somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নূহ (আঃ) কি সত্যিই ২য় আবুল বাশার?

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নূহ (আঃ) মহাপ্লাবনের জন্য বিখ্যাত। ইসলাম, খ্রিষ্টান, ইয়াহূদী, হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মে এই মহা প্লাবনের বিবরণ পাওয়া যায়। তবে এই মহা প্লাবন আর তাঁকে নিয়ে অনেক মতভেদ আছে।
নূহ ছিলেন ইসলামের অন্যতম নবী এবং প্রথম রাসূল। তাঁর নামে কুরআনে একটি ছুরা আছে। কুরআনের মোট ৮৩টি আয়াতে তাঁর কথা বলা আছে। তিনি মোট ৯৫০ বছর বেঁচে ছিলেন। নওবুয়াত প্রপ্তির পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিজ সম্প্রদায়কে ঈমানের পথে ডাকতে থাকেন। কিন্তু তাঁর ডাকে সারা দেয় অল্পকিছু লোক। অতঃপর তিনি মহান ঈশ্বরের কাছে তাদের ধ্বসের দোয়া করেন। ঈশ্বর তাকে একটি কিস্তি তৈরি করতে বলেন আর তাতে নিজের পরিবার আর ঈমানদারদের নিতে বলেন। আর প্রতি প্রাণীর এক জোড়া সাথে নিতে বলেন। এত খুশী হয়ে তিনি তাঁর পাপীষ্ট সন্তানের জন্য দোয়া করেন যে ঈশ্বরের প্রতি ঈমান এনেছিল না। এতে ঈশ্বর তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হন। অবশেষে মহাপ্লাবন শুরু হয় আর এত ঐ এলাকার সবকিছু ডুবে যায়। শুধু প্রাণে রক্ষা পায় কিস্তিতে আরহণকারীরা। শেষে কিস্তি আরাবাত পর্বতে থামে। পানি কমে গেলে আবার নতুন জীবন শুরু হয়।
বিভিন্ন প্রন্থে এই ঘটনার কথা উল্লেখ আছে।
বাইবেল (তাওরাত)- আদি পুস্তকঃ
মাবুদ দেখলেন দুনিয়াতে মানুষের নাফরমানি খুবই বেড়ে গেছে, আর তার দিলের সব চিন্তা-ভাবনা সব সময়ই কেবল খারাপীর দিকে ঝুঁকে আছে। এতে মাবুদ অন্তরে ব্যথা পেলেন। তিনি দুনিয়াতে মানুষ সৃষ্টি
করেছেন বলে দুঃখিত হয়ে বললেন, “আমার সৃষ্ট মানুষকে আমি দুনিয়ার উপর থেকে মুছে ফেলব; আর তার সঙ্গে সমস্ত জীবজন্তু, বুকে-হাঁটা প্রাণী ও আকাশের পাখীও মুছে ফেলব। এই সব সৃষ্টি করেছি বলে আ মার মনে কষ্ট হচ্ছে।”
কিন্তু নুহ্-এর উপরে মাবুদ সন্তুষ্ট রইলেন (পয়দায়েশ, ৬:৫-৮)।
এই অবস্থা দেখে আল্লাহ্ নুহ্ কে বললেন, “গোটা মানুষজাতটাকেই আমি ধ্বংস করে ফেলব বলে ঠিক করেছি। মানুষের জন্যই দুনিয়া জোরজুলুমে ভরে উঠেছে। মানুষের সঙ্গে দুনিয়ার সবকিছুই আমি ধ্বংস করতে যাচ্ছি। তুমি গোফর কাঠ দিয়ে তোমার নিজরে জন্য একটা জাহাজ তৈরি কর। তার মধ্যে কতগুলো কামরা থাকবে; আর সেই জাহাজের বাইরে এবং ভিতরে আল্কাত্রা দিয়ে লেপে দিবে। জাহাজটা তুমি এইভাবে তৈরি করবে; সেটা লম্বায় হবে তিনশো হাত, চওড়ায় পশ্চাশ হাত, আর উচ্চতা হতে ত্রিশ হাত। জাহাজটার ছাদ থেকে নীচে এক হাত পর্যন্ত চারদিকে একটা খোলা জায়গা রাখবে আর দরজাটা হবে জাহাজের একপাশে। জাহাজটাতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থাকবে। আর দেখ, আমি দুনিয়াতে এমন একটা বন্যার সৃষ্টি করব যাতে আসমানের নীচে যে সব প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছে তারা সব ধ্বংস হয়ে যায়। দুনিয়ার সমস্ত প্রাণীই তাতে মারা যাবে (পয়দায়েশ, ৬:১৩-১৭)।
