somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিন্তার কারখানা ৬ঃ মিলিট্যান্ট এথিজম / ষ্টেট এথিজমের করায়ত্ব পৃথিবী কেমন হবে?

০২ রা মার্চ, ২০২১ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১।
সিলেটে একটা লম্বা ট্যুর দিয়ে এসে গত সপ্তাহ দুই ধরে লেখার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছি। মধ্যখানে, ভাষা নিয়ে কিছুদিন চিন্তাভাবনা করলাম। ফলিত ভাষাতত্ত্ব ও ইংরেজি - এটা আমার অ্যাকাডেমিক কাজের জায়গা। ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে ওটা নিয়ে কাজ করবার, কিন্তু সেটা গবেষণার বিষয় হিসেবে, বা পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষার ফোকাস। সহজ বাংলায় তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব নিয়ে লেখার জন্যে আমার আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা লাগবে। রুটলেজ হতে প্রকাশিতব্য একটা বইয়ের বুক চ্যাপ্টার নিয়ে কাজ করছি, আগামী দু'মাসের মধ্যে সেটা জমা দিতে হবে সম্পাদক পর্ষদের কাছে। নিজের প্রথম উপন্যাসটা গত ২ বছর যাবত কাটছাঁট করছি, কিছুতেই মনে শান্তি আসছে না। যদি খালি জনপ্রিয় ধারার লেখকদের লেখা পড়তাম, তাহলে মনে হয় না নিজের লেখা নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করতাম। আমি সর্বদা আমার পরিচিত সার্কেলের বন্ধুবান্ধবকে বেশী পড়তে উৎসাহিত করি। কিন্তু বেশী পড়াশোনার এক আলাদা গ্যাঞ্জাম আছে।

যাই হোক, ব্লগে খেয়াল করলাম ইদানিং নাস্তিক্যের পক্ষে বিপক্ষে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। গতবছর এ সময়েই করোনা লকডাউন শুরু হওয়ায় ব্লগে, প্রায় ছ' বছর পর নিয়মিত বেসিসে লেখা শুরু করি। আচরি মুসলিম হওয়ায় সে সময়ে সক্রিয় নাস্তিক ও ইসলামোফোব / ইসলামবিদ্বেষীদের সঙ্গে তুমুল বাদানুবাদে জড়াই। তারপর, এই বিতর্কের সার্কুলার রূপ উদ্ঘাটন করবার পর, একসময় উত্তেজনা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। তবে এ নিয়ে চিন্তাভাবনা, পড়াশোনা থেমে থাকে নি। এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু চিন্তা, ভাবলাম ভাগ করে নেয়া যাক।

২।
আমার ফেইথ আমাকে এই ডগমার অধীন করে নাই যে - নাস্তিক দেখলেই তাদের আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘৃণা করা শুরু করি। বিশেষত যদি তা আমার পরিচিত সার্কেলে হয়। আমার পরিচিতদের ভেতর না বুঝে ধর্ম যারা পালন করে, বা যাদের সঙ্গে আল্লার ওয়ান টু ওয়ান সম্পর্ক নাই, যারা ব্যাখ্যা করতে পারে না তাদের আল্লার সঙ্গে পার্সোনাল লেভেলে সম্পর্ক কিরূপ, তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমি সুখ পাই না। কিন্তু যারা নাস্তিক, তাদের ঈশ্বরহীনতার একটা ব্যাখ্যা আছে। তারা ক্রিটিকাল। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসমেট, আমার সিনিয়র - জুনিয়র, আমার কর্মক্ষেত্রের কলিগ, সাংস্কৃতিক জগতের বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই অ্যাগনস্টিক, কেউ কেউ এইথিস্ট। পারস্পারিক শ্রদ্ধার জায়গায় থেকে তাদের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক আমার একটা পছন্দের অবসর কাটানোর উপায়।

খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্লগে কোন নিক থেকে কেউ এই বিষয়ে আলাপ করতে এলে আমি তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, তার প্রথম কারন হচ্ছে - এই লোকের ব্যাকগ্রাউন্ড আমার জানা নাই। তার পড়াশোনা কোন লাইনে, কোন ইন্সটিটিউটে, কোন ক্লাসে, তার সামাজিক কনটেক্সট কি, ধর্ম - নাস্তিক্য এরকম একটা সেনসিটিভ বিষয়ে এই তথ্যগুলি, বিতর্কটারে একটা উগ্র ব্যক্তিগত ঘৃণা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে না নিয়ে যাওয়ার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগে, আগের আলোচনা পর্যালোচনাগুলোয় আমি খেয়াল করসি, আমি যখন তথ্য দিতে থাকি, তার ফ্লোতে অনেক ইনফরমেশন বিটুইন দা লাইন থেকে যায়, এবং যারা সেগুলি রিড করতে পারে না, আমার পিছনে ফিরে ফিরে সেইটা বুঝিয়ে ব্যাখ্যা করা লাগে - আমার তাতে ধৈর্যে কুলায় না। দ্বিতীয়ত, যদি সেই নিকের পূর্ববর্তী সব লেখা, বা মন্তব্যে অন্ধ ইসলাম বিদ্বেষ প্রকাশ পায়, আমার আগ্রহ আরও কমতে থাকে। কারন, এই ধরনের তর্ক, স্রেফ তর্ক করার জন্যেই তর্ক করা।

ধর্ম হোক, বা নাস্তিক্য, দুইটাই "বাদ" / "ইজম" । "ধর্মবাদ" বা "নাস্তিক্যবাদ" । যেকোনো "বাদ" টেক্সট হিসেবে একটা ইউটোপিয়ান অবস্থায় থাকে। প্রয়োগের জায়গায় এলে, যেহেতু মানুষই বিবিধ "বাদ" -এর প্রয়োগকর্তা, কাজেই তাতে মানুষের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা এসে সংযুক্ত হয়, এবং উক্ত "বাদ" এর ভুল, ভ্রান্ত, উগ্র, স্বার্থান্বেষী প্রয়োগ অবধারিত হয়। এটা আদর্শিক অর্থে যে বাদ, সেটার সমস্যা না। বরং, মানুষের প্রয়োগের সমস্যা।

যেমন ইসলাম উগ্রতা প্রমোট করে বলে একটা কথা প্রচলিত আছে।

আমি ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করি যে - উগ্রতা কি ইসলামৈ প্রমোট করে, নাকি উগ্রতা মানুষের একটা ইনহেরেন্ট কোয়ালিটি?

কোন "বাদ" বা "ইজম" এমন আছে, যেটারে পলিটিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করলে উগ্রতার সহায়তা নিতে হয় না?

নাস্তিক্য নিয়ে পরে কথা বলি। গণতন্ত্র? সমাজতন্ত্র? এগুলিরে যখন আপনি ষ্টেটে ফিক্স করতে চাবেন, উগ্রতা, রক্তক্ষরণ ছাড়া তা কী সম্ভব?

উগ্রতা, মানুষের চারিত্রিক একটা বৈশিষ্ট্য, বিবিধ "বাদ" কে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামনে আনতে যাকে মানুষ ব্যবহার করে। এমতাবস্থায় আরেকটি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক হয় -

উগ্রতা ( ব্যক্তিমানুষের চরিত্রের এক কোর কোয়ালিটি হিসেবে) দমনে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র কোন প্রেসক্রিপশন দেয় কি না?

ধর্মবিশ্বাস দেয়।

মানুষের ধর্মবিশ্বাস ব্যক্তিগতপর্যায়ে উগ্রতা, ক্রোধ পরিহার করতে উৎসাহ প্রদান করে।

উগ্রতা হতে উৎসারিত যেকোনো কাজ মানুষের সৎকর্ম সমূহকে ধ্বংস করে দেয় - এমত মতবাদ প্রচার করে।

৩।
ধার্মিকরা সুযোগ পাইলেই নাস্তিকদের উপর চড়াও হয় বলে একপেশে একটা কথা প্রচলিত আছে।

আমি ধার্মিক, এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো লেভেলে হেইট স্পিচ ছড়ানোর বিপক্ষে। কোন নাস্তিক যদি যৌক্তিকভাবে, ধর্মবিশ্বাসীদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে টিটকারি না মেরে, তাদের ধর্মগুরুদের নিয়ে হাসিতামাশা না করে, তাদের হেয় না করে, কীভাবে ঈশ্বরহীনতা তাকে মুক্তি দিল - এটা গুছিয়ে লিখে, আমি তার এই লেখার স্বাধীনতার পক্ষে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির মাস্টার্সের ক্লাসে আলবেয়ার কাম্যুর বিখ্যাত উপন্যাস দা আউটসাইডার কি পড়ানো হয় না? সেখানে উপন্যাসের মুখ্যচরিত্র মারস'র এক বিশাল বক্তৃতা আছে, ঈশ্বরহীনতার পক্ষে। তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রেক্ষিতে কীভাবে ধর্ম, এবং একজন ঈশ্বরের উপস্থিতি অপ্রাসঙ্গিক, সেটা নিয়ে তার খোলামেলা বক্তৃতা আমি মুগ্ধতার সঙ্গে পড়েছি।

