চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ফাস্ট ইয়ারে ছিলাম তখন আমার একটি সাইকেল ছিলো নগদ ৫২০০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলাম !
.
টিউশনি করে নিজের পকেট খরচ থেকে জমিয়ে জমিয়ে কিনেছিলাম সাইকেলটি আহ ! কি অপূর্ব ফিলিংস ! সাইকেলের শিক মুচতে মুচতে গোল্ডেন ইয়ারটি চলে গেছে !
.
সাইকেলের কেয়ারিং করতে করতে ভুলেই গেছিলাম মূলতো বয়সটা ছিলো শেয়ারিং কেয়ারিংয়ের...!
.
যে ছেলেটির কথা বলতে লিখতে বসেছি তার বাবা প্রথমে সাইকেল চালাতো এর এক দশক পর হোন্ডা তারও চার বছর পর অফিস থেকে একটি টয়োটা করোলা গাড়ি বরাদ্দ পেলো !
.
টয়োটা করোলা হলো সাধারণ মানুষদের শখের গাড়ি কারণ প্রতি ২৩ সেকেন্ডে তৈরি হয় একটি টয়োটা করোলা! আর ৩৬ সেকেন্ডে দুনিয়ার কোথাও না কোথাও কেউ একটি করোলা কিনে নেয়!
.
বাবার স্বপ্নের গাড়িটি নিয়ে ছেলে নাঁক ছিটকায় তার যথেষ্ট কারণও আছে সে জন্মেই দেখেছে তার বাবার একটি গাড়ি আছে! তা করোলা!
.
মরসিডিজ,ল্যাম্বরগিনি, রোলস রয়েস,পেরসে, হ্যামার, লিমুজিনের কোন আপডেট মডেলের গাড়ি মানুষের স্বপ্ন হতে পারে কিন্তু করোলাও স্বপ্নের গাড়ি হবে সে এটা মানতে পারেনা! বাবার স্বপ্নকে তার ক্ষেত মনে হয়! সাইকেল থেকে একটি গাড়ির মালিক হওয়ার গল্পগুলোকেও...!
.
সে কখনো উপলব্ধি করতে পারবে না একজন সাইকেলওয়ালা থেকে হুন্ডাওয়ালা মারিয়ে কিভাবে একজন নিম্ন মধ্যবিত্তের সন্তান করোলাওয়ালা হয়েছিলো!
.
তেমনি আমরা যারা একাত্তরের পরে জন্মেছি তারা রেডিমেট একটি স্বাধীনতা পেয়েছি! আমরা কখনো বুঝবো না দেশের জন্য ধর্ষিত হওয়ার আর্তনাদ কতটা গভীর! বেয়ানটের খোঁচায় মাংশ খুবলে যাওয়ার অনুভূতি! তবুও আমার দেশ চাই! স্বাধীনতা চাই! এই ফিলিংসে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ারও আনন্দ আছে! আমার সন্তানরা তো অন্তত স্বাধীনতার সুখ পাবে! স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিবে! স্বাধীনতার মূল্য বুঝবে!
.
কিন্তু না বাবার তিল তিল কষ্টের অমূল্য করোলা টা কে জানতো তাদের কাছে ক্ষেত হয়ে যাবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




