somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিকশা ভাড়া সংক্রান্ত শিক্ষামূলক পোষ্ট....

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় কোথাও যেতে আব্বার রিকশা ভাড়া করার বিষয়টা খুব বিরক্তিকর লাগতো।বাসাবো থেকে গুলিস্তান যেতে হয়তো রিকশাওয়ালা চাইলো ষাট টাকা,আব্বা বলতো,ত্রিশ টাকা দিবো,যাবা ?তারপর আমার দিকে তাকিয়ে রিকশাওয়ালাকে বলতো,ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে যাচ্ছি,দামদর কইরা লাভ নাই,পঁয়ত্রিশ টাকা দিবো চলো ।বলাবাহুল্য এই দুর্মূল্যের বাজারে তাতেও কেউ রাজী হতো না ।আমার রাগ আর বিরক্তি দেখে আব্বা বুঝানোর চেষ্টা করতো,একটু ধৈর্য ধরতে শিখ,রিকশাওয়ালা একটা দাম বললেই কি উঠে যাবি নাকি?দামদর করতে শিখ ।আমি বিরক্ত হয়ে বলতাম,তা নাহয় শিখলাম,কিন্তু তুমি যে দাম বলতেছো এই দামেতো এখন কেউ যাবে না,এমন দামদর করে লাভ কি?আব্বা বলতো,আচ্ছা যা,এখন চল্লিশ টাকা হলেও নিয়ে নিবো ।অনেক্ষণ,অনেক রিকশা আসা যাওয়ার পর কেউ হয়তো চল্লিশ টাকাই চাইলো,তাও আব্বা মুলামুলি কর‌তো,একটু বেশী চাইলা না,পঁয়ত্রিশ টাকা নিও ।কেমন রাগ লাগে তখন ?বড় হয়ে এখন বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই রিকশাওয়ালা যাওয়ার মতো(একদম বেশী না,কমও না) একটা ভাড়া মাথায় রেখেই দাম করি ।ঐ দাম বা তার চেয়ে কম চাইলে আর মুলামুলি করি না ।দেখলাম তাতেই বরং বিপত্তি,বারংবার তখন আব্বার বিরক্তিকর দামদরটাই শ্রেয় মনে হয় ।একদিনের ঘটনা,বাসাবো থেকে টিএসসি যাবো ।রিকশাওয়ালা চাইলো সত্তর টাকা ।বিনাবাক্যে উঠে পড়লাম ।প্যাডেলে একটু চাপ দিয়েই রিকশাওয়ালা বললো,ভাই কিছু মনে কইরেন না,আমি আসলে এখন ঐ দিকে যাবো না,আপনি বললেন হঠাৎ দাম বইলা ফেলছি একটা.. ।'আচ্ছা সমস্যা নাই' বলে নেমে পড়লেও পরে চিন্তা করে দেখলাম,দামাদামি করে না উঠাতে রিকশাওয়ালা ভেবেছিলো সে যা চাইতো,তা-ই তো দিতাম,সেই তুলনা্য় সে কম চেয়ে ফেলছে ।আমি যদি তখন বলতাম,আচ্ছা ভাড়া বাড়ায় দিব,চলেন যাই...তবে নিশ্চয়ই সে ঐদিকে যাবো না বলে আমাকে নামায় দিতো না ।আরেকদিন যাত্রাস্থল কাটাবন থেকে বাসাবো মায়াকানন ।রিকশাওয়ালা বললো, মায়াকানন....ঐ বাসাবো বৌদ্ধমন্দিরের ঐদিকে না? কই নামবেন? প্রশ্নের জবাবে বললাম,কমিশনারের বাসার পাশে ।যাবেন?রিকশঅয়ালা হ্যা সূচক মাথা নেড়ে বললো,ভাড়া কিন্তু আশি টাকা ।আমিও বললাম,আচ্ছা চলেন ।দামাদামিতে না যাওয়ায় আবারো বিপত্তি ...মানিকনগর(মায়াকানন থেকে বেশ দূরে)এসে রিকশাওয়ালা ভান ধরলো চলে আসছে ।আমি বললাম,মামা আপনাকেতো মানিকনগর বলি নাই,বলছি মায়াকানন।রিকশঅয়ালা ভাব ধরলো,না মামা আপনি মানিকনগর কইছিলেন,এইজন্য ভাড়া আশি টাকা চাইছিলাম,মা্য়াকাননের ভাড়াতো একশ টাকা ।কেমন লাগে এই কথা শুনলে ?বললাম,মামা আপনারে যে কইলাম কমিশনারের বাসা যামু,মানিকনগরে কমিশনারের বাসা কই?রিকশাওয়ালার উত্তর,সরি মামা,আমি আসলে বুঝি নাই ।মানিকনগর ভাবছিলাম ।ভাড়া তাইলে একটু বাড়ায় দিয়েন ।আরেকদিনের ঘটনা,রামপুরা থেকে বাসায় ফিরবো ।রিকশাওয়ালা যা চাইলো তাতেই উঠে পড়লাম ।এবার রিকশায়ালা না চেনার বা ভুল শোনার ভান করলো না,কিন্তু নামিয়ে দিয়ে বিনয়ের সঙ্গেই বললো,মামা,আমি আসলে অনেকদিন এইদিকে আসি নাই,খেয়াল ছিলো না ,এইখানের ভাড়া এত কম না,আমার ঠকা হইয়া যায় (উল্লেখ্য,ভাড়া সে যেথষ্ঠই চাইছিল)।সর্বশেষ আজকেরই ঘটনা ।অফিসে আসবো, বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়ে গেছে ।রিকশওয়ালাকে ভালো করে বুঝায় বললাম,মামা,মতিঝিল যাবেন?শাপলা চত্বরের ঐ পাশে,সিটি সেন্টারের কাছে,বিমান অফিসের পাশে ঐ যে সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিংটা ঐখানে ।মামা রাজী,ভাড়া চাইলো ৫০।হাতে সময় কম,উঠে পড়লাম ।জেনেশুনে আবারো ভুল করলাম,যা হবার তাই হলো ।বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে সেনাকল্যাণ ভবনের সামনে নামায় দিলো,তার জানামতে এটাই মতিঝিলের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং ।শাপলা চত্বরের ঐপাশে সে যাবে না,আমি যে বলচি শুনে নাই,ঐপাশে গেলে ভাড়া বেশি ।মাথা ঠিক রাখতে চিন্তায় নিয়ে আসলাম সামুকে ।বিষয়টা নিয়ে লিখতে হবে,রিকশাওয়ালা একদম ন্যায্য ভাড়া চাইলেও উঠে পড়বেন না ...ভাড়া আরেকটু বাড়া্য় চাইলো না কেনো ভেবে তারা কনফিউজড হয়ে যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×