জে.কে. রাওলিয়ের যে হ্যারি পটার বইটি কিনার জন্য মাইলের পর মাইল লাইন ধরতে হয় সে বইটির নিউজ প্রিন্ট কপি মাথায় নিয়ে এক বই বিক্রেতা বিক্রি করতেছিল তরকারির মত এমন একটি ছবি দেখছিলাম পত্রিকায় একদিন,
একটা বইয়ের কয়েকটা সিরিজ বের করে সে একজন মিলিওনিয়ার, সেরা ধনীদের একজন অথচ হ্যারি পটার বইটার প্রথম খন্ড দীর্ঘ দিন কোন প্রকাশক প্রকাশ করতে রাজী হয় নি,
বাংলাদেশে যে পরিমান ভালো রাইটার আছে তারা যদি বইয়ের ন্যায্য মূল্য পেত, তাহলে প্রথম শ্রেণির বাইশ হাজার কোটি পতি লেখকরা থাকত, সরি টু সে ইয়ু আর গ্রেট রাইটার বাট দুখু মিয়া,
যে দেশে জ্ঞানের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না সে দেশে জ্ঞানী জন্মাতে পারে না, এই প্রবাদটা যদি সঠিক হতো তাহলে যুগে যুগে একটি প্রতিভা ও বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করত না, আমাদের মূল্যায়নটা হয়ত এই ধরনের,
এই চা মামা, দুখু মিয়ার(নজরুল) চায়ের বিলটা নিস না, ছেলেটা ভালো লেখে, বিলটা আমিই দিবো,
গল্পটা যা লেখছ মামা, এক্কেবারে প্রাণ জুড়ায় গেছে আসো মুড়ি খায় একসাথে,
আরে লেখক তুমি, তোমার অমুক কবিতার সমুক লাইন দিয়ে তো গার্ল ফ্রেন্ড পটিয়ে পেললাম, এত্তো আবেগ তোমার লেখায়!!
তো যাক গে, এই বাংলার বুকে কারো এইম ইন লাইফ লেখক হবে কখনো কারো ছিল না, পথ চলতে চলতে এখানে লেখক সৃষ্টি হয়, নিজের ভালো লাগার গল্প লিখতে লিখতে অন্যের জীবন গল্পকে চুয়ে যায়, এখানে লেখনি পেশা না নেশা, একটি গল্প বলি, নজরুল যখন আমাদের সন্ধীপ গিয়েছিলেন তার কাধে একটা ব্যাগ ছিল, সে কোন কিছু লেখলে ওই লেখাটা দলাই মোচরায় বল আকৃতি করে ওই ব্যাগে রাখত, কেউ লেখা চাইলে ওখান থেকে একটা বল বের করে দিত,
খুব ক্ষুধা লাগলে হয়ত মানুষ কবিতাটি বের হয়, রেগে থাকলে বিদ্রোহী বের হয়, বাচ্ছাদের সাথে খেলা করার পর কাটবিড়ালী বের হয়, এভাবে পল্লী কবির বৃষ্টি দেখলে পাল্লী বর্ষা কবিতার উদ্ভব হয় আবার রূপাইকে দেখলে নকশী কাথার মাঠ সৃষ্টি হয়, একজন রূপাই বৃদ্ধ বয়সে জানতে পারে তাকে কেউ হিরো বানিয়ে দিয়ে গেছে, তার গ্রামের ওই ছেলেটি, সে এখন ইতিহাসের অংশ, ইত্যাদি এবং জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে তাকে আজ বড় প্রয়োজন,
বিশ্বের কাছে বদ্বীপ মানে বঙ্গোপসাগরের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা দুঃসাহসী কিছু মানুষের নাম, তেমনি বদ্বীপের লেখকরাও, পুরো বিশ্বের লেখকদের কাছে তোমরা অনুপ্রেরণা, তোমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে এমনকি যুগে যুগে প্রমাণ করেছে, লেখা পেশা নয় নেশা ৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



