অনেক দিন আগের গল্প। দাদু এই গল্পটা খুব বলতেন। বহুদিন আগে আমাদের গ্রামের কথা। ছেলে পক্ষ আসছে কনেকে দেখতে। তারা দেখবে সোনার কন্যা দেখতে কেমন? কনের দাদী নাতনীকে বলে রেখেছে, "তুই কোন কথা বলবি না, যা বলার সব আমিই বলবো"। কারণ, বেচারী নাতনী একটু তোতলা। কথা বললেই ধরা পড়ে যাবে। যেমন কথা তেমন কাজ। বর পক্ষ এসে মেয়েকে জিগ্যেস করে, "মা, তুমি কি কি রান্না করতে পারো"? দাদু আগ বাড়িয়ে উওর দিতে থাকে, "তার নাতনী অনেক গুণী, সে ভাত, মাছ, ডাল, মাংস, সব্জী, শাক...রান্না করতে পারে"। বর পক্ষ বেশ খুশী। এমন সময় নাতনী দেখল, দাদী তো একটা কথা জানাতে ভুলে গেছে। তাই এবার নাতনী তোতলাতে তোতলাতে বলে উঠল, "দদদাদু, আমি দু..দুদও রান্না করতে পারি"। ব্যস, পাএপক্ষ ফিরে গেল।
না, সিরিয়াস কোন গল্প না। শুধু কথার ফাঁকে যে তোতলামি ধরা পড়ে যায়, তাই না। অনেক সময় মানসিক বৈকল্যও ধরা পড়ে যায়। নির্বোধ লোকরা তাই এই কথার বেড়াজালে ধরা খেয়ে যায়। প্রকাশ করে ফেলে নিজের অজ্ঞতা ও নিবর্ুদ্ধিতা। নির্বোধের মতো অন্যদেরকে ছোট করে জাহির করতে চায় নিজের বড়ত্ব। আসলে বড় কে? বড়ো হওয়ার জন্য নিজেকে জানতে হয়, জানতে হয় নিজের সীমাবদ্ধতাকে। যে নিজেকে জানে, সে কখনও অন্যকে ছোট করতে পারে না। ছোটবেলায় এই কবিতাটা পড়েছিলাম, দেখুন তো মনে আছে কি-না?
আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়
লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়।
বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার
সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার।
গুণেতে হইলে বড়, বড় বলে সব
বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।
হরিশ্চন্দ্র মিএ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




