সৌজন্যে:GbIqvB evsjv
না। আজকাল গালিবের শে'র খুব ভালো লাগে। আমার চেয়ে আরও অনেকের হয়তো আরও বেশী ভাল লাগবে যদি তারাও আমার মতো গালিবকে কাছে পেত। কিন্তু হায়!!! কবিতার লাইন বাস্তবতার কাঠগড়ায় সব সময় পালিয়ে যায়। কান্নার চেয়ে আরও ছন্দময় মৌলিক কবিতা কি কবিদের সংগ্রহে আছে? কবিরা আবেগ সাজান পংক্তি আর ছন্দ দিয়ে। কান্না আসে আবেগের অকৃত্রিম প্রকাশে। কান্নাকে কোন ছন্দের পোশাক পড়াতে হয় না। যারা আজকে কেঁদেছেন অন্তত: তাদেরকে একবার ডেকে জিগ্যেস করে দেখতে পারেন আমার কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য।
বাঁধ ভেঙ্গেছে। ব্ল্লগে না, সর্বএ। সবাই এখন কাফনের কাপড় নিয়ে ঘুরে। শেষকৃত্য দেখতে চায় যাকে দেখতে নারে। কেমন উৎসবমূখরতা? সব দ্রুত বদলাচ্ছে। স্টেশন একদম খালি। যার যার সম্বল কম্বল নিয়ে শেষ ট্রেন ধরার জন্য হুড়মুড় করে দৌড়াচ্ছেন। হঠাৎ গালিব চীৎকার করে জিগ্যেস করলেন:
"সব আছে, না কিছুই নেই, গালিব?
শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা কী? নাকি কোনো ব্যাপারই নেই"?
কাছ থেকে একজন ব্যঙ্গ করে উওর দিলেন:
"ফাঁদ পাতা ছিল বাসার খুব কাছে,
উড়তে না উড়তেই ধরা পড়ে গেলাম আমি"
ধরা পড়লেন তো ভালই!!! কিন্তু কোথায় আদর যত্ন আত্তি? পাথর মন। পাষাণ সম। গালিবের জনপ্রিয়তার জনস্রোত কোথায় হারিয়ে গেল? ফুল আর তোরণ অদৃশ্য হলো। শক্তিমান মানুষগুলো ছায়ার মতো কায়াহীন হয়ে পড়লো। হলো না, ভালবাসার ফুলশয্যা। প্রিয় প্রেয়সী স্বপ্নের মাঝেই হারিয়ে গেল।
কাছ থেকে কে যেন ফিসফিস করে বললেন:
"জোর খবর _ উনি আসবেন;
আজকেই ঘরে একটা মাদুরও নেই!"
ক্ষুদ্ধ মন। কি ভীষণ অবিচার!!! কাছের মানুষগুলো কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। জোর করে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো গালিবের কাছ থেকে। ভালবাসার রুমাল কস্টের অশ্রু কি ধারণ করতে পারবে? গালিব প্রশ্ন করে বসলেন:
"কাল আমাকে মুছে ফেলছে কেন?
পৃথিবীর পৃষ্ঠার উপর আমি বাড়তি হরফ তো নই"
প্রশ্নটা আমার মনে গভীর দাগ কাটল। সত্যি তো? এভাবে গালিবকে মুছে ফেলা হচ্ছে কেন? পাশ থেকে কে যেন উওর দিলেন, "নতুন গালিবের জন্য"।
অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম: "আপনি কে"?
নীচু স্বরে বিনীত উওর এলো: "হতাশা"।
"কোলাহল তো বারণ হলো, এবার কথা কানে কানে
এখন হবে প্রাণের আলাপ কেবলমাএ গানে গানে"
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


