কিন্তু সবকিছুর মধ্য থেকে চোখে পড়ল সবচেয়ে অপমানজনক ও হেয়কর ঘটনাটি যখন বাংলাদেশের বিমান নিউইয়র্কের উপর চক্কর দিয়েও অবশেষে নামার অনুমতি পেল না। এই দু:খজনক ঘটনাটি খবরের কাগজগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার পাচ্ছে ক'দিন থেকে। বিমান পরিচালনায় এদেশের বিমান কতর্ৃপক্ষ কি পরিমাণ ব্যর্থ তা বেশ স্পস্ট হয়ে উঠে এই দু:খজনক ঘটনায়। কোথায় ফ্লাইট প্ল্ল্যান, কোথায় সমন্বয়, কোথায় কতর্ৃপক্ষ? দুর্নীতি আজ রন্ধ্রে রন্ধ্রে, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতার মৃতু্য ঘটেছে অনেক আগেই। বিমানের ব্যর্থতার দায়ভার নিচ্ছে নিরীহ যাএীবৃন্দ। এতোটা নির্লজ্জ ব্যর্থতা আর কখনও দেখা যায়নি?
ভোরের কাগজ 15ই মে'র প্রতিবেদনে বলা হয়, "যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সীমায় প্রবেশ করার পরেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিউইয়র্ক ফ্লাইটকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামতে দেওয়া হয়নি। এর ফলে বিমানটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কানাডার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমানটিকে মন্ট্রিল বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়। বিমানের চালক ক্যাপ্টেন পাশা অনুমতি পাওয়ার পর 272 জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি মন্ট্রিলে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন। বিমান সংশিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বাপার সাবেক সভাপতি ক্যাপ্টেন নাসিম বলেছেন, বিমানটিকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামতে না দেওয়ার কারণে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশনের (এফএও) বিরুদ্ধে মামলা করে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব।
এই অর্থ বিমানের 35 বছরের লোকসানের সমপরিমাণ হতে পারে। বিমানকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামতে না দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. এম এ মোমেন ভোরের কাগজকে বলেন, কী কারণে বিমানের ফ্লাইট নিউইয়র্কে নামতে দেওয়া হয়নি তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। মন্ট্রিলে অবতরণের পর যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের ট্রান্সপোর্টেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিমানের নিউইয়র্ক ফ্লাইট (বিজি-011) শনিবার সকাল 8টায় 272 জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে। এদিন বাংলাদেশ সময় রাত 9টায় বিমান ব্রাসেলসে পেঁৗছে। রাত সাড়ে 10টার দিকে বিমানটি নিউইয়র্কের উদ্দেশে ব্রাসেলস ত্যাগ করে। পাইলট প্রায় সাড়ে 7 ঘণ্টায় আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে কানাডার আকাশসীমা অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে প্রবেশ করেন। এ সময় এফএএ-এর কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানানো হয় বিমানের ফ্লাইট জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। বলা হয় যেখান থেকে এসেছো সেখানেই ফিরে যাও। জবাবে বিমানের ক্যাপ্টেন পাশা যুক্তরাষ্ট্রের কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান, ফের 7 ঘণ্টা ফ্লাই করে ব্রাসেলস ফিরে যাওয়ার মতো জ্বালানি বিমানে নেই। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বিমানটি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হোক। এফএএ কঠোর ভাষায় জানায়, কোনোভাবেই বিমান যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করতে পারবে না। তোমরা এই সমস্যার কথা কানাডা কর্তৃপক্ষকে জানাও। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ক্যাপ্টেন পাশা বিষয়টি কানাডা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে জানান। কানাডা ব্রাসেলসের দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে বিমানকে মন্ট্