা করে নিয়ে এখন কেবল বিকেলেই আসি।
আর অরুর সাথে আমার ডিপার্টমেন্টে পরিচয় হল সেদিন। আমাদের দুজনের ব্যাকগ্রাউন্ড ইংরেজি সাহিত্যের। আমার ঢাবির, অরু জাহাঙ্গীরনগরের। কথায় কথায় সেদিন অনেক কথা গড়িয়ে গিয়েছিল। খেয়াল করে দেখলাম, আমার মতই ওর পপকালচারে প্রতি তীব্র ঝোঁক। ও খুব বিরক্তি প্রকাশ করছিল এই ওয়ার্কশপ নিয়ে। বাঙ্গালীর প্রতিক্ষেত্রেই যে খাজনার চে' বাজনা বেশী, এই বলে ওকে খানিকটা প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করলাম। কাজ না হলে পরে যুক্ত করলাম যে ঠিক ওর কায়দায় না হলেও আমিও ফেঁসে আছি এই ওয়ার্কশপে। কাজেই পরবর্তী শনিবারে সে আর একটি পরিচিত মুখের দেখা পাবে, এবং ওর যদি আপত্তি না থাকে তবে আমরা দুজন ওয়ার্কশপ শেষে কোন কফিশপে মিট করতে পারি এই মর্মে সেদিন আলোচনায় ইতি টেনেছিলাম দু'জনে। তার ফলশ্রুতিতে আজ আমরা এখানে।
একজন সদ্য সেপারেটেড অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসরের সাথে একজন সদ্য জয়েন করা তরুণ অবিবাহিতা লেকচারারকে একসঙ্গে দেখা গিয়াছে কোথাও - ইউনিভার্সিটিতে জানাজানি হলে এনিয়ে বড় কথাবার্তা হবে। টিচিং প্রফেশনটায় আলোর নীচে আঁধার অনেক। নানারকম অলিখিত ব্লাসফেমি আছে এখানে। আছে উপর থেকে দেয়া উদ্ভট সব আদর্শিক চাপও। ছাত্রীদেরকে নিজের কন্যার দৃষ্টিতে দেখতে হবে, চাকরির শুরুতেই ডিপার্টমেন্টের চেয়ার আমাকে ডেকে বলেছিলেন। কেন বলেছিলেন, আমি জানি না। আমি তখনও ক্লাস নেয়া শুরু করে নি। মাত্র মাস্টার্স শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করেছিলাম। সেবার মাস্টার্সের একটা কোর্স আমাকে দেয়া হয়েছিল। আমার চে একবছরের ছোট ছেলেমেয়েগুলি প্রথম প্রথম আমি ক্লাসে ঢুকলে পাত্তাই দিতো না, আর তাদের বাপ হওয়া দূরের কথা। কন্যা হতে না চাইলেও কেউ কেউ অবশ্য ঘরণী হবার আগ্রহ দেখিয়েছিল হাবেভাবে, বা ফেসবুকে ম্যাসেঞ্জারে। এসব প্রলোভন এড়িয়ে আপনাকে চিরদিন দেবদূতের মত চরিত্র নিয়েই ঘুরে বেড়াতে হবে। পেট ভরে খেতে পান আর না পান, সন্তানের শখ আহ্লাদ পূরণ করতে পারুন আর না পারুন, চাকুরীজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লোকাল বাসে ঠ্যালাঠেলি করে যাতায়াত করতে হলেও, সমাজে মাষ্টারদের সুচরিত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে হবে ক্রমাগত। সেসবও না হয় মেনে নেয়া গেল, কিন্তু গত সপ্তাহে কনফারেন্স রুমে বসে আমার এক ফিমেল কলিগ আর এক ফিমেল কলিগকে যে বলছিলেন - 'সেপারেশন হওয়ার ছয়মাস ও পার হয় নাই, এখনি খালি ইয়াং মেয়েদের ফেসবুকে অ্যাড করে করে দিনরাত ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট করে।' আমি যেটা বুঝি নি, সেটা হল - হলাম আমি পুরুষ শিক্ষক, হলাম আমি সেপারেটেড, সেপারেশনের ছয়মাসের মধ্যে ফেসবুকে নতুন মেয়েদের অ্যাড করা এবং তাদের সাথে চ্যাট করাও না হয় আমার অপরাধ, কিন্তু তিনি একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলা হয়েও আমাকে এভাবে স্টক করে বেড়ান কেন - এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর কি তার কাছে আছে?
তবুও, পারলাম কই নিজেকে বিরত রাখতে? আমি আর অরু মুখোমুখি, মধ্যিখানে কেবল একটি বইয়ের তাক। বই উল্টে পাল্টে রাখছি, ফাঁকে ফাঁকে একে অপরকেই দেখছি। ধরা পড়ে গেলে লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে মুচকি হাসছি। আপনি হয়তো বলবেন, কেন শুধু শুধু খেলছি আগুণ নিয়ে। আমার কাছে ব্যাপারটা আগুন নিয়ে খেলা করার মত না। বরং, বলা চলে শীতের রাতে আগুন পোহানোর প্রয়োজনে আগুনের কাছে আসার মত কিছু একটা।
- 'আপনি কফি খান তো স্যার?'
