নিরপেক্ষতার পোশাক পড়া একজন মানুষের প্রতিকৃতি আঁকা কি সম্ভব? কোথায় বাস করে একজন চরিএবান, বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন, সংকোচমুক্ত, শক্তিমান, সাহসী, ও স্পস্টবাদী মানুষ যাকে বলা যাবে "নিরপেক্ষ"? মনে আছে, বাচ্চাদের বইয়ের গল্পটা। সুখী মানুষের সন্ধানে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেল যে লোক সুখী, তার কোন শার্ট নেই। সুখী সে লোকটি পথের ধারে ঘুমায়। কিন্তু তাই বলে কি নিরপেক্ষ মানুষকে পথের ধারে পাওয়া যাবে? এর আগের লেখায় চমৎকার একটি মন্তব্য কবিতার আকারে এসেছে যা এদেশের রাজনীতির পটভূমিতে নিরপেক্ষ মানুষের পরিচয়টা যথার্থভাবে তুলে ধরেছে।
দীক্ষক দ্রাবিড় তার মন্তব্যে লেখেন:
"ক্ষমতাদখল যেখানে মুখ্য
দলবদলের দিকে লক্ষ্য
সেখানে উধাও পক্ষ-বিপক্ষ
রং বদলায় বেটা নিরপেক্ষ"।
সত্যি কথা কি, নিরপেক্ষ বলে পৃথিবীতে কেউ নেই। অনন্ত: এই ইসু্যতে আমি আমার রাজাকার জামাতী, অশরীরি ভূত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক বন্ধুদের সাথে একমত যে, নিরপেক্ষ বলে কোন লোক নেই। যেমন আমাদের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতি থাকা অবস্থায় তার এলাকার মন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় ছাতা ধরে এগিয়ে নিয়ে আসেন। এ বিষয়টি নিয়ে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করল, তিনি নাকি বলেছিলেন, "এলাকার ব্যানা মন্ত্রীকে সম্মান করেছি অন্যায়টা কি হয়েছে"? ধামাধরা হওয়ার জন্য যখন সবাই মরিয়া, তখন তাকে নিয়ে বিবাদ করে কি লাভ? সমস্যা তো অসুস্থতায় (?), তার নিজের তো কোন সমস্যা নেই। সবাই শুধু খেতে চায়, বিপওি হয় বেশী খেতে গিয়ে যখন বদহজম হয়। এমনটা অতীতেও হয়েছিল, ভবিষ্যতেও হবে। তাই সন্ধান করতে হবে পরিএানের।
আমরা পাব কোথায় নিরপেক্ষ সেই মানুষটিকে? অনেকে আমার ব্ল্লগে এসে নিরপেক্ষতার সন্ধান করেন। তাদের অনেককে হতাশ হতে হবে। বিশেষ করে, রাজাকার-জামাতীরা যদি আমার লেখাকে তাদের জন্য নিরপেক্ষ, নিরাপদ, ও ভারসাম্য ভাবনা চান, তাহলে খুব হতাশ হতে হবে। ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী নরঘাতক জামাতীরা যদি শান্তি ও স্বস্তি চায় এজগতে আর পরজগতে, তাদেরকে আরও অনেক বেশী হতাশ হতে হবে। এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি শহীদি আত্মা তাদেরকে নীরবে-সরবে ক্ষমাহীনভাবে অবিরাম অনুসরণ করছে ।
আমাদের এখন প্রয়োজন সচেতন মানুষ। যারা মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে আর প্রতারিত হবে না। যারা ঘাতকদের সাথে আলিঙ্গনকারী ও পদলেহীদের মুখোশ তুলে ধরবে। যারা কড়ায়-গন্ডায় হিসেব করে সকল অপকর্মের চিএ তুলে ধরবে। সেই আপোষহীন শক্তি আমাদের এই ঘুনে ধরা সমাজে আনবে পরিবর্তন। আড্ডার ব্লগে আমি নিরপেক্ষতার কোন সাইনবোর্ড দেইনি। তাহলে, কোথায় পাওয়া যাবে সেই আলোচিত নিরপেক্ষ মানুষটি? এ নিয়ে একটি সচিএ প্রতিবেদন পরের লেখায় তুলে ধরব। আশা করব, আপনারাও সঙ্গী হবেন আমার সাথে সত্যের মুখোমুখি হতে।
রবীন্দ্রনাঠের লেখা থেকে নেয়া উদ্ধৃত ভাবনায় উদ্ভাসিত হোক আমাদের চেতনা আর শ্ল্লোগানমূখরতায় উচ্চারিত হোক সর্বএ:
"চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই-
চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে
চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
চলো মুক্তিপথে,
চলো বিঘ্নবিপদবিজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন_
স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
জড়তার জর্জর বন্ধে।
বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়_
মুক্তির জয় বলো ভাই..."
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




