somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুকের মধ্যে বটবৃক্ষ, তাহার ছায়ায় আমি - ১

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মুহূর্তে, ব্লগপোস্টটি টাইপ করা শুরু করার আগে, নিজের একটা গল্পের ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করছিলাম। বিদেশী একটা প্রতিযোগিতায় গল্প সাবমিট করেছি। মাতৃভাষা বাংলায়। প্রাথমিক স্ক্রিনিং এ নির্বাচিত হবার পর তারাই অনুবাদ করে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে মতামত, ও পুনঃ সম্পাদনার জন্য। ঐ কাজটাই করছি।

তার আগে কিছুক্ষণ এই ব্লগের পুরনো কিছু সারথির ব্লগনীড়ে ঘুরছিলাম। ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার বারো বছর পার হয়ে গেছে। এই বারো বছরে, ব্লগে কম মানুষজনের লেখাপত্রের সঙ্গে তো পরিচয় হয় নি। তাদেরই কাউকে কাউকে, তাদের নীড়পাতায় গিয়ে, খুঁজে দেখলাম, বোঝার চেষ্টা করলাম, কে কেমন আছেন। শেষ পোস্ট কবে। নিজের পোস্টে শেষ মন্তব্য কবে। অন্যের পোস্টে শেষ মন্তব্য কবে। কেউ কেউ মারাও গেছেন, লক্ষ্য করলাম। তাদের চিন্তাভাবনার একটা ম্যাপ, অনলাইন ফুটপ্রিন্টে রয়ে গেলো। চটকদার ছবি কিংবা ভিডিওর চে, পরিশীলিত, কিংবা কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা একটি সৎ ব্লগ পোস্ট, ফুটপ্রিন্ট হিসেবে অনেক ভালো।

১২ বছর, লম্বা সময়। কিন্তু কীভাবে যেন, চোখের পলকেই কেটে গেলো। হয়তো জীবনও এমনই। হয়তো বলছি, কারণ, মানুষের স্বাভাবিক বয়স্কালের মাঝামাঝি আছি। খোদা যদি চান, জীবন আরও কিছু দেখা বাকি।

ব্লগ যখন খুলেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন আমি। একটা প্রেম করি। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করি। বই পড়ি। আর লিখি।

এখন চাকুরীজীবনে থিতু হয়েছি। বিয়ে করেছি। সন্তানের বাবা হয়েছি। বই পড়ার সময় আগ্রহ, কমে গেলেও দাঁতে দাঁত কামড়ে চেষ্টা করছি প্রতিদিন কিছু কিছু পড়ার (এই মুহূর্তে ডেভিড সালাইয়ের লেখা বুকার পুরষ্কার ২০২৫ বিজয়ী উপন্যাস ফ্ল্যাশ পড়ছি)। লিখছি। লেখার অভ্যাসটা আগের চে আরও অনেক নিয়মিত, আরও গভীর, আরও ব্যাপক হয়েছে। লেখালিখি, আমার পরিচয়, আমার সমার্থকই হয়ে উঠেছে।

বারো বছর আগে নির্ভরশীল ছিলাম অন্যদের ওপর। এখন অনেক মানুষ আমার ওপরে নির্ভরশীল।

যাক, মোদ্দাকথা বলতে চাইছি, সময়টা কীভাবে হুট করেই যেন কেটে গেলো।

জীবন কি তাহলে এটাই?

জীবনের সহজ সাধারণ বোঝাপড়া, সরল ভাষায় লিখবো এই ব্লগে আগামী বছরে, যদি আয়ু থাকে, এই ইচ্ছা পোষণ করছি।

ফেসবুকে আমরা সবাই ঝুঁকে পড়েছিলাম। মানুষ তো কমিউনিকেট করার সহজ মাধ্যম খোঁজে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্লগকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল হঠাৎ করেই তার আনুসাঙ্গিক নানা সুবিধার কারণে। গতবছর ৫ অগাস্টের পর খেয়াল করে দেখলাম, আমি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার লেখার অডিয়েন্সদের চিনছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সংযুক্তদের অধিকাংশই আমার স্টুডেন্ট। এর বাইরেও যারা আছে, তারাও, সবাই হঠাৎ উন্মাতাল হয়ে উঠেছে রাজনীতি নিয়ে।

আমি ট্যাক্স দিই ২০১৭ সাল থেকে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সৎ উপার্জনের আয় থেকে। নাগরিক হিসেবে যা যা দায় দায়িত্ব, চেষ্টা করি ঠিকঠাক পূরণ করবার। তবুও দেখি, অপেক্ষাকৃত তরুণ যারা, জেন জি যাদের বলে, তাদের কাছে আমি সুনাগরিক নই। যার যার দলের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট না দিলে, আমি যথেষ্ট দেশপ্রেমিক বলে পরিগণিত হচ্ছি না। রুটিরুজির জোগাড়, সরকারকে ট্যাক্স দেয়া, তারপর অপরের পাকা ধানে মই না দেয়া ছাড়া যে সময়টুকু নিজের হাতে পাওয়া যায়, সে সময়টুকু আমি দোয়েল ফড়িং দেখে কাটাবো, এই আমার নিয়ত।

কিন্তু সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ট্রেন্ডে গা ভাসাতে হয়।

তাই, মোটামুটি এক শূন্য অডিয়েন্সের উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে ব্লগে লিখবো, সামনের বছর থেকে নিয়মিত।

যাদের মন্তব্য ভালো লাগে না, তাদের অনেককে ব্লক করে রেখেছি। যাদের মন্তব্য ভালো লাগবে না, তাদেরকেও কমেন্ট ব্লক করে রাখবো ভবিষ্যতে। অনেক তো হল। নিজের মতামতের শ্রেষ্ঠত্ব, সঠিকটা তর্ক করে প্রমাণ করতে আর ভালো লাগে না। তর্কই আর ভালো লাগে না।

এইভাবে যদি আরও দু'চারজন মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়, হলো। ভালো লাগবে অনেক পুরনো সাথী যারা, যাদের সঙ্গে ব্লগে আলাপ হতো আগে এক সময়, এখন আর হয় না, তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ হলে।

না হলেও ক্ষতি নেই।

এই ধারাবাহিকের নাম দিলাম - বুকের মধ্যে বটবৃক্ষ, তাহার ছায়ায় আমি।

সবাইকে নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:২৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাহমান কলমের সাহায্যে কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দিয়ে থাকেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×