somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অকস্মাৎ আরোগ্য লাভ:

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাই খুব টেনশনে ছিল। রোগ পুরনো। আরোগ্যের আশা কেউ করেনি। সবাই ভেবেছে দু:সহ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে রুগী বিদায় নেবে। অনেক চিকিৎসক বলেছিলেন, যে ক'দিন বাঁচে। রোগ তো শুধু একটা ছিল না। কথায় বলে না, সারা অঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা? রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা শরীরে। ক্ষত দেখা যাচ্ছিল সর্বএ। ভাইরাস আর ব্যাক্টেরিয়া রুগীর সারা শরীর কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। শরীরের অর্গানগুলোও নাকি নস্ট হয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই খুব বিমর্ষ। আমরা পরিণতি জানতাম, কিন্তু তার পরেও আমরা আশা বেঁধে ছিলাম যে রুগী আরোগ্য লাভ করবে। তারপর যা হলো তা খুবই নাটকীয়। সবাই যখন হাল ছাড়লেন, তখন হঠাৎ করে আমাদের প্রিয় জলপাই মামা এসে দোরগোড়ায় হানা দিলেন।

আমরা জানতাম আমাদের জলপাই মামা বড্ডো ক্ষমতাধর। তার রয়েছে নানান কানেকশন। তারপরেও তার শত ব্যস্ততার মাঝে মুমুর্ষ এই রোগীর জন্য তিনি কোমড় বেঁধে মাঠে নামবেন এটা কেউ ভাবেনি। মার্কিন মুল্লুক থেকে ডাক্টার আসলেন, সার্জনরাও আসলেন। কনসালটেন্টরা আসলেন। রুগীর চারপাশ ঘিরে তার চিকিৎসা করলেন। হার্ট সার্জারী হলো। কিডনী সার্জারী হলো। ব্যাক্টেরিয়া আর ভাইরাসদের এন্টিবায়োটিকের কড়া ডোজ দিয়ে রুগীর শরীর থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হলো। বাইরের থেকে রক্ত ইনফিউশন করা হলো। বিদেশী ডাক্টার আর কনসালটেন্টরা বললেন, যতো সাহায্য লাগবে আমরা দেবো। কিন্তু রুগীর আরোগ্য চাই। রুগীকে ইনকিউবিটরে রাখা হলো। বাইরের জীবাণুরা আর পরাজীবিরা যাতে রুগীকে আবার আক্রান্ত না করতে পারে। এভাবে কতোদিন রুগী বাঁচবে কেউ জানে না?

অবশ্য আমাদের ঘরের সবার মুখে হাসি। জলপাই মামার উচ্ছসিত প্রশংসা। তার সত্যি কোন তুলনা নেই। এ বাড়ীর অন্ন খেয়ে বড়ো হয়েছেন, তাই নিমকের দাম দিচ্ছেন। আমরা উল্ল্লসিত। রুগী নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারছে। একটু একটু হাঁটতেও পারছে। আমরা রুগীর শরীর থেকে অপসারিত টিউমার আর পরিত্যক্ত অর্গানগুলো দেখে আনন্দে কাঁদছি। আমরা অনেকে হাত তুলে জলপাই মামার জন্য দো'আ করছি। মামা, তুমি শত বছর বাঁচো। এরকম খুশীর সময়ে রান্না ঘরে ঢুকে মাকে জিগ্যেস করলাম, "মাগো রুগীর চিকিৎসা তো হচ্ছে। কিন্তু তারপর জলপাই মামা আমাদের ঘর থেকে কবে বিদায় নেবে? আবার নয় বছর লাগবে না তো জলপাই মামার তার নিজের বাড়ীতে ফিরতে"?

মা আঁচল টেনে চোখের পানি মুছে বলেন, "বাবা তাতো জানি না"। মায়ের চোখের উদাস দৃস্টির মধ্যে এতোটা অনিশ্চয়তা আর কখনো দেখিনি...আমাদের সকল আনন্দের মাঝেও বেদনার অব্যক্ত পংক্তিগুলো কি শুধু চোখের আড়ালেই বাস করে...?

নিয়মিত পড়ুন বাংলা গ্রুপ ব্লগিং [link|http://deshivoice.blogspot.com/|
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অদৃশ্য অসুখের দৃশ্যমান সংকট: দ্বৈত বাস্তবতার প্রভাব

লিখেছেন বাঙালী ঋষি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আধুনিক সভ্যতা একটি মৌলিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা পরিমাপযোগ্য, সেটাই বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা জানি কীভাবে শরীরের অসুখ নির্ণয় করতে হয়, কীভাবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×