somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৌশিক থেকে মাশরাফি

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৯ সালে কৌশিক যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি এমন!
.
প্রথম ম্যাচেই ইঞ্জুরিতে পড়েন কৌশিক! তারপর দেড় বছর পর আবার ফিরে এসে কৌশিক থেকে একজন সফল অধিনায়ক মাশরাফি হওয়ার গল্প পৃথিবীর ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই!
.
বিশ্ববিদ্যালয় সেকেন্ড ইয়ারে আমি দুইটা সাপ্লি দুইটা ইমপ্রোভ খেয়ে একটুর জন্য ইয়ার ক্রাশ থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম! বলা যায় জীবনের প্রথম হার! আমার মনে হয়েছিলো আমি জীবনে আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না!
.
সবাই রেজাল্ট নিয়ে উল্লাস করছে! আমি ভাবছি এরপর সমাজে মুখ দেখাবো কি করে! বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে অনার্স কমপ্লিট না করে বাড়ি ফিরতে হবে!
.
আমার বন্ধু শাহীন আমাকে বলেছিলো দোস্ত আজ আমার সাথে থাক কারণ বাসায় গেলে তোর অনেক খারাপ লাগবে! বন্ধুদের সাথে থাক মন ভালো থাকবে!
.
আমি বাসায় এসেছি! বলে রাখি ২০০১ সালে মাশরাফি যখন জিম্বাবুয়ের সাথে প্রথম অভিষেক হয় তখন আমি মে বি ক্লাশ সেভেনে! ক্লাশ নাইনে এসে আমি টিউশনির টাকা দিয়ে মাশরফির বিভিন্ন এঙ্গেলের একটি ক্যালেন্ডার কিনেছিলাম! তখন ম্যাক্সিমাম মানুষের পকেটে, ঘরে, টেবিলের কাঁচের নিচ থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যানের ব্লেডে মাশরাফির ছবি থাকতো!
.
আমি সেই পুরনো ক্যালান্ডারটি বের করে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম! জীবনে যদি কখনো অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করতে পারি তাহলে সেই ক্রেডিট মাশরাফিকে দিবো বলে! আমি মাস্টার্সে ফাস্ট ক্লাশ পেয়েছি কিন্তু অন্ধকার গর্ত থেকে উঠে আসার জন্য আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো একজন মাশরাফি!
.
আমি মাশরাফি খুব কাছ থেকে দেখেছি কারণ সে যখন অভিষেক হয় তখন আমি পৃথিবী বুঝতে শিখেছি মাত্র(সিক্স/সেভেন) মাত্র! আজ যখন তাকে অবসর নিয়েছে শুনি তখন পড়ালেখা শেষ করে চাকরিও বয়সও একবছর হয়ে গেছে!
.
দেখেছি এগার বার চোট পেয়ে মাঠের বাহিরে থাকার পর ক্যারিয়ারে আবার ফিরে আসা সম্ভব!
.
শুনেছি একজন সৌরভ গাঙ্গুলি যে কিনা ভারতের আইডল এন্ড আইকন ক্রিকেটার সে বলছে, 'ইশ!! আমাদের যদি একটি মাশরাফি থাকতো!'
.
কেনো বলবে না? যে ক্রিকেটার ইনজুরি নিয়েও বলতে পারে, 'ফ্যাকচার যেহেতু নেই তাই পেইন কিলার নিয়ে খেলতে নামবো কোন অসুবিধা হবে না কারণ গত ম্যাচও তো পেইন কিলার ঔষুধ খেয়ে খেলেছি!'
.
আমাকে পৃথিবীর বুকে এমন আরেকজন খেলোয়ার দেখাতে পারবেন যে প্রতি ম্যাচ খেলার পর থ্যারাপি নিতে হয়? তাহলে আমি লেখাটি ডিলিট করে দিবো!
.
বুকে হাত দিয়ে কোন খেলোয়ার কি মাশরাফির মতো বলতে পারবে, আমার পায়ে হাজারটা অস্ত্রোপচার হোক তবুও আমি এই দৌড় থামাতে চাই না!
.
আমি বিশ্বাস করি আমাদের মাশরাফি প্রজন্ম কখনো হারবে না একদিন না একদিন সফল হবেই! আমাদের সফল হওয়ার জন্য আব্রাহাম লিংকনের জীবন কাহিনী লাগবে না একজন মাশরাফির জীবন কাহিনীই যথেষ্ট! বিলিভ মি এন্ড ট্রাস্ট মি!
.
ম্যাশের অবসর নিয়ে আমি শুধু একটি কথায় বলবো,
হুইল চেয়ার নিয়ে দ্রুত বেগে আসছেন মাশরাফি বল ছুড়ে মারলেন ঠিক অফ স্টাম্পের উপর দিয়ে! ব্যাটসম্যান আবেগে অলতো করে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়ে চোখ মুচতে মুচতে প্যাভলিয়নে ফিরে গেলেন!
.
এমন দৃশ্য আমি অন্তত দেখতে চাই না! আমি ছোট থেকে আজ বুড়ো হয়ে যাচ্ছি সে এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেলে যাচ্ছে! আমি খেলা চাই না আমি মাশরাফিকে চাই! আমি তাকে পঙ্গু দেখতে চাই না!
.
আপনারা কি তাকে পঙ্গু করে মেরে ফেলবেন? আসেন তাকে জোর করে অবসরে নিয়ে যায় না হলে এই ক্রিকেট পাগলা একদিন খেলতে খেলতে মাঠেই মারা যাবে!
.
কেউ কেউ খেলতে নামে না বরং যুদ্ধে নামে!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:৫৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×