আমি যখন প্রথম মোবাইল কিনেছি তখন আমার নাম্বারের শেষ সংখ্যার আশে পাশের মানুষগুলোকে প্রতিবেশী মনে করে ফোন করতাম!
.
আহা! তার আমার নাম্বারের মতো অবিকল একটি নাম্বার আছে!
.
আমার নাম্বারের শেষ সংখ্যা ৩৭৫ সুতরাং প্রথম ফোনটি পেতো ৩৭৬ তারপর ৩৭৭ এরপর ৩৭৮ এভাবে চলতে থাকতো!
.
এভাবে ফ্রি পেলে নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া চলতো! কেউ বলতো, হালার পো হালা তোর ঘরে মা বোন নেই! আমার বউয়ের নাম্বারের ফোন দিছোস ক্যান!
.
কেউ বা বলতো, 'প্লিজ আপনার নাম ঠিকানাটা বলুন!
.
বললাম আবদুর রব শরীফ ৷ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি! ফোন করেছি সিদ্দিক্কা রে ! আপনি কি মিঃ সিদ্দিক বলছেন? ও সরি বলে তারপর রেখে দিতাম!
.
একজন তো বললো, হায় আল্লাহ! আপনার সাথে আমার কতো মিল! শুধু শেষে ৫ এর জায়গায় ৭ !!! কথা না বাড়িয়ে কেটে দিলাম!
.
কারণ মূল প্রতিবেশী ই খুঁজে পাচ্ছি না!
.
তো একদিন ফোনের ঐ প্রান্ত থেকে ভেসে আসলো সেই কাঙ্খিত ক্ষণ!
.
ইউরেকা বলে লাফিয়ে উঠলাম! আমি পাইলাম! আমি ইহাকে পাইলাম! সে তো মানব না মানবী!
.
আহা কি সুমুধুর সুর! বজ্রপাতের পর এক পশলা বৃষ্টি!
.
১০-১২ বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি দেবো না কিছুতেই আর হারাতে হ্যালো শুনতে পাচ্ছ কি?
.
চলছে কথা! কন্ঠের মিষ্টি বন্দনা!
.
ওপাশ থেকে হঠাৎ করে কন্ঠটি অভিমানের সুরে বলে উঠলো,
.
'ভাইয়া মানুষকে এভাবে অপমান করা ঠিক না! আমার কন্ঠটি মেয়েদের মতো এটা কি আমার দোষ! আপনার কন্ঠটি এমন হলে আপনি কি করতেন!'
.
যাক গে সে কথা!
.
প্রকৃতিতে যে যার অবস্থানে সুন্দর! মেয়েদের যেমন মেয়েদের কন্ঠে তেমনি ছেলেদেরও ছেলেদের কন্ঠে!
.
কিন্তু যখন দেখি একটি মেয়ে ছেলেদের মতো ফ্যাশন করে তখন আমার মেয়ে কন্ঠের অধিকারী ছেলেটির কথা মনে পড়ে! সেটা ছিলো প্রকৃতগত! আর এটা আকৃতগত!
.
যাদের উভয় লিঙ্গ আছে তাদের যদি হিজরা বলা হয় যারা উভয় লিঙ্গের ভঙ্গিমা করে তাদের কেনো মডেল বলা হয় আতেল না বলে? প্রশ্নটি রেখে গেলাম!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