অরু আবার মিটিমিটি হেসে আমার দিকে তাকায়। মেয়েটা ভারি দুষ্ট। ইচ্ছে করেই প্রতিবার অনাবশ্যক রকমের জোর দিয়ে স্যার শব্দটি যুক্ত করে দিচ্ছে প্রতিটি উচ্চারিত বাক্যের আগে - যাতে করে আমি অস্বস্তিতে পড়ি। আমি মৃদু হাসি। হেসে বেরিয়ে আসি ওর সাথে, একটু সামনেই কফি ওয়ার্ল্ড, ঢুকে পড়ি ওতে। এখানে সবসময়ই দারুণ ব্যাস্ততা,নামিদামি লোকজনের উপস্থিতি। আমরা একদম ভেতরের একটা ছোট টেবিলে মুখোমুখি রাখা দুটো চেয়ারে বসে পড়লাম। এখানে উপর থেকে একটা মাত্র আলো সরাসরি আমাদের টেবিল বরাবর এসে পড়ছে। এই আলোতেই লক্ষ্য করলাম অরুর কপালে ফুটে আছে একটা টিপ। সে টিপ পরার ভঙ্গী বেশ ব্যতিক্রম। বড় একটা গোল টিপের নিম্নাংশ থেকে সংযুক্ত আর একটা অপেক্ষাকৃত ছোট টিপ। এ সবকিছুই আলাদা করে সুন্দর লাগছে মেয়েটার মিষ্টিপানা মুখচ্ছবির জন্যে।
- 'অরু কি প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে চাইতে?'
- 'না চেয়ে উপায় আছে বলুন? তবে আপনার সাথে দেখা হত কোথায়?'
বিষম খেয়ে আমার মুখের তালু পুড়ল খানিকটা, গরম কফিতে।
- 'আরে দুষ্টুমি না। সত্যি সত্যি বলো।'
আমার প্রশ্নে অরুকে আনমনা দেখায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ ধানমণ্ডি সাতাশের যে রাস্তা - শুক্রবারের সন্ধ্যার উসিলায় জনাকীর্ণ তার পানে চেয়ে থাকে।
- 'আপনি পড়াশোনা শেষ করবার সাথে সাথেই এ ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেছিলেন, তাই না?'
- 'প্রায়।' - আমি ছোট করে অরুর প্রশ্নের জবাব দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি।
- 'এই চাকরিতে ঢোকার আগে আমি একটা প্রাইভেট ব্যাংকে ছিলাম। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চোকানোর প্রায় সঙ্গেসঙ্গের ঘটনা। ঢাকা শহরে আমি একাই ছিলাম এতগুলো বছর ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর থেকে। কাজেই, এখানকার মানুষজনের ব্যাপারে একটা ধারণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। তবে পড়াশোনা শেষে একটা ডিসেন্ট চাকরির খোঁজে আমাকে কি কি করতে হয়েছে শুনলে আপনার এ শহর, এ শহরের মানুষদের ওপর নতুন করে ঘেন্না জন্মাবে। তারপর, ব্যাংকে জয়েন করার পরে আমার ইমিডিয়েট বসের গায়ে পড়া আচরণ সামলে আর থাকতে পারলাম না। আমার পরিচিত এক স্যারের রেফারেন্সে এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাগজে কলমে স্বাধীনতা তো অনেক। দেখা যাক সামনে কি অপেক্ষা করছে।'
অরু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে -
- 'এই সব জীবনমুখী আলোচনা করবেন বলে তো আমাকে নিয়ে বের হন নি সাজিদ স্যার। আপনার কথা বলুন। চল্লিশ ছুঁইছুঁই বয়সে এসেও আমার বয়েসি একটা মেয়েকে নিয়ে আপনার এসব ছুটির দিনের বিকেলগুলো বরবাদ করা লাগে কেন?'
