somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কন্যাদায়গ্রস্ত

২৯ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভদ্রলোক প্রথম মেয়ে হওয়ার পর থেকে প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে জমানো শুরু করেছিলো এভাবে ২০ বছরে সে ৪,৮০,০০০ হাজার টাকা জমিয়েছিলো!
.
আজ মেয়ের বিয়ে, ২৪০ মাস পর সে টাকাগুলো উঠাতে যাচ্ছে! মেয়েটির মা মারা যাওয়ার আগে বড় ইলিশ খেতে চেয়েছিলো, বাবা উঠে ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলো, মা বারণ করে বললো, মেয়েদের ভবিষ্যত আছে!
.
খবরদার ঐ টাকায় তুমি হাত দিবে না!!!
.
বড় মেয়ের বিয়ে, অনেক হিসেব নিকেশ করে দেখলো পাঁচ লাখে বিয়ের সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে যাবে! ঝামেলা হলো বিয়ের পর তো বদনা থেকে শুরু করে ফ্রিজ টিভি সোকেস সোফা এগুলো নিয়ে,
.
অসময়ে কার থেকে দুই লাখ টাকা লোন পাবে! আরো দু দুটা মেয়ে আছে! তৃতীয় মেয়েটা একটু কালো,
.
কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ! মেয়ের বাবা! আহারে মেয়ের বাবা! কন্যাদায়গ্রস্ত মেয়ের বাবা!
.
এই বিশ বছরে এমন কোন দিন নেই যেদিন কদম আলীর মনে আসেনি কিভাবে মেয়েগুলো সুপাত্রে দান করবে, ওরা সুখী হবে তো! কেমন হবে ওদের সংসার,
.
একদিন বাবা স্বপ্ন দেখে তৃতীয় কালো মেয়েটি বাসায় এসে কাঁদছে, যৌতুকের চাপ নিতে পারছে না, কূট কৌশলে পেরে উঠছে না, ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠলো কদম আলী! মেয়ের রুমের দরজা বন্ধ! দরজার বাহিরে সকাল পর্যন্ত পায়চারি করছে!
.
সকাল হলো, মেয়ে ঘুম ভেঙ্গে জিজ্ঞেস করলো 'বাবা কি হয়েছে' তখন কদম আলী বলে উঠলো 'মা তুমি জানোনা তুমি কতটা কিউট, কখনো কেউ কালো বললে মনে করবে তার হিংসে হচ্ছে, প্রচুর হিংসে হচ্ছে'
.
মাঝে মাঝে তার মাথায় কিছু প্লান আসে! অনেক দূরে, যেখানে কোন পরিচিত মুখ থাকবে না, সেখানে আমার মেয়ের বিয়ে, আমি ফকির না, সাহায্য করলে অনেক অনেক সওয়াব পাবেন এমন অনুনয় করলে কেমন হয়!
.
রোজ তার ইচ্ছে হয় পায়ে ধরি, শত শত পা, প্রতি পায়ে পায়ে লক্ষী, দশ টাকা করে দিলে দশ হাজার, কেমন হয়! তবুও তো মেয়েগুলো সুখে থাকবে!
.
ভয় হয়! ভীষণ ভয় হয়! শিক্ষিত কোন এক শ্যুট ব্যুট পড়ে থাকা জামাই তার প্রেস্টিজ রক্ষার্থে কত কিছু আবদার করবে!
.
কদম আলীর মেয়ের বিয়েতে যদি কোন শালা বলে তরকারিতে লবণ বেশী হয়েছে থাপ্রাইয়া বলবো, 'যা খাচ্ছোস এগুলো ঘামে ভেজা জিনিস, রক্তের স্বাদও নোনা'
.
মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে দেওয়া সোফাগুলোতে যদি ঘুণ পোকা ধরে আমি জানবো পোকারা কাঠ চিনে রক্ত চিনেনা!
.
এই মেয়েটাকে যদি কখনো স্বামী ভালবাসি বলে তাহলে বলবো সে সোনা রূপা ভালবাসে, নর মাংসের মানুষটিকে না!
.
বাসর রাতে সে কেনো বউ *** সমাজকে **** পারে না!
.
মানুষের জন্য এখন সমাজ না, সমাজের জন্য মানুষ,
.
মানুষের জন্য এখন সংস্কৃতি না, সংস্কৃতির জন্য মানুষ,
.
চৌদ্দ পুরুষ করে গেছে, তোমাকেও এসব সংস্কৃতি পালন করে যেতে হবে! নাহলে সমাজ! হায়! সমাজ! হায় সমাজ!
.
তুমি সমাজ *** পারোনি বলে এখন মেয়ের বাবাকে ***
.
মেয়ের বাবা তো তোমারও বাবা! ছোটবেলায় তোমার বাবাকে একটা সাইকেল কিনে দিতে বলেছিলে যে থাপ্রাইয়া কান লাল করে ফেলেছিলো!
.
এই বাবা পারেনা! সত্যি পারেনা! মেয়ের বাবা, নাহলে বেত্রাঘাতে তোমার পাছা লাল করে ফেলতো!
.
এরপরে কোন শালা যদি বলে, এতো ভালবাসার পরও মেয়ে হলে কেনো বাবাদের মুখ অন্ধকার থাকে, মনে করবো সে অংক বুঝে না!
.
হে খোদা, আমাদের ছেলে দাও, তাহলে মেয়েও আসবে সাথে করে সবকিছু, ছেলেটাও আমার কাছে থাকবে!
.
বিশ বছর পর আজ কত স্মৃতি বুকে কবর দিয়ে কদম আলী মেয়েকে তুলে দিয়ে আসলো, সত্যি হঠাৎ করে কলিজাটা আলাদা হয়ে গেলো, কেউ টেরও.......!
.
কালো মেয়েটার কি হবে! কত্তো কিউট! মানুষ কেনো বুঝে না!
.
আজ খুওব মনে পড়ছে, বাবা তখন প্রিন্সের মতো ছিলো, বিয়ের সময় কতো মেয়ে দেখেছিলো, এই মেয়ের এই সমস্যা, ঐ মেয়ের ঐ সমস্যা,
.
এমন হলে কেমন হতো, অনেকগুলো মেয়ের মধ্যে এটা লম্বা ফর্সা কিউট, সুতরাং এটা আমার মেয়ে বাকীগুলো.....!
.
মেয়ে পৃথিবী না বুঝলেও বাবা জানে তুমি কতটা সুন্দর শূভ্র কিউট,
.
নেক্সট বলে দিও, বাবা বলেছে 'আমি সবার সেরা' 'রাজকন্যা' 'রূপবতী' 'গুণবতী'
.
আসলে বাবাদের দৃষ্টিভঙ্গীগুলো এমনি, তুমি বাবার মতো ভালো হও, আমি তোমার চোখে দেখতে এমনি হবো! হতে থাকবো!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:১৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×