এরপরে মাবুদ নুহ্কে আবার বললেন, “তুমি ও তোমার পরিবারের সবাই জাহাজে উঠবে। আমি দেখতে পাচ্ছি, এখনকার লোকদের মধ্যে কেবল তুমিই সৎ আছ। তুমি পাকপশুর প্রত্যেক জাতের মধ্য থেকে স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে সাত জোড়া করে তোমার সঙ্গে নেবে, আর নাপাকপশুর মধ্য থেকেও স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে এক জোড়া করে নেবে। আকাশে উড়ে বেড়ায় এমন পাকপাখীদের মধ্য থেকেও স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে সাত জোড়া করে তোমার সঙ্গে নেবে। দুনিয়ার উপর তাদের বংশ বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তুমি তা করবে। আমি আর সাতদিন পরে দুনিয়ার উপরে বৃষ্টি পড়বার ব্যবস্থা করবো। তাতে চল্লিশদিন আর চল্লিশরাত ধরে বৃষ্টি পড়তে থাকবে। আমি ভূমিতে যেসব প্রাণী সৃষ্টি করেছি তাদের প্রত্যেকটিকে দুনিয়ার উপর থেকে মুছে ফেলব”। মাবুদের হুকুম মতই নুহ্ সব কাজ করলেন (পয়দায়েশ, ৭:১-৫)।
মহাপ্লাবন সম্পর্কে তৌরাত শরিফে বর্ণিত আছেঃ
দুনিয়াতে বন্যা শুরু হওয়ার সময় নুহ্রে বয়স ছিল ছ’শো বছর। বন্যা থেকে রক্ষা পাবার জন্য নুহ্ তাঁর স্ত্রী, তাঁর ছেলেরা এবং ছেলেদের স্ত্রীরা সেই জাহাজে গিয়ে উঠলেন। আল্লাহ নুহ্কে হুকুম দেবার সময় যা বলেছিলেন সেইভাবে পাক ও নাপাক পশু, পাখী ও বুকে-হাঁটা প্রাণীরা স্ত্রী-পুরুষ মিলে জোড়ায় জোড়ায় সেই জাহাজে নুহ্রে কাছে গিয়ে উঠল। সেই সাত দিন পার হয়ে গেলে পর দুনিয়াতে বন্যা হল। নুহ্রে বয়স যখন ছ’শো বছর চলছিল, সেই বছরের দ্বিতীয় মাসের সতেরো দিনের দিন মাটির নীচের সমস্ত পানি হঠাৎ বের হয়ে আসতে লাগলো আর আকাশেও যেন ফাটল ধরলো। চল্লিশদিন আর চল্লিশরাত ধরে দুনিয়ার উপরে বৃষ্টি পড়তে থাকল (পয়দায়েশ, ৭:৬-১২)।
তারপর থেকে চল্লিশদিন ধরে দুনিয়াতে বন্যার পানি বেড়েই চলল। পানি বেড়ে যাওয়াতে জাহাজটা মাটি ছেড়ে উপরে ভেসে উঠল। পরে দুনিয়ার উপরে পানি আরো বেড়ে গেল এবং জাহাজটা পানির উপরে ভাসতে লাগল। দুনিয়ার উপরে পানি কেবল বেড়েই চলল; ফলে যেখানে যত বড় পাহাড় ছিল সব ডুবে গেল। সমস্ত পাহাড়-পর্বত ডুবিয়ে পানি আরো পনেরো হাত উপরে উঠে গেল। এর ফলে মাটির উপর ঘুরে বেড়ানো প্রাণী, পাখী, গৃহপালিত আর বন্য পশু, ঝাঁক বেঁধে চরে বেড়ানো ছোট ছোট প্রাণী এবং সমস্ত মানুষ মারা গেল। শুকনা মাটির উপর যে সব প্রাণী বাস করত, অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে যারা বেঁচে ছিল তারা সবাই মরে গেল। আল্লাহ এইভাবে ভূমির সমস্ত প্রাণী দুনিয়ার উপর থেকে মুছে ফেললেন। তাতে মানুষ, পশু, বুকে-হাঁটা প্রাণী এবং আকাশের পাখী দুনিয়ার উপর থেকে মুছে গেল। কেবল নুহ্ এবং তাঁর সঙ্গে যাঁরা জাহাজে ছিলেন তাঁরাই বেঁচে রইলেন। দুনিয়া একশো পঞ্চাশ দিন পানিতে ডুবে রইল (পয়দায়েশ, ৭:১৭-২৪)।
কোরআনঃ
আমি নুহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছি, তারপর সে তাদের বলল, হে আমার জাতির লোকেরা, তোমরা আল্লাহতায়ালার দাসত্ব কবুল করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই; আমি তোমাদের ওপর এক কঠিন দিনের আযাবের আশংকা করছি (সুরা আল আ’রাফ, ৭:৫৯)।
তার জাতির নেতারা বললো, (হে নুহ্) আমরা দেখতে পাচ্ছি তুমি এক সুস্পষ্ট গোমরাহিতে (নিমজ্জিত) রয়েছো (সুরা আল আ’রাফ, ৭:৬০)।
সে বললো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, আমার মধ্যে কোনোই গোমরাহি নেই, আমি তো হচ্ছি সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর পক্ষ থেকে (আসা) একজন রসুল (সুরা আল আ’রাফ, ৭:৬১)।