- 'বরবাদ করছি আবার সবকিছু নতুন করে আবাদ করব বলেই হয়তো' - আমিও একটা দুষ্টুমিমাখা হাসি ছুঁড়ে দিই অরুর দিকে।
ঢাকার যানজট, ছেলেপেলেদের বিসিএসমুখীতা, অ্যাভেঞ্জারস এন্ডগেমের এন্ডিং, গেম অফ থ্রোনসের শেষ সিজনের তৃতীয় এপিসোড, কোন লেখকের লেখা ইদানিং বেশী পড়া হচ্ছে, কটা রিসার্চ আর্টিকেল পাবলিশ করেছি, পাবলিশ করার জন্যে ভাল ভাল জার্নাল কোনগুলি - এরকম টুকটাক আরও কিছু ব্যাপারে আমাদের কথা হয়। তারপর, একটা পর্যায়ে গিয়ে কথা আর এগোয় না। ব্যাপারটা আমাদের দুজনের জন্যেই অস্বস্তিকর ঠেকে। অরুর মত একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে অফিসে সেন্স অফ হিউমারের বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন এই আমার কোন কথাবার্তা এগুচ্ছে না - জিনিসটা আমার জন্যে এমনিতেই এমব্যারেসিং।
- 'আজ উঠি তবে' অরু তার স্মার্টফোনটা ব্যাগ থেকে বের করতে করতে বলে।
আমরা বেরিয়ে পড়ি। অরু তার কলকৃত উবারে উঠে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আমাকে রাইড অফার করে। আমি ঠোঁটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে বলি, রাইড করা দরকার আমার, তবে সেটা এই রাইড নয়। আমার উত্তর শুনে কিছুক্ষণ ভ্রু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফের হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে অরু। গাড়ির গ্লাস উঠিয়ে রওনা হয়।
আমি অবশেষে আমার প্রিয় ঢাকা শহরকে একা পাই। ধানমণ্ডি সাতাশের বুক চিরে হাঁটা শুরু করি। মন চায় প্রথমত লেকের পাড় ধরে হাঁটতে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর আমি উঠে আসি সাত মসজিদ রোডে। মিশে যাই জনতার ভিড়ে। তখন আমার নিজেকে আসলেই একা একা লাগে। এত মানুষ চারপাশে, মোবাইলের কনট্যাকক্ট লিস্ট খুঁজলে হাজারখানেক মানুষের নাম এসে জড়ো হবে। কিন্তু একজনও নেই - যার সাথে নির্দ্বিধায় মন খুলে দুটো কথা বলা চলে। এভাবেই আমি হেঁটে বাড়িতে ফিরি - গত ছ' মাস ধরে প্রতিদিন, মৃদুলার সাথে আমার আলাদা থাকা শুরু হবার পর থেকেই। এই ধানমণ্ডির অলিতে গলিতে আমাদের অজস্র অগনিত স্মৃতি। অবাক লাগে খুব কখনো কখনো। জীবনে এমন এমন সব মোড় আসে, যখন ব্যক্তিমানুষটাকে বাদ দিয়ে তার স্মৃতি নিয়ে সময় কাটানোটাই বেশী কাম্য হয়ে ওঠে।
আমার ছোট্ট একলা ফ্ল্যাটে ফিরতে ফিরতে রাত এগারোটার মত বাজে। পোশাক বদলাই। ফেসবুকে বসি। ম্যাসেঞ্জারের নীলসাদা খামে এসে জমা হওয়া বার্তাগুলো পড়ি। কিছুকিছুর জবাব দিই। কিছুকিছু আনরেড করে রেখে দিই। কাউকে কাউকে টেক্সট পাঠাই। অরু ফোন দেয়। আমরা কথা বলি। প্রয়োজনীয় - অপ্রয়োজনীয় নানা কথা। অবশেষে ফোন কেটে দিয়ে আমি বিছানায় শুয়ে পড়ি। আমার চোখ সিলিঙে ঝুলে থাকে, সিলিঙে ঝুলে থাকে ঘূর্ণায়মান সিলিংফ্যান, আরও ঝুলে থাকে জর্জেটের শাড়ির নিচে মেরুন রঙের ব্লাউজ উপচে পরা অরুর স্তনদ্বয়। আমার অশান্ত তলপেটকে শান্ত করার প্রয়োজন হয়। রাত প্রায় শেষ হয় হয়, কিন্তু আমার ঘুম আসে না।
এতগুলো দিন আজ আমি এই ঢাকা শহরে, কতগুলি পরিচয়ে পরিচিত। কারো স্যার, কারো অধীনস্থ কর্মচারী, কারো প্রাক্তন স্বামী, কারো ভাই, কারো কাছে সম্মানের পাত্র, কারো কাছে হয়তো সাক্ষাৎ শয়তান। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল এই যে, খুব শক্তভাবে অনুভব করি - এখনও আমি পুরোপুরি নাগরিক হয়ে উঠতে পারি নি। আমার এখনো বৃষ্টির জন্যে মন কাঁদে, জোছনার জন্যে মন কাঁদে, নীল আকাশের জন্যে মন কাঁদে, একজন সঙ্গীর জন্যে মন কাঁদে।
ভেজা বাতাস বইছে আমার জানালা দিয়ে, সারা ঘর জুড়ে।
কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে কি?
আজ রাতে বৃষ্টি হবে কি, আমার চেনা ঢাকা শহরে?
মৃদুলা দেখবে সে বৃষ্টি?
অরু?
ছবিঃ Photo story: The Shattered Artist
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