দ্যাট বিয়িং সেইড, যেহেতু আমি আচরি মুসলিম, "মাথামোটা গরুখোর মুসলমানেরা সুযোগ পাইলেই তরোয়াল লইয়া লাফ দেয়, যখন যুক্তিতে পারে না" - নাস্তিক্যের মুখোশে হেইট স্পিচ ছড়ানো ইসলামবিদ্বেষীদের এই অভিযোগ, আমারেও রেহাই দেয় না। নিজের স্বজাতির বিরুদ্ধে উত্থিত একটা অভিযোগরে স্রেফ এড়ায়ে গেলে, বা চাপা দিয়ে গেলে তো তা থেকে মুক্তি মিলে না। ফলে আমি খোঁজ নেয়া শুরু করলাম, নাস্তিকরা যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাদের আচরণ কেমন হয়।

আমার বেশীদূর যাওয়া লাগে নাই। হালের চায়নার রুলিং গভর্নমেন্ট, সিসিপি, বা চায়নিজ কম্যুনিস্ট পার্টি ষ্টেট এথিজমের একজন ধারকবাহক। তারা সমস্ত জাতিসত্ত্বারে বিলীন কইরা দিয়া সবাইরে আগে চায়নিজ বানাইতে চায়। এবং সেইটা খুব সুখকরভাবে না। হালের উইঘুর মুসলিমদের অবস্থা পড়ে দেখেন। বিস্তারিত লেখার সময় নাই। এটার উপর একহাজার পাতার একটা বৈ লেখা যায়। জোসেফ স্তালিনের সময়কালীন USSR anti-religious campaign of 1928–1941 লিখে গুগল করেন, পাবেন সমাজতন্ত্র গেলানোর নামে মাইনরিটিদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানোর পরিসংখ্যান। দেখবেন ১৯১৭ সাল থেকে নিয়ে ১৯৩৫ সালের মধ্যকার সময়ে, মাত্র ১৮ বছরে সোভিয়েত ইউনিয়নে মসজিদের সংখ্যা ২০,০০০ থেকে মাত্র ৬০ এ নেমে আসে। সোভিয়েতের অভ্যন্তরে মুসলিমদের হত্যা নির্যাতনের পরিসংখ্যান নিয়ে আলাপ না ই বা করলাম।

আমি উইঘুরের মুসলমানদের পিটায়ে প্রথমে তক্তা, এবং দ্বিতীয়তে চাইনিজ বানানো হচ্ছে, এটা নিয়ে আলাদা ইমোশন দেখাতে, এই লেখায়, অনিচ্ছুক। পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় সংখ্যালঘুরা একইভাবে নির্যাতিত হয়। তবে চিন্তার জন্যে কিছু প্রশ্ন রেখে যাই -

ক) বাংলাদেশে পাহাড়িদের সন্তানদের, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বাবা মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করে, তাদের সংস্কৃতি, তাদের পিতৃপুরুষের ধর্মবিশ্বাস থেকে আলাদা করে, "বাঙ্গালী" করে তোলার কোন উপায় আছে কী, যদিও সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, এবং বাংলাদেশে 'গণতন্ত্র' আছে?

এই অমানবিক কাজটা চায়নায় সম্ভব। তাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এথিস্ট, তারা আইন করে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের উপর দমনপীড়ন চালাতে পারে।

খ) রেডিকেল ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিরে আপনি বৈশ্বিক আইনের আওতায় আনতে পারেন। চায়নারে কেমনে আনবেন? বা সোভিয়েতরে কেউ পারসিলো, আইনের আওতায় আনতে?

গ) এটা কী তবে পরিস্কার না যে, নাস্তিকদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা গেলে, ইতিহাস বলে, তাদের সংখ্যালঘুদের উপর দমনপীড়ন অত্যাচার আরও সিস্টেমিক, লিগ্যাল, এবং ব্রুটাল হয়?

