কখনও কি এমন মনে হয় যে কোনকিছু না করে চুপচাপ বসে থাকব। বসে থাকব এক্কেবারে চুপচাপ। কোন তাড়া নেই। কোন সাড়া নেই। কোন শব্দ নেই। টেবিল ঘড়ির কাঁটাটা সময়কে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তারপরেও স্থির দৃস্টিতে জানালা দিয়ে সকালের এক ঝলক রোদ্দুর দেখতে থাকব। ফ্যানটা বনবন করে ঘুরছে। সকালের ভ্যাঁপসা গরমের সাথে বিবাদ করে যাচ্ছে। খুব মন দিয়ে শুনছি: দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইল না দিনগুলো কি সত্যি কখনও কোথায় সোনার খাঁচায় ছিল? তাহলে দিনগুলো সেই খাঁচা থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলো কেন?
এক সময় ছিল গান দিয়ে আমার দিন শুরু হতো, গান দিয়ে শেষ হতো। রবীন্দ্র সুরের মুরছনায় আচ্ছন্ন থাকতো দিনগুলো। নিজের জীবনে সকল কস্ট আর দু:খবোধে বিরতি টানতো সুরগুলো। বন্যার ক্যাসেট প্রথম নামল। সবাই আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। শুধু কি গান? রাবীন্দ্রিক মেয়েটি কল্পনার তুলিতে আঁকতাম। সুরের বাঁধনে আটকা পড়ে থাকতো অনাগতা সেই মানুষটি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। নিউ মার্কেটে ক্যাসেটের দোকানগুলো নিয়মিত আখড়া ছিল। গাউছিয়া মার্কেটের নীচেও বেছে বেছে গানের অর্ডার দেওয়া। হেঁটে হেঁটে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতাম এলিফ্যান্ট রোডের গীতালীতে। একটা রবীন্দ্র সঙ্গীতের ক্যাসেট, কবিতার বই, এক কাপ চা। জীবনের চাওয়াগুলোর সুন্দরতম সারাংশ।
সুন্দর সময়গুলো জীবন থেকে খুব দ্রুত পালায়। শুধু রেখে যায় স্মৃতির বোঝা। সেই বোঝার ভার বইতে বইতে ক্লান্ত দেহ একদিন অবসর নেয় জীবন সংসার থেকে। সময়ের কাঁটা দিয়ে আজকের সকালটাকে ক্ষত বিক্ষত করতে চাই না। এলিয়ে দিতে চাই নিজের মতো। ছড়িয়ে দিতে চাই আনন্দ। তাই জীবনের সকল ব্যস্ততাকে অবসর দিয়ে পালিয়ে চলে এলাম স্মৃতির সোনার খাঁচায়। গাইতে থাকলাম: এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

