আমাদের মহল্লায় প্রতিবেশী বাড়িওয়ালার একটা বারোয়ারি মুদি দোকান আছে। সেই দোকানে ফাই ফরমাশ খাটার জন্য একবার তিনি গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন একটা ছোট মেয়েকে। বয়স ৭ - ৮। মেয়েটার কাজ ছিল, দোকানে কোন প্রোডাক্ট ফুরিয়ে গেলে বাসা থেকে সেই জিনিস নিয়ে এসে দোকানে পৌঁছে দেয়া। ভারী না খুব জিনিসগুলো, এমন। হালকা মালামালের কার্টন। সবচে ভারী ছিল সম্ভবত চা ভর্তি ফ্লাক্স। চা আর কফিও বিক্রি করতেন তিনি। ফুরিয়ে যেতো সময়ে সময়ে। সেটাই সেই বাচ্চা মেয়েটা টানতে টানতে পৌঁছে দিতো, বাসা থেকে দোকানে। দূরত্ব, হাঁটা পথে দু' তিন মিনিট। অল্প রাস্তা।
একদিন সকালে বেড়িয়েছি অফিসের উদ্দেশ্যে। দেখলাম বাচ্চা মেয়েটা, হিজাবে মাথা জড়ানো, একটা মলিন ফ্রক, পাজামা পরে, দু' হাতে দুটো ফ্লাক্স টানতে টানতে এগিয়ে চলছে দোকানের উদ্দেশ্যে।
আমি মেয়েটার চোখে মুখে যে বেদনার ছাপ দেখেছিলাম, আমি জীবনে এর চেয়ে কষ্টের কোন দৃশ্য সামনাসামনি দেখি নি। মেয়েটা সম্ভবত আমার চোখে সেই সহানুভূতির ছায়া দেখতে পেয়েছিল। তার মুখ, সেই বাচ্চার মুখ, অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক সামাজিক অবস্থায় থাকা এক বয়স্ক মানুষের চোখে সেই সহানুভূতিকে করুণা হিসেবে পাঠ করেছিল কি? জানি না। কিন্তু তার চোয়াল আর শক্ত হয়ে উঠেছিল। মুখ, আরও অন্ধকার।
মেয়েটাকে আমি বেশিদিন আর দেখি নাই মহল্লায়। কিন্তু সেই এক সকালে দুজনের মুখোমুখি দাঁড়ানোর বেদনা আমি আজও বুকে বয়ে নিয়ে বেড়াই।
সামান্য অসহায় এক লেখক হিসেবে আমি যতদিন এই ছোট মেয়েটার কষ্টকে শব্দে রূপান্তর করতে না পারবো - আমার লেখালিখির কোন অর্থ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