৪।
আরও একটা পয়েন্টে কিছু কথাবার্তা বলি। পৃথিবীখ্যাত দার্শনিকদের অনেকেই মতামত দেন, নাস্তিক্যবাদ, নিজেই একটা ধর্ম।

ফেনোমেনোলজি, এবং অস্তিত্ববাদী দর্শনে বিংশ শতাব্দীর সবচে বিখ্যাত দার্শনিকদের একজন, জার্মানির মারটিন হাইডেগারের একটা সাক্ষাতকারে সেদিন দেখলাম একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে, যেখানে হাইডেগার বলছেন -

'Religion means, as the word implies, a reconnection to powers, forces, and laws that exceed the human capability. There one can speak of an atheistic religion, like Buddhism, which knows no God. But, nonetheless, is that religion that contains a bond in itself, that people also, like the communists, for example, have a religion: namely, they believe in Science. And this unconditional believe, that is, the trust in the security of scientific results, is a faith, and, in a sense, something, that goes beyond the individual person, and hence is a religion. I would say that no person is without religion... '

পুরোটা সহজ ইংরেজিতে লেখা। হাইডেগার প্রথমে ধর্মের সংজ্ঞায়ন করছেন এই বলে যে - মনুষ্যক্ষমতার থেকে উচ্চতর কোন ক্ষমতা, শক্তি, বা নিয়মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নাম ধর্ম। ধর্মের এই সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে তিনি বলছেন, কমিউনিস্ট (যারা ষ্টেট এইথিজমের চর্চা করে) তাদের ধর্মের নাম বিজ্ঞান। কারন - তারা ধার্মিকদের মতই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফলের উপর বিশ্বাস রাখে। শেষে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের বাইরে কেউই নাই।

আমি এই পুরো আলোচনা থেকে এই অংশটুকুই গ্রহণ করতে চাই যে - যে সমস্ত নাস্তিক অন্ধভাবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফলের উপরে ঈমান রাখে, তারাও ধার্মিক। বিজ্ঞান ধর্মের বিশ্বাসী। আমি এই ডিবেটে যাচ্ছি না যে, তাদের এই ধর্মবিশ্বাস অন্যান্য স্বীকৃত ধর্মবিশ্বাসের চে' ভালো না মন্দ।

আবার পৃথিবীর সবচে বড় সেলিব্রেটি দুজন নাস্তিক, প্রয়াত ক্রিস্টোফার হিচেন্স, এবং স্যাম হ্যারিসের ব্যাপারে নোম চমস্কির মতামত চাওয়া হয় একটি পাবলিক ফোরামে, সেমিনারে প্রদত্ত চমস্কির বক্তৃতা শেষে। ওয়েস্টার্ন এইথিজমের ফোর হর্সম্যানের অন্যতম দুইজনের ব্যাপারে চমস্কির মতামত হল -

"I think they are religious fanatics! They happen to believe in state religion, which is much more dangerous, than other religions in most of the parts. So they, and both of them, happened to be defenders of state religion, namely their religion that says - 'we have to support violence and atrocities that are run by the state, Because it’s being done for all sorts of wonderful reasons', and that is what everyone says in every state. And that's another religion. It just doesn't happen to be a religion where you pray every once a week, but it's just another religion and that's very destructive. "

অর্থাৎ, চমস্কি বলেন, এই মিলিট্যান্ট নাস্তিকরাও ধর্মীয় উগ্রবাদী। তাদের ধর্মের নাম রাষ্ট্র। রাষ্ট্রযন্ত্রের যেকোনো দমন নিপীড়নের পক্ষে সাফাই গাইতে এদের দেখা যায়, যেই আচরণ কোনভাবেই কোন ধর্মীয় উগ্রবাদীর চে' উত্তম না।

চমস্কির বক্তব্যের পক্ষে একটা সরল উদাহরণ - ইসলামিস্ট টেরোরিস্টদের ব্যাপারে বলা হয় যে, তারা ইসলাম কায়েম করতে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালায়। অ্যামেরিকা গণতন্ত্র নিশ্চিত করার নামে মধ্যপ্রাচ্যে, এবং আফগানিস্তানে তাহলে কি করছে?

