ছুটির দিনের কড়চায় সবাইকে স্বাগত। দেখতে দেখতে অনেকটুকু সময় চলে গেল। ব্যস্ততা যেন পায়ে পায়ে চলছে। আর হাতের সময় আমাকে দেখলেই পালিয়ে বাঁচে। কি নিয়ে যে এতো ব্যস্ততা তাও বুঝি না। শুধু মনে হয় ঘন্টার কাঁটাগুলো হঠাৎ করে সেকেন্ডের কাঁটার মতো দৌড়াচ্ছে। সময়ের কি যে তাড়া তা-ও জানি না। ক্যালেন্ডারের পাতা ছিঁড়তে ছিঁড়তে হাত ব্যথা হয়ে গেছে। তারপরেও সময়ের কাছ থেকে নিস্কৃতি নেই। জীবন কেন অন্তরীণ হয়ে থাকবে সময়ের ঘুরন্ত চাকার কাছে? তাই ভাবলাম, ছুটি দেই সময়কে সকল ব্যস্ততার বাঁধন থেকে। না হলে ছুটির দিন কেন?
শুক্রবারের এই সকাল বেলা সংবাদ দেখতে দেখতে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ি। চারপাশে কান্না। হারাবার ব্যথা। বস্তিতে ভয়াবহ আগুন। লালবাগে বস্তিতে লেলিহান শিখা বেঁচে থাকার স্বপ্ন আর মাথা গুঁজবার আশ্রয়টুকু কেড়ে নিল। বস্তিবাসীরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল তাদের স্বপ্নও শেষ সম্বল কি নিষ্ঠুরভাবে পুড়ে যাচ্ছে। অসম্ভব অসহায়ত্ব। রাগে ফুঁসছে। রাগের মুখে এলাকার নেতারাও পালাল। ক্রোধ সত্যি ভয়াবহ। হারাবার কস্ট খুব জমাট পাথরের মতো ভারী। সহজে বুকের উপর থেকে সরে না। দেশনেত্রীরা দেশ থেকে পালিয়ে বেশ ক'দিনের ছুটি নিলেন। অনেক নেতারা আবার স্থায়ীভাবে অনেকদিনের জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন দেশ থেকে। হঠাৎ করে এই অভাগারা এখন নিরাপওাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন। ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত শহরবাসী। যানজটে হিমসিম খাচ্ছে নাগরিক জীবন। টিভির পর্দায় সচল ছবি আর সকালের খবরের কাগজের স্থির ছবি ও শিরোণামগুলো সব ভাবনাকে এলোমেলো করে দেয়।
আমার এলোমেলো ভাবনা ছাপিয়ে একটা বোধের সন্ধান পেলাম। চেস্টা করলাম এই বোধের একট স্কেচ কথার আঁচড় দিয়ে আঁকতে। পারলাম না। কারণ, আমার বোধ স্বজন হারা নি:স্ব মানুষের স্বপ্নকে ছুঁতে পারে না। আমার ভাবনার শব্দমালা দিয়ে সাজানো লেখার ঝুড়ি তাদের হারাবার কস্ট ও যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিতে পারে না। তাই ভাবলাম, আমার বোধের একটা নাম দেই। না, তার কোন নাম নেই। যান্ত্রিকতায় ভরা নাগরিক নিস্পৃহতায় তার কোন নাম খুঁজে পাই না। নীরবে উচ্চারণ করতে থাকে,
"আলো-অন্ধকারে যাই-
মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়, -
কোন্ এক বোধ কাজ করে!
স্বপ্ন নয়-শান্তি নয়-ভালোবাসা নয়,
হূদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে;
সব কাজ তুচ্ছ হয়,-পন্ড মনে হয়,
সব চিন্তা-প্রার্থনার সকল সময়
শূণ্য মনে হয়,
শূণ্য মনে হয়..."!
জীবনানন্দ দাশ
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



