somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝগড়া তো ভালবাসারই অংশ...!

১৪ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন ৫টা ২০।আমি বিরক্ত।বাস এতো লেট কেন.?বিয়াদব বাস।পরক্ষনেই ভাবলাম বাসকে কেন দোষ দিব.?দোষতো ড্রাইভার এর।এই ভাবতে ভাবতে বাস চলে এলো।বাসের গাইড(সুপার ভাইজার) আমাকে দেখে বেশ অবাক.!বলে উঠল আজ আবার.?মানে আমি গত কালই এই বাসেই এসেছি।আবার সেই বাসেই ফেরত যাচ্ছি।যাইহোক আমার সিটে গিয়ে বসলাম।Ac বাস তাই কোনো ভিড় নেই।আমার খুবই ভাললাগে এই নিরবতা।সিট পেলাম D 3।সিটে বসেই আমি কানে ইয়ার-ফোন দেই।আজ ও দিলাম।তবে ৭-৮ মিনিট পরেই কান থেকে ইয়ার-ফোন বের করতে বাধ্য হলাম।কারনটা সিট নাম্বার D 1-2 তে বসা।D 1 এ বসে আছে আমার জিবনের দেখা সব চেয়ে কিউট মেয়ে।এতো কিউট ও মেয়ে হয়..??বয়স ২০ এর চেয়ে কিছুটা বেশি বলে মনে হল।তার মানে আমার চেয়ে প্রায় দেড় বছর বড়।তার পাশে D2 তে বসে আছে তার স্বামী।সেটা বুঝতে পেরে মনে মনে খুব কষ্ট হল।কেন.???আপনাদের বলতে ইচ্ছা করছে না।আসল কথায় আসি।মেয়েটা তার স্বামীর সাথে অভিমান করেছে।যতদূর বুঝেছি স্বামীর বাসা রংপুর।মেয়েটার বাসা রাজশাহীতে।কিজন্য অভিমান সেটা বুঝতে কষ্ট হল না।মেয়ের অভিযোগ ছিল স্বামী তাকে সময় দেয়না।সারা দিন কাজ আর কাজ..!!আর এই নিয়ে আজ তাদের মধ্যে একটা ঝগড়াও হয়েছে.।তাই মেয়ে রাগ করে রাজশাহী চলে যাচ্ছে..!আমার রাগ হচ্ছে বিয়াদব স্বামী.!এতো কিউট, এতো সুন্দর মেয়েকে কেউ কষ্ট দেয়.?মনে হল শালাকে দেই থাপ্পর।পরে ভাবলাম ঝগড়াতো ভালবাসারই অংশ.!স্বামীও কম যায় না।যখন বুঝেছে বউ খুব রাগ করে চলে যাচ্ছে তখন কিছু জোড় খাটিয়ে বউএর পাশের সিটটা হাসিল করেছে।কিন্তু বউকে বুজতে দেয়নাই।হয়ত বাস ছাড়ার সময় উঠেছে।উঠেই সোজা বউএর পাশে।যাইহক লোকটা মনে হয় বড় রকমের ব্যবসায়ী।২-৩মিনিট পর পর তার ফোনে কল আসছিল।বুঝলাম মেয়েটা বিরক্ত হচ্ছে।আমার পাশের সিট D4 খালি ছিল।মেয়েটা ওখান থেকে উঠেই আমার পাশে বসল।স্বামী অনেক কষ্টে ভরা চোখে এই দৃশ্য দেখছিল।সে বেশ লজ্জিত বলে মনে হয়।আমার খুব ভালো লাগছে কারন এখন আমার পাশে খুব কিউট একটা রয়েল ফেরি বসে আছে।মিনিট পাঁচেক পর দেখি স্বামি সাহেব খুব করুণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।যা বুঝার বুঝে গেলাম।আমি সিট থেকে উঠে তাকে আমার সিট এ বসতে ইশারা দিলাম।তার চোখে যেন আনন্দের ছোঁয়া।সে তাড়াতাড়ি আমার সিট দখল করে নিল।সময় যাচ্ছে আমিও যাচ্ছি..!প্রায় মিনিট ২৫ পরে অবিস্কার করলাম মেয়েটা কাঁদছে.!তাও স্বামির হাত ধরে।আমি বেশ অবাক.!তাদের মধ্যে কিছু কথা হচ্ছিল।আমি আড়ি পাতলাম।তাদের কথা গুলো:
স্বামি: এই.!আই আম সরি।আর ভুল হবে না।
মেয়েটা:তুমি জানোনা তোমার সাথে ঝগড়া করে আমার কষ্ট হয়.?কেন এমন কর.?
স্বামি:সরি আর করব না।এবার থেকে তুমি যা বললে তাই হবে।প্রমিস।তবে মুলা খেতে বইলোনা।আমার খুব কষ্ট হয়।
(মেয়েটা ফিক করে হেসে উঠল)এই হাসলা কেন.?আমি কষ্ট পেলাম।
মেয়েটা:উহ.!আসছে আমার কষ্ট পানে উয়ালা।(তখনি স্বামির ফোনটা আবার বেজে উঠল।বউ বিরক্ত হল।কিন্তু স্বামি ফোনটা রিসিভ করল।)
স্বামি: হা সামিম..বল।(৪-৫ সেকেন্ড পার হল)আরে না না আমি তো নাই ওখানে।আগামি সাত দিন থাকব না।বেড়াতে যাচ্ছি।এখন রাখি।(ফোন কেটে দিল)
বউ মনে হয় খুব খুশি হয়েছে।কারন সে আবার কাঁদছে।এবার আনন্দে কাঁদছে।আসলে একেই বলে ভালবাসা।আমার ও চোখের কোনে পানি জমেছে।কেন.?খুশিতে।

#Abir_Virus
pic: Google
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৪
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×