উল্লেখ্য, ক্রিস্টোফার হিচেন্স প্রাথমিকভাবে মারক্সিস্ট জারনালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ইরাক যুদ্ধের সমর্থন করেন, এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন। ব্রিটিশ এমপি জর্জ গ্যালওয়ের সঙ্গে হিচেন্সের ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ডিবেট ইউটিউবে আছে। দেখতে পারেন এই মহান ইসলামোফোব কীভাবে নিজের দ্বিচারিতার কারনে হাসির পাত্রে পরিণত হন। অপরদিকে স্যাম হ্যারিস ট্রাম্প, এবং হোয়াইট সুপ্রিমিজমের পক্ষে সময়ে সময়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাদের এই দ্বিমুখী মানবতাবাদ নিয়ে পরে কোন সময় বিস্তারিত লিখব।

৫।
সবশেষ কথা এই যে, নাস্তিক্যবাদ, এখন একটা ক্যারিয়ারও। এথিজম অ্যাজ এ ক্যারিয়ার লিখে গুগল করেন, স্বপক্ষে অনেক তথ্য পাবেন। ইসলামোফোব বিল মাহেরের টক শোতে হলিউড সুপারস্টার বেন অ্যাফ্লেক স্যাম হ্যারিসকে ইসলামোফোবিয়া স্প্রেড করাকে হ্যারিস নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছেন বলে অভিযুক্ত করেন।

এই ক্যাপিটালিজমের নামে টেকনো ফিউডালিজমের যুগে যেকোনো কর্পোরেট প্রফেশনে নিজের পয়েন্ট অফ ভিউটা খাড়া করায়ে রাখাই মূল লক্ষ্য, নীতিনৈতিকতা অনেক পরের ব্যাপার। এথিজম, এবং ইসলামোফোবিয়া যারা পেশা হিসেবে নিয়েছেন, এক্স মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করে যারা ইউরোপে অ্যাসাইলেমসহ কিছু রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন, তারা যা বলবেন তার সবই সার্বজনীন, এবং নৈতিক - আমি তা মানতে রাজি না।

সূত্রঃ

১। মারটিন হাইডেগারের সাক্ষাৎকার - view this link

২। ক্রিস্টোফার হিচেন্স, স্যাম হ্যারিসের ব্যাপারে নোম চমস্কি - view this link

৩। ইরাকে ইঙ্গো মার্কিন যুদ্ধের বিষয়ে জর্জ গ্যালওয়ে, আর ক্রিস্টোফার হিচেন্সের ডিবেট - view this link

৪। বিল মাহেরের টক শোতে স্যাম হ্যারিসের ইসলামোফোবিয়া ব্যবসায় নিয়ে বেন অ্যাফ্লিকের মন্তব্য - view this link


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২১ দুপুর ১২:১৮
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার 'কাকতাড়ুয়ার ভাস্কর্য'; বইমেলার বেস্ট সেলার বই এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৩৭


'অমর একুশে বইমেলা' প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম তারিখ থেকে শুরু হলেও এবার করোনা মহামারির জন্য তা মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে। বাংলা একাডেমি আয়োজনটা যাতে সফল হয় সে চেষ্টার কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুকানো জব মার্কেট: করোনা কালে চাকরী খোঁজার একটি ক্ষেত্র

লিখেছেন শাইয়্যানের টিউশন (Shaiyan\'s Tuition), ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:১৭



আপনি যদি ইন্টারনেট ঘাটেন, তাহলে দেখতে পারবেন, সেখানে লুকানো কাজের বাজার সম্পর্কে হাজার হাজার আর্টিকেল আছে। এই আর্টিকেলগুলো থেকে বুঝা যায়- এই কাজের বাজারে থেকেই ৭০-৮০% চাকুরী প্রার্থী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কর্তৃপক্ষ কোনও রেকর্ড খুঁজে পায়নি - একটি অশরীরী অভিজ্ঞতা

লিখেছেন ডাব্বা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১:০২



ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র কারিকুলাম ডিভালাপারদের তিনদিনের সম্মেলনে যোগ দেয়ার ইনভিটেয়শ্যন(invitation) যখন পাই তখন হাতে দু সপ্তাহ সময় আছে। প্ল্যান করার জন্য সময়টা একটু টাইট। তবে চিঠিতে বলে দিয়েছে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৩:৫১



করোনায় শেখ হাসিনার বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মানুষের মৃত্যু হয়েছে; আমার ধারণা, এই মানুষগুলো শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে অনেক প্রিভিলীজ ভোগ করেছেন; ফলে, এদের পক্ষে করোনা থেকে দুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অ্যাপয়েন্টমেন্ট আপু আর গারবেজ কাকু

লিখেছেন মা.হাসান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:০৭




অফিস থেকে বাসায় ফিরছি, ১৮ নম্বর বাড়ির সামনে একটা জটলা, কিছু হইচই, দেখে থমকে দাঁড়ালাম। তেতলার ব্যালকনিতে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট আপুর অগ্নিমূর্তি, দোতলায় মাখন ভাবির ঝাড়ু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×