বেশ চমক দেয়া খবর। আমাদের দেশে আমরা আবার চমক্ খুব পছন্দ করি। অন্তত: একটা শুভবুদ্ধি শেষ অবধি হলো দেখে বেশ চমক্ লাগল। কে জানে হয়তোবা কালীগঞ্জের জামাতী নেতা যিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন তিনি তার নেএী মোহতারামাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে ব্যাপারটির সাথে অনেক আবেগ জড়িত। বিশেষত: লে.জে.হো.মো. এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত নেতা ময়েজউদ্দীন যখন বাইশ বছর আগে শহীদ হোন কালীগঞ্জে, তখন তার সাথে জড়িয়ে আছে অনেক বেদনা, ত্যাগ ও স্মৃতি। বিষয়টি দলীয় রাজনীতির অনেক উধের্্ব।
তাই, 'শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু'র নাম হঠাৎ পরিবর্তন করে ঘোাড়াশাল সেতু রাখার সরকারী সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও সংকীর্ণতা স্পষ্ট করে তুলে। সমকাল পএিকা বলছে, 'গাজীপুরের টঙ্গী ও কালীগঞ্জে এবং নরসিংদীর পলাশের আওয়ামী লীগ ময়েজউদ্দিন সেতু নামকরণ অপরিবর্তিত রাখার দাবীতে পক্ষকালব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এসব আন্দোলনের মধ্যে ছিল মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ, হরতাল এবং সংবাদ সম্মেলন'। ব্যাপারটা বেশ নাটকীয়ভাবেই মোড় নেয় গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। দৈনিক ইওেফাকের আজকের পাতার খবরের বলা হয়, 'প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল ঘোড়াশালে শীতলক্ষ্যার উপর নির্মিত সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সেতুর নাম 'শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু' বলে ঘোষণা দেন। সেতুর নাম শেষ পর্যন্ত 'শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু' হিসেবে ঘোষণা দিলে জনতা করতালিতে পুরো পরিবেশ মুখর করে তোলে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাল থেকে সব কাগজপত্র শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু নামে হবে'। রাজনীতির কারণেই হোক অথবা জনপ্রিয়তার কারণেই হোক, রাজনীতিবিদ ময়েজউদ্দীনের ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখাবার এই বিলম্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। যারা এদেশের সূর্য সন্তান তাদের ত্যাগকে খাটো করতে গেলে যে হিতে বিপরীত হতে পারে তা অনেকেই বুঝতে শুরু করেছেন। কারণ, দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে অনেকের মনে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৯:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


