somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারানোর গল্প

২২ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল পাশের প্রতিবেশী মারা গেলো, কয়েক দিন পর পর কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে, বাবাকে ওরা মামা ডাকে সেই সুবাদে আমার সিদ্দীক নানা হয় ৷
.
মানুষটা প্যারালাইজড হয়েছিলো কমপক্ষে পনের বছর আগে, এক সময় বন থেকে কাঠ কেটে নিয়ে আসতো, সেই কাঠ এখনো রয়ে গেছে ৷ ছোট ছেলে বলতেছে, আমার বাবার কেটে আনা কাঠ...!
.
চাকরি করতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ট্রান্সপোর্টে, বদলি হয়ে পরে ছেলে করে, অনেক বছর আগে প্রায় সময় আমাদের বাসায় এসে সুখের দুক্কের কথা বলতো ৷
.
সেই রকম সুঠাম দেহের মানুষ ছিলো ৷ বড় ছেলে আমার বন্ধু, একসাথে হাজারো স্মৃতি, শেয়ারে ফুজি ফিল্ম কিনে চলে যেতাম দূর বহুদূর ৷
.
এক রিলে ৩৬টা ফটো তোলা যেতো, ক্যামেরা ধার করা ৷ দুইজনে অাধা ঘন্টা ব্যাপী মুখে পাউডার মাখতাম, আমার সেই দিনগুলোর ছবিতে এখনো ছোপ ছোপ তিব্বত পাউডার লেগে আছে ৷
.
আমাদের এলাকার সবচেয়ে সুঠাম দেহের মানুষটি হঠাৎ বিছানা শয্যায়, বছরের পর বছর এটাই তার জীবন ছিলো, ছোট্ট একটি খুপরিতে পরিচিত কারো কন্ঠ শুনলে চোখে মুখে আনন্দ কচকচ্ করতো, শেষ কবে উঠে বসতে পেরেছে আমি জানি না ৷
.
প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট করে লাঠিসোঠা দিয়ে একটু আধটু হাঁটতে পারতো ৷ আধা মাইল যেতে ঘন্টা খানেক ৷ এভাবে মাঝে মাঝে অফিস যেতো, দেখে আসতো পুরানো কলিগ ৷ পুরানো মায়া! বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাশ শেষে রাস্তার এপাশে ওপাশে দেখা হতো প্রায়,
.
আসসালামু আলাইকুম বললে ওয়ালাইকুম সালাম, ওয়া রহমাতুলিল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহু, ওয়া মাগফেরাতু, ওয়া জান্নাতুহু বলে প্রায় এক মিনিট সালামের উত্তর দিতো ৷
.
তাই ওনাকে আমি শখ করে হলেও সালাম দিতাম, অনেকেই দিতো ৷ কেউ সালাম দিলে তার চোখে মুখে যেনো আনন্দের রেখা ফুটে উঠতো, হয়তো এই সালামের বরকতে সাতাশে রমজানের এমন অন্তীম মুহুর্তে আল্লাহ তার কাছে নিয়ে গেলেন!
.
কয়েক মাস আগে বাম পাশের প্রতিবেশী মুরুব্বী, আজ ডান পাশের প্রতিবেশী মুরুব্বি, এভাবে চলে যাচ্ছেন আমার ছোট বেলার দেখা সবচেয়ে সবল এবং চমৎকার মানুষগুলো ৷
.
ছোট বেলায় থুতনি পাঠানোর পর বাবা অফিস ছিলেন বাম পাশের দাদা কাঁধে করে নিয়ে গেছেন মেডিক্যালে, আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, একদিন তাকেও আমি কারো কাঁধে করে চলে যেতে দেখেছি ৷
.
এভাবে পৃথিবীতে একজনের কাঁধে করে আরেকজনের ঠাঁই হয় ৷
.
এক পর্যায়ে শুকিয়ে যেনো কাঠ হয়ে গেছে ৷ শেষ যখন গত রাতে কান্নার আওয়াজ শুনে দেখতে গেলাম, মনে হলো নিষ্পাপ শিশু ৷ মুখে অক্সিজেন লাগানো ৷ হালকা শ্বাস নিচ্ছে...!
.
আশপাশে ঘিরে কেউ কোরআন শরীফ পড়তেছে, কেউবা কান্নাকাটি, জীবনের শেষ সমাধান ৷
.
সব সময় আমাকে আন্নে বলতো, এখনো কানে বাজে, আন্নে ভালা আছেননি?
.
লতা দিয়ে পস্রাব করতো দিনের পর দিন, গুটিশুটি হয়ে শুয়ে থাকাই ছিলো যেনো জীবনে নিয়তি ৷ জীবন নিয়ে অথচ আমাদের কতো বড়াই!
.
কেউ মরে গেলে জানাজা পড়ে এসে স্মৃতিচারণ করি, দুদিন আগে কলিগ নিয়ে লিখলাম, তারো কয়েকদিন আগে প্রিয় স্যার...দুদিন পর কাকে নিয়ে লিখবো জানি না! মৃত্যু এমনি ৷ কে কখন কেনো কিভাবে চলে যায় বলা যায় না ৷
.
কাছের মানুষ ছাড়াও আরো কিছু আগে ইরফান খান, অধ্যাপক আনিসুজ্জামনন, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী...এভাবে কেবলি বিদায় নিয়ে লিখতে হচ্ছে ৷
.
'মসজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুর, মোর জীবনের রোজ কেয়ামত ভাবিতেছি কত দূর' কবর কবিতার লেখকও একদিন চলে গিয়েছে! থাকার কোন সুযোগ নেই ৷
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×