চারদিকের গাঢ় নির্ভেজাল আঁধারে জোনাকীরা তাদের
করে আয়োজন। খোশগল্প আর আনন্দে হতে হতে মশগুল
চারদিকে শোনা যায় আরও নিশাচর প্রাণীর বাক্য কথা আর
পথ চলা যত। বসেছিলাম আমি এক শান্ত বিবাগী
চাকলা বিলের ধারে ত্রিশ বছর আগে।
আজ মধ্যরাতে কীটপতঙ্গের ভূবনে মড়ক লেগে যেন
মরেছে শত কোটি। তাদের আত্মারা শত অভিশাপ হাতে
আছে দাড়িয়ে গ্রামের প্রতিটি অলি-গলি আর শহরের রাজপথে।
আমি একাকী এসে বসেছি আজ ত্রিশ বছর পরে
চাকলা বিলের ধারে। জোনাকীর দেখা নেই! দূরে শুধু
দু’ একটা বংশধর তার করে যায় জীবন কোনরকম যাপন Ñ
‘বাকিরা কি তবে করেছে আত্মহত্যা’? কোথায় সেই গুন গুন
গান পতঙ্গ মাতার? ডাকছেনা কেন একটাও পেঁচা বা পাখি?
শুধু পাগলা একটা কুকুরের শোনা যাচ্ছে হাসি। শাপান্ত
করতে করতে মানব বংশের সব কটাকে এসে সে বেওকুফ
চাকলা বিলটার ধারে। অজস্র জোনাকীর প্রেতাত্মা তাদের
করে চলেছে খেলা, ‘বিষ ঢেলেছিল তকে কে, মানুষ যদি না
হবে সে’? কাদের ইন্ধনে ক্ষেত খামার ও শস্য সম্ভার ভরে গেল
অনাকাঙ্খিত কীটনাশকে? নদীর মৎস জীবন জলজ জানকেও
তারা দিয়েছিল ফেলে প্রাণ-বিনাশী হুমকিতে।
‘মানুষ যেন মানুষ নয়, পৈশাচিকতায় ওদের জীবন ভরা’,
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বলে উঠল কুকুরটা। ধানের ক্ষেতে ঘর
বেধেঁছে যেন কোনো মানুষ পাজী, সাম্রাজ্যবাদের সে ধামাধরা
টর্চ হাতে মারল আলো কুকুরটার চোখে। হাজারো কীট-পতঙ্গের
বিক্ষুব্ধ আত্মারা বলে উঠল কথা, ‘দাও ওর ঘাড় মটকে’!
পাগল কুকুরটা করল ‘ঘেউ’। ‘ওতো দেখি মানুষ বা মানুষের
ফেউ’, নির্বংশ হতে হতে গুটিকয় জোনাকী আফসোস করল একা।
শোনেনা মানুষের কান উদ্ভিদ-প্রাণ, কীট-পতঙ্গ পশু-পাখি বা
অন্য কারও কথা। দর্পভরে তাই সে অকৃতজ্ঞ কচি কিছু ঘাস
দূর্বল লতা পায়ে তার ঘষে পিষে ফিরে যায় ঘরে। বিলের অপর
পারে পানি পান করতে থাকা শেয়াল একটা হেচকি ওঠাল
এই রাত্রি নিশীথে। জেগে উঠল এতে মৃত শত মৎসের ক্ষোভ,
‘নিশ্চিত জানি এ মানুষের লোভ Ñ দিয়েছে বিষ তারা
ছড়িয়ে ছিটিয়ে সমস্ত জলাশয়ে’। ‘বাঁচতে চাইলে মানুষের থেকে
দূরে পালাও! না হলে তোমাদেরও হবে অপমৃত্যু। অতৃপ্ত আত্মা হয়ে আমাদের মতো আসমান ও জমিনের মাঝখানে তোমরাও থাকবে পরলোকহীন অনন্তকাল লটকানো’।
১৩ আশ্বিন ১৪২০
২৮ সেপ্টম্বর ২০১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



