{আড্ডার ইংরেজী ভার্সনে পুরো লেখাটি প্রকাশ পায় ডিসেম্বরের 16, 2005-এ। এখানে বাংলায় দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ পায় জানুয়ারী 3, 2006-এ। বাংলাদেশ সবার সেরা আড্ডার এই বিভাগে গেলে আগের সংখ্যাগুলো একসাথে পড়তে পারবেন। ধন্যবাদ।}
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সাফল্যের ক্ষেএে সম্ভাবনা ও ব্যর্থতা সমান্তরালভাবে তুলে ধরে। ইন্টারন্যশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনের এক সাংবাদিকের কাছে বাংলাদেশ একটি দুবের্াধ্য পাজ্ল যেখানে আমাদের দেশ বিরামহীনভাবে সংগ্রাম করছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক কলহ, ও সুশাসনের অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক 1995 সালে দারিদ্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাফল্যকে চিএায়িত করতে গিয়ে বলেন, "বাংলাদেশ পৃথিবীর সেরা 30টি অর্থনৈতিক শক্তির একটি। বাংলাদেশের অবস্থান নাইজেরিয়া, হংকং, ভিযেতনাম, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড ও অন্য বেশ ক'টি দেশের উপরে। আমাদের দেশ জিডিপি'র বৃদ্ধি দ্বিগুণ করেছে, মুদ্রাস্ফীতির হার 2% এর নীচে রেখেছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়েছে, 92% শিশুদেরকে টীকাদান কর্মসসূচীর আওতায় এনেছে এবং 90% লোকের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হয়েছে যা 116 মিলিয়ন লোকের খাদ্যের যোগান দিতে পারে"।
বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে অনেকের বিরাট অবদান রয়েছে। দারিদ্র বিমোচনে ডঃ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা করেন যা দরিদ্রদেরকে ঋন দেয়ার জন্যে জামানতমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন। তার উদ্যোগ তুলে ধরল প্রযুক্তি কিভাবে দারিদ্র বিমোচন করতে পারে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে "গ্রামীণ ফাউন্ডেশন ইউএসএ" গ্রামীণের ব্যকিং মডেল পৃথিবীর অন্যএ ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বিশটি দেশের 46টি ুক্ষুদ্র ঋণসংস্থার সহযোগে 25 লাখ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনছে। গ্রামীণ ব্যংকের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ই-বে'র প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে ওমিডতো দরিদ্রদের জন্য ুক্ষুদ্র ঋণ ও বিনিয়োগে অর্থ সংস্থান করার উদ্দেশ্যে 100 মিলিয়ন ডলার দান করেন।
গ্রামীণ ব্যংকের একটি উদ্যোগ হিসেবে গ্রামীণ ফোনের যাএা শুরু হয় যখন বাংলাদেশে আয়বৃদ্ধির জন্য নরওয়ের টেলনোর কোম্পানী মোবাইল ফোনের ব্যবহার ছড়িয়ে দেয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আয় করার উদ্যোগ গ্রামের 50 হাজার দরিদ্র মহিলার জীবন পরিবর্তনের ঘটনা খবরের শিরোণাম হয়েছে। মোবাইল ফোন ভাঁড়ার মাধ্যমে আয়ের সংস্থান জীবনধার পরিবর্তন করে দিয়েছে এধরণের গ্রামীণ মহিলাদের সংখ্যা এখন 180,000 -এ দাঁড়িয়েছে। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বে প্রযুক্তিগত বিভক্তির অবসানে দৃস্টান্তমূলক উদাহরণ স্থাপন করছেন। বাংলাদেশের গ্রামের ফোন মহিলাদের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে মোবাইল ফোনের উৎপাদক নোকিয়া এখন গ্রামীণ ফাউন্ডেশন ইউএসএ'র সাথে যৌথ উদ্যোগে আফ্রিকার গ্রামগুলোতে মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে পল্লীতথ্য নেটওয়ার্ক তাদের অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে যা গ্রামের কৃষকদের জন্য তথ্য প্রযুক্তি কিভাবে বিপ্লব আনতে পারে তার উদাহরণ স্থাপন করেছে। (পল্লীতথ্যের সাইটটি আমার পছন্দের লিংকে যোগ করা আছে)। বাংলাদেশে পোলট্রি ফার্মের উদ্যোগ ও সাফল্য দরিদ্র এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছে স্বল্প বিনিয়োগে ব্যাপক মুনাফার লোভ সুন্দরবনের ম্যনগ্রোভ ফরেস্ট ও সেখানকার পরিবেশের উপর যে অচিন্তনীয় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রমশঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

