somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামাতীদের নোংরা কৌশল:

১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একমাত্র জামাতীদের পক্ষেই সম্ভব দুই নাম্বারী খবরকে হেডলাইন দেওয়া। গতকাল দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতার খবর দেখে আমার চক্ষু চড়ক গাছ। ব্লগে যেমন অনেকের লেখায় আমি বিনোদন পাই, পত্রিকা হিসেবে দৈনিক সংগ্রাম নজর কাড়ে তাদের বিনোদনমূলক উপকরণের জন্য। তবে গতকালকের খবরটা নিয়ে লিখতে গিয়ে আরেকটু গবেষণা করতে শুরু করলাম। কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এলো।

জামাতীইসলামীবাংলাদেশ নামে গুগলমেইল দিয়ে শামীম চৌধুরী নামে একজন গ্রুপে ইমেইল পোস্ট করে শেখ হাসিনার ঢাকায় প্রত্যাবর্তনে জনতার মিছিলের খবর দিয়েছেন। এতে রাজনৈতিকভাবে হেয় হয়েছে জামাতীরা। এখন তার এই প্রচারণার কারণে জামাতে ইসলামীকে তত্বাবধায়ক সরকার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। কি সর্বনাশ!!! যেহেতু ই-মেইলটি ইয়াহু গ্রুপে ছাড়া হয়েছে জামাতে ইসলামী ইমেইল আইডি দিয়ে। শামীম চৌধুরী কে আমি জানি না। তবে খবরটি বেশ চমকপ্রদ মনে হওয়াতে শুরু করলাম খোঁজখবর নেওয়া। ইয়াহু গ্রুপে গিয়ে দেখলাম শামীম চৌধুরীর ই-মেইল আছে তার নিজের নামে। তার লেখার সাথে সম্পর্ক নেই কোন জামাতীইসলামীবাংলাদেশ গুগলমেইল আইডির। ইয়াহু গ্রুপে ই-মেইল ছাড়লে তাতে মূল লেখকের নাম পাশেই আসে। আর কপি পেস্ট করে অন্যখান থেকে জোড়াতালি লাগালে সেটা চলে যায় মাঝখানে। হায়রে, জামাতী নির্বোধরা। চুরি যদি করতে হয়, আরেকটু বুদ্ধি খাটিয়েই করো। ইয়াহু গ্রুপটা ছেঁকে দেখলেই বুঝা যায় মৌলবাদী জামাতীদের ধান্ধা। নিজেরাই এরা নিজেদের খবর তৈরী করে। সেনশেসন তৈরী করে। নতুন কিছু না।

খবরটা দেখে একটু মজা পেলাম। ব্যাপারটা মনে করিয়ে দেয় জামাতীদের নোংরা কৌশলের কথা। শিরোনাম তৈরী করতে এদের ইয়াহু গ্রুপের স্বরচিত ই-মেইল লাগে। নিজেরা কপি পেস্ট করে ছেড়ে দিল। আর দৈনিক সংগ্রামের পাঠকরাও তা সাথে সাথে গলাধ:করণ করল। কিন্তু ব্যাপারটা বেশ মজার যে গুগল মেইল আইডি কয়েক বছর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জিমেইল আসার পরপরই। মার্কিন মুল্লুকে নাকি গুগলমেইল দেওয়াই হয় না বলে ব্লগের আরেক কম্পু বিশেষজ্ঞ ই-মেইল করে জানালেন। খবরটা শুনে আমারও আক্কেলগুড়ুম। অন্যদিক জামাতীদের ইয়াহু গ্রুপগুলো গত ক'দিন থেকে শামীম চৌধুরীকে শিরোনাম বানিয়ে ইয়াহু গ্রুপ কাঁপিয়ে ভোদরের মতো নাচছে। এখন এই বানেয়াট ই-মেইলের কারণে যদি সরকার জামাতে ইসলামকে বন্ধ করে দেয় তাহলে ইসলামী আন্দোলনের কাফেলা কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবে? হঠাত জামাতে ইসলাম দেখি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। তাতে ইয়াহু গ্রুপ থেকে যদি একজন শামীম সাহেবকে পাওয়া যায়, তাহলে মন্দ কি?

সাংবাদিক বন্ধুদেরকে খোঁজ নিতে বললাম। সকাল নাগাদ ই-মেইলের মাধ্যমে জানলাম, শামীম চৌধুরী নামে একজন মার্কিন মুল্লুকে আছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কোন কর্তাব্যক্তি নন। গত বছরই তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাহী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এখন তার নাম ভাংগিয়ে যদি জামাতের মাঠ গরম করা যায়। জেহাদী জোশ বিতরণের জন্য দরকার কিছু নাম। কিছু উড়ো খবর। কাট-পেস্ট করে খবর দিয়ে কর্মী-সাথীদের জেহাদী জোশকে চাঙ্গা করা। হায়রে নোংরা কৌশল!!! ইসলামী আন্দোলন বেচে যাদের জীবন চলে তাদের জন্যই এধরনের উড়ো খবরকে পত্রিকার শিরোনাম বানানো সম্ভব।

আওয়ামী লীগ আর বিএনপি রাজনীতির সাথে জামাতীদের চারিত্রিক ব্যবধান হচ্ছে তারা সবসময়ই কৌশলগতভাবে তাদের অবস্থানকে সংহত করে। এজন্য জামাতীদের কৃতিত্ব কখনো খাটো করা যায় না। ধর্ম দিয়ে, আবেগ দিয়ে, কৌশল দিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে তারা রাজনৈতিক শক্তি সংহত ও বিস্তৃত করে। ইয়াহু গ্রুপগুলোতে টোকা দিলেই বুঝা যায় তাদের শেকড়ের বিস্তৃতি। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিরা অনেক পিছিয়ে আছে। জামাতীরা সফলভাবে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ডাহুক ইয়াহু গ্রুপ আর সোনার বাংলাদেশ ইয়াহু গ্রুপ দিয়ে। একাততরের চেতনাকে যদি সংহত করতে হয় আর জামাতী রাজাকারদের প্রতিহত করতে হয়, তাহলে এসব ইন্টারনেট গ্রুপগুলোর মৌলবাদী প্রচারণার প্রতি চোখ রাখার খুব দরকার। না হলে এরা কপি পেস্টের আশীর্বাদে নতুন জেহাদী জোশ নির্বোধদের জন্য বিতরণ করে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:১১
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×