নানান ঝামেলায় ছুটির দিনের কড়চাটা নিয়মিত তোলাই হচ্ছে না। হঠাৎ করে মনে হচ্ছে সময় থেমে গেছে। একটু স্বস্তির চারপাশে বনবন করে ঘুরছে অনিশ্চয়তা। পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে মনটা খুব অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল। ফেলে আসা প্রাইমারী স্কুলের দিনগুলো স্মৃতির ভারে এখনও অমলিন, খুবই রঙিন আর ভীষণ জ্যান্ত। নড়েচড়ে বসলেই দেখতে পাই হেডস্যারকে। যেমন শাসন করতেন তেমন করতেন আদর। সবাই ভয় পেত তার বেতকে। স্কুল থেকে বেরিয়েছে কিন্তু হেডস্যারের বেতের স্বাদ নেয়নি তা কখনো হবে না। হয়তো দুস্ট আর চঞ্চলদের জন্য তিনি একটা ত্রাস ছিলেন। তারপরেও তার বেতের মহিমা চিরকালই মনে থাকবে।
আমাদের ক্লাশে পল্টু আর বাবলু পাশাপাশি দুই পাড়ার ছেলে। একজন আরেকজনের ছায়াও দেখতে পারতো না। খুব কমদিনই গেছে যে পল্টু আর বাবলু বেতের বাড়ি না খেয়ে বাড়ী গেছে। দু'জনেই তক্কে তক্কে থাকতো কিভাবে একজন আরেকজনকে বাঁটে ফেলবে। স্যার যখন বেশী হৈ চৈ শুনতেন তখন খুব নীরবে আসতেন। তারপর শুরু হতো বেত্রাঘাত। সব ঠান্ডা হয়ে যেত। একদিন পল্টু আর বাবলু শুরু করলো ক্লাশে মল্ল্লযুদ্ধ। আমরা উৎসুক হয়ে দেখছি যুদ্ধের কসরৎ। ঠিক এমনি সময় হেডস্যার হাজির হয়ে গেলেন হাতের বেত নিয়ে। দু'জনকে দাঁড় করিয়ে সবার সামনে শুরু করলেন বেতের বাড়ি। পল্টু আর বাবলু ধরাশায়ী। মারের চোটে হাঁটতেও কস্ট হচ্ছিল। ক্লাশের শেষে দেখলাম, এই প্রথমবারের মতো পল্টু আর বাবলু কাঁধে হাত রেখে একসাথে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্কুল থেকে বেরোতে। কি অবিশ্বাস্য বন্ধুত্ব। আমরা সবাই অবাক!!! স্কুলের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার দেখলেন পল্টু আর বাবলু একসাথে বেরোচ্ছে। আমি নিজে বেরোবার সময় দেখলাম হেডস্যারের মুখে লেপ্টে থাকা হাসি কালো চশমায় ঢাকা পড়েনি। বেতের মহিমা অপূর্ব। বাসায় ফেরার পথে আমি ভাবছি, পল্টু আর বাবলু কি আবারও মল্ল্লযুদ্ধ করবে
?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