(আমার কাজ হচ্ছে) আমি আমার মালিকের বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেব এবং (সে মতে) তোমাদের শুভ কামনা করবো, (আখেরাত সম্পর্কে) আমি আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে এমন কিছু কথা জানি, যা তোমরা জান না (সুরা আল আ’রাফ, ৭:৬২)।
অতপর আমি তার কাছে ওহি পাঠালাম যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে আমারই ওহি অনুযায়ী একটি নৌকা প্রস্তুত করো। তারপর যখন আমার (আজাবের) আদেশ আসবে এবং (জামিনের) চুল্লি প্লাবিত হয়ে যাবে, তখন (সব কিছু থেকে) এক এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নাও, তোমার পরিবার পরিজনদেরও (উঠিয়ে নেবে, তবে) তাদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার সিদ্ধান্ত এসে গেছে সে ছাড়া (দেখো), যারা জুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো আরজি পেশ করো না, কেননা (মহাপ্লাবনে আজ) তারা নিমজ্জিত হবেই (সুরা আল মোমেনুন, ২৩:২৭)।
অবশেষে (তাদের কাছে আজাব সম্পর্কিত) আমার আদেশ এসে পৌঁছল এবং চুলো (থেকে একদিন পানি) উথলে উঠলো, আমি (নুহ্কে) বললাম, (সম্ভাব্য) প্রত্যেক জীবের (পুরুষ-স্ত্রীর) এক একজোড়া এতে উঠিয়ে নাও, (সাথে) তোমার পরিবার-পরিজনদেরও (ওঠাও) তাদের বাদ দিয়ে, যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত (ঘোষিত) হয়েছে এবং (তাদেরও নৌকায় উঠিয়ে নাও) যারা ঈমান এনেছে; (মূলত) তার সাথে (আল্লাহর ওপর) খুব কম সংখ্যক মানুষই ঈমান এনেছিলো (সুরা হুদ, ১১:৪০)।
তারপর সে (নৌকা) পাহাড়সম বড়ো বড়ো ঢেউয়ের মধ্যে তাদের বয়ে নিয়ে চলতে থাকল্।ো নুহ্ তার ছেলেকে (নৌকায় আরোহণ করার জন্যে) ডাকলো, সে (আগ থেকেই) দূরবর্তী এক জায়গায় (দাঁড়িয়ে) ছিলো - হে আমার ছেলে, আমাদের সাথে (নৌকায়) ওঠো, (আজ এমনি এক দিনে) তুমি কাফেরদের সাথী হয়ো না (সুরা হুদ, ১১:৪২)।
সনাতন হিন্দু ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মহাপ্লাবন :-
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মৎস্যপুরাণ এবং শতপথ ব্রাহ্মণে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর দশটি অবতারের মধ্যে একটি অবতার “মৎস্য বা মাছ অবতার”-এর কথা বলা হয়েছে (লক্ষ্য করার বিষয়, মৎস্যপুরাণ বা শতপথ ব্রাহ্মণেও মনুর নৌকা বা মহাপ্লাবন সম্পর্কে তৌরাত শরিফের মতো বিস্তারিত বর্ণনা নেই; আছে কিছুটা ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের মতো)। মৎস্যঅবতার আবির্ভাবের যে প্রেক্ষাপট বর্ণিত আছে, তা সংক্ষিপ্ত করে বললে- প্রথম মানব মনু হাত-পা ধৌত করতে গিয়ে এক জলাশয়ে একটি ক্ষুদ্র মাছ দেখতে পেলেন, ক্ষুদ্র মাছটি অন্যান্য রাক্ষুসে মাছ থেকে রক্ষা করার জন্য মনুর কাছে অনুরোধ করলো। তিনি সেই মাছকে নিরাপদ স্থান হিসেবে জলভর্তি পাত্রে রেখে দিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেল, মাছটি অতিবৃহৎ হয়ে গেল, যে আর ঐ স্থানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না; তিনি একে একটি জলাশয়ে নিয়ে গেলেন। সেখানেও রাখার কিছুদিনের মধ্যে মাছটি আরো বৃহৎ হয়ে গেলো যে, জলাশয়ে মাছের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নিয়ে গেলেন একটি পুকুরে, সেখান থেকে নদীতে। এরপরও মাছটি এত বৃহৎ হয়ে গেলো যে, এর স্থান সংকুলানের জন্য সমুদ্রে নিয়ে যেতে হলো। একদিন মাছটি মনুকে সমগ্র পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিল এবং দ্রুত একটি বৃহৎ নৌকা বানাতে নির্দেশ দিল, কারণ এই মহাপ্লাবনে পৃথিবীর সমস্ত জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। মনু তখন মাছের কথামতো কাজ শুরু করে দিলেন। যখন পৃথিবীতে মহাপ্লাবন শুরু হল, সারা পৃথিবী জলোচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে শুরু করল, সেই মাছটি মনু ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসমেত নৌকাটির গুণ টেনে একটি বিরাট পাহাড়ের উপরে নিয়ে গেল। মহাপ্লাবনে সমস্ত পৃথিবী ল-ভ- হয়ে ভগবান বিষ্ণুর ইচ্ছা পূর্ণ হল, তখন আস্তে আস্তে মহাপ্লাবনের পানি কমে এল। বন্যার পানি কমে গেলে পৃথিবী পুনর্নিমাণের জন্য মনু ও তার পরিবার পাহাড় থেকে ভূমিতে নেমে এল, এবং পুনরায় পৃথিবীতে বংশবিস্তারের মাধ্যমে মানব প্রজাতি টিকিয়ে রাখল।
ওপরের বিবরণে আমরা দেখতে পায়, প্রতিটা প্রন্থেই প্রায় একই রকম কথা লিখা আছে। আসুন এবার আমরা কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।
১* এক সাথে সারা দুনিয়াতে কিভাবে প্লাবন হতে পারে? এটি মোটেও বিজ্ঞান সম্মত না।
২* তিনি কিভাবে একটি কিস্তিতে এত প্রজাতির প্রানীকে উঠালেন?
৩* বর্তমানে যদি সবাই তাঁর বংশের হয় তাহলে, এত দ্রুত মানবজাতির প্রসার ঘটল কিভাবে?
সম্ভাব্য উত্তরঃ
১* কুরআন এবং অন্যান্য প্রন্থে প্রায় একই কথা লিখা থাকলেও অমিলও আছে। কুরআনে কোথাও বলা নাই প্লাবন সারা দুনিয়া ব্যাপী ছিল। বরং বলা হয়েছে এটি ছিল শুধু নূহের জন্য। তাই এখানে সারা দুনিয়ায় প্লাবনের প্রশ্নই আসে না। তাই কুরআনের বানী এখানে বিজ্ঞানের সাথে একমত পোষণ করছে। তবে অন্যান্য ধর্মীয় প্রন্থে প্লাবন সারা দুনিয়া ব্যাপী বলা আছে।
২* বন্যা যেহেতেু সারা দুনিয়া ব্যাপী হয়নি তাই দুনিয়ার সব প্রাণীকে কিস্তিতে তোলার প্রশ্নই আসে না। আর কুরআনে এই প্লাবনের সময়কাল নিয়ে কিছু বলেনি। বাইবেল যা বলেছে তা শুধুই হাস্যকর। নূহ শুধু নিজ এলাকার প্রণী নিয়ে কিস্ততে উঠেছেন।
৩* ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান, হিন্দু এবং অন্য আরো ধর্মে বলা আছে নূহ বা নোয়া বা মনুর বংশধররাই এখন পৃথিবীতে বর্তমান আছে। অনেক ইসলামীবিদদের মতে তিনিই দ্বিতীয় আবুল বাশার!
কুরআন কিন্তু এই কথাকে স্বীকার করে না। কুরআনে নূহকে অন্য নবীর মতই দেখা হয়েছে। কুরআনে বলা আছে তাকে একটি নির্দিষ্ট কওমের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আর সেই কওমের জন্য বলবৎ ছিল মহা প্লাবন। তাই একসাথে দুনিয়ার সব মানুষ মারা যাবার কোন কারণ নাই।
আবার কুরআনে বিভিন্ন স্থানে মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে ঈশ্বর বলেছেন “ বনি আদম”। আর ইসরায়েলের সন্তানদের বলেছেন “বনি ইসরাঈল”। কিন্তু কোথাও বনি নূহ বলা হয় নাই। তাহলে আমরা কিভাবে সবাই তাঁর সন্তান হলাম।
তৃতীয়ত তিনি যদি দ্বিতীয় আবুল বাশার হন তাহলে তিনি সারা পৃথিবীর জন্য এসছিলেন ধরে নিতে হবে। কিন্তু আমরা জানি মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যাতিত আর কেউ এই দায়িত্ব পাননি। তাই তিনি অবশ্যই দ্বিতীয় আবুল বাশার নন। তবে উনার তিন ছেলে শাম, হাম আর ওয়াসফির-এর মাধ্যমে রব সারা পৃথিবীতে অসংখ্য মানব সৃষ্টি করেছেন।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×