চোদ্দ কোটি জনসংখ্যা অধু্যষিত বাংলাদেশ এখন ফুলের বাগান হতে যাচ্ছে। এখন থেকে মালীদের বন্দনা করব। প্রণতি জানাব। যারা এখন বাগানের পরিচর্চা করছেন তাদেরকে মাথায় নিয়ে রাখব। স্বপ্নের বাগান চাই। ফুলে ফুলে ভরা। সারা বছর ধরে ফুলে ফুলে ফুটন্ত বাড়ন্ত বাগান চাই। আর আমরা সবাই বাস করব সেই বাগানে। বাগানের মধ্যে বেড়ে উঠা বেমানান মরা গাছগুলো উপড়াবার কাজ চলছে। বিষবৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। বড়ো গাছগুলোর কারণে ছোট গাছগুলো বাড়তে পারছে না। তাই, বৃক্ষনিধন হচ্ছে সুপরিকল্পিত। সুবিন্যস্ত বাগানের জন্য খুব দরকার। নতুন বাগানে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বিরামহীন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। চলুন আমরা করতালি দেই।
বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো শেকড় উপড়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরের এক প্রান্তে। সেখানেই আপাতত তারা অন্তরীণ থাকবে। হয়তো ধুকে ধুকে মরবে। বড়ো বড়ো গাছের নিধনে সবাই আনন্দে আটখানা। কিন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখুন, বাগানের আগাছা আর পরগাছাগুলো কিন্তু এখনও সরানো হচ্ছে না। এই দেখে পরগাছা বন্দনায় অনেকে ব্যস্ত। তারা ভাবছেন, আহা!!! বড়ো বৃক্ষ সরে যাচ্ছে। পরগাছারা এখন থেকে বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্যের একমাএ প্রতীক হবে। তাদের আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তারাই সর্বেসর্বা। আহা, তাদের আত্মতৃপ্তি দেখে আমরাও মুগ্ধ। কিন্তু মুর্খের দল কি জানে আগাছারা নতুন চারা রোপনের সাথে সাথে উৎখাত হবে? পরগাছারা যাদের কোন শেকড় নেই, তারা বৃক্ষ ছাড়া কিসের উপর ভর করে বাড়বে? বড়ো বড়ো গাছ না থাকলে পরগাছারা কাকে জড়িয়ে সূর্যকে ধরার জন্য হাত বাড়াবে(ক্লোজআপহাসি)?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



