somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরপেক্ষ মানুষের প্রতিকৃতি:

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিরপেক্ষতার পোশাক পড়া একজন মানুষের প্রতিকৃতি আঁকা কি সম্ভব? কোথায় বাস করে একজন চরিএবান, বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন, সংকোচমুক্ত, শক্তিমান, সাহসী, ও স্পস্টবাদী মানুষ যাকে বলা যাবে "নিরপেক্ষ"? মনে আছে, বাচ্চাদের বইয়ের গল্পটা। সুখী মানুষের সন্ধানে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেল যে লোক সুখী, তার কোন শার্ট নেই। সুখী সে লোকটি পথের ধারে ঘুমায়। কিন্তু তাই বলে কি নিরপেক্ষ মানুষকে পথের ধারে পাওয়া যাবে? এর আগের লেখায় চমৎকার একটি মন্তব্য কবিতার আকারে এসেছে যা এদেশের রাজনীতির পটভূমিতে নিরপেক্ষ মানুষের পরিচয়টা যথার্থভাবে তুলে ধরেছে।

দীক্ষক দ্রাবিড় তার মন্তব্যে লেখেন:
"ক্ষমতাদখল যেখানে মুখ্য
দলবদলের দিকে লক্ষ্য
সেখানে উধাও পক্ষ-বিপক্ষ
রং বদলায় বেটা নিরপেক্ষ"।

সত্যি কথা কি, নিরপেক্ষ বলে পৃথিবীতে কেউ নেই। অনন্ত: এই ইসু্যতে আমি আমার রাজাকার জামাতী, অশরীরি ভূত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক বন্ধুদের সাথে একমত যে, নিরপেক্ষ বলে কোন লোক নেই। যেমন আমাদের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতি থাকা অবস্থায় তার এলাকার মন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় ছাতা ধরে এগিয়ে নিয়ে আসেন। এ বিষয়টি নিয়ে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করল, তিনি নাকি বলেছিলেন, "এলাকার ব্যানা মন্ত্রীকে সম্মান করেছি অন্যায়টা কি হয়েছে"? ধামাধরা হওয়ার জন্য যখন সবাই মরিয়া, তখন তাকে নিয়ে বিবাদ করে কি লাভ? সমস্যা তো অসুস্থতায় (?), তার নিজের তো কোন সমস্যা নেই। সবাই শুধু খেতে চায়, বিপওি হয় বেশী খেতে গিয়ে যখন বদহজম হয়। এমনটা অতীতেও হয়েছিল, ভবিষ্যতেও হবে। তাই সন্ধান করতে হবে পরিএানের।

আমরা পাব কোথায় নিরপেক্ষ সেই মানুষটিকে? অনেকে আমার ব্ল্লগে এসে নিরপেক্ষতার সন্ধান করেন। তাদের অনেককে হতাশ হতে হবে। বিশেষ করে, রাজাকার-জামাতীরা যদি আমার লেখাকে তাদের জন্য নিরপেক্ষ, নিরাপদ, ও ভারসাম্য ভাবনা চান, তাহলে খুব হতাশ হতে হবে। ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী নরঘাতক জামাতীরা যদি শান্তি ও স্বস্তি চায় এজগতে আর পরজগতে, তাদেরকে আরও অনেক বেশী হতাশ হতে হবে। এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি শহীদি আত্মা তাদেরকে নীরবে-সরবে ক্ষমাহীনভাবে অবিরাম অনুসরণ করছে ।

আমাদের এখন প্রয়োজন সচেতন মানুষ। যারা মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে আর প্রতারিত হবে না। যারা ঘাতকদের সাথে আলিঙ্গনকারী ও পদলেহীদের মুখোশ তুলে ধরবে। যারা কড়ায়-গন্ডায় হিসেব করে সকল অপকর্মের চিএ তুলে ধরবে। সেই আপোষহীন শক্তি আমাদের এই ঘুনে ধরা সমাজে আনবে পরিবর্তন। আড্ডার ব্লগে আমি নিরপেক্ষতার কোন সাইনবোর্ড দেইনি। তাহলে, কোথায় পাওয়া যাবে সেই আলোচিত নিরপেক্ষ মানুষটি? এ নিয়ে একটি সচিএ প্রতিবেদন পরের লেখায় তুলে ধরব। আশা করব, আপনারাও সঙ্গী হবেন আমার সাথে সত্যের মুখোমুখি হতে।

রবীন্দ্রনাঠের লেখা থেকে নেয়া উদ্ধৃত ভাবনায় উদ্ভাসিত হোক আমাদের চেতনা আর শ্ল্লোগানমূখরতায় উচ্চারিত হোক সর্বএ:

"চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই-
চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে
চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
চলো মুক্তিপথে,
চলো বিঘ্নবিপদবিজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন_
স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
জড়তার জর্জর বন্ধে।
বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়_
মুক্তির জয় বলো ভাই..."
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানির ক্যানভাসে ডুবন্ত শহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



প্রতিবেদক: আশরাফুল ইসলাম
স্থান: প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম
সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট


ক্যামেরার লাল বাতিটা জ্বলছে। লেন্সের ওপর বৃষ্টির ছোট ছোট কণাগুলো অবাধ্য হয়ে জমছে। আমি মাইক্রোফোনটা শক্ত করে ধরে লেন্সের দিকে তাকালাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×