
Two for joy!
আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু ফ্রী-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা শুরু করি, সে সেগুলো দেখে চট করে শিখে ফেলে এবং পাশের রুমে তার কাজিনকে শেখাতে যায়। ও যখন আমার রুমে আসে, তখন সে আমাকে নানা রকমের প্রশ্ন করে থাকে। আমাকে চোখে ‘আই ড্রপ’ দেয়া দেখলে সে জিজ্ঞাসা করে আমি সেটা কেন দেই। আমার উত্তর শুনে সে বুঝতে পারে যে আমার চোখে কোন একটা অসুখ হয়েছে। তক্ষনই সে ডাক্তার বনে যায়। সে দৌড়ে তার রুম থেকে তার ডাক্তারি সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে। স্টেথোস্কোপ দিয়ে আমার হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করে, জিহবা দেখতে চায়, ইত্যাদি। আমার একটা ছোট্ট টর্চলাইট আছে। ওর আগ্রহ দেখে আমি বেডসাইড ড্রয়ার থেকে সেটা ওকে বের করে দেই, আমাকে পরীক্ষা করার জন্য। ওর এসব কাজ দেখে আমি বুঝতে পারি, সে নিজেই যখন রোগী হয়ে ডাক্তারের কাছে যায়, তখন কতটা একাগ্রতার সাথে সে ডাক্তারের সব কাজ লক্ষ্য করে থাকে।
দাদার মত সেও পাখি দেখতে ভালোবাসে। দিদির অনুমতি নিয়ে সে একটা প্লাস্টিকের প্লেটে পাখিকে খাবার দেয়, পাখির জলের পাত্রে জল ঢেলে দেয়। রাত হলে জিজ্ঞাসা করে “পাখিরা এখন কোথায়”? ওরা ঘুমিয়ে আছে, বললে সে জানতে চায়, ওরা কোথায় ঘুমায়? বাড়ির সামনের বড় বড় গাছপালাগুলো দেখিয়ে আমরা বলি, ওরা ঐসব গাছের ডালে ঘুমিয়ে আছে। ওর পরের প্রশ্নঃ ওরা কখন উঠবে? আমি বলি, ওরা কাল সকালে উঠবে। ওরা যখন উঠবে, তুমি তখন ঘুমিয়ে থাকবে। ওরা খুব ভালো। ওরা সবার আগে ঘুমাতে যায়, আবার সবার আগে ঘুম থেকে ওঠে। ওদেরকে ওঠার জন্য যদি একবার ওদের মা ডাকে, তবে ওরা চট করে উঠে যায়। সকালে সবার আগে উঠে ওরা নিজেদের খাবার খুঁজতে বের হয়। সারাদিন ধরে খায়,গান গায়, গাছে গাছে ওড়াউড়ি করে আর সন্ধ্যার সময় আবার গাছে ফিরে আসে ঘুমাবার জন্যে।
.সম্প্রতি সে ক্যাপিটাল লেটারে তার নামটা লেখা শিখেছে। সে একটা শক্ত কাগজ কেটে পাখিকে খাবার দেয়ার জন্য একটা প্লেট বানিয়েছে। প্লেটের মধ্যে একটা মেয়ের প্রতিকৃ্তি এঁকে তার চতুর্পার্শ্বে অনেকগুলো ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। নিচে সে তার নামটা ‘ক্যাপিটাল লেটারে’ স্বাক্ষর করতে ভুলেনি। পাখিদেরকে ও বলতে চেয়েছে, ওদেরকে ও ভালোবাসে, এবং ভালোবেসে ওদেরকে খাবার দিয়েছে। ওরা যেন খায়। শিশুদের এ ভালোবাসা অকৃত্রিম!
ঢাকা
১৪ নভেম্বর ২০২৫
শব্দ সংখ্যাঃ ৩৫৬

সে দৌড়ে তার রুম থেকে তার ডাক্তারি সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে।

পাখিদের জন্য ভালোবাসা....


"one for sorry"!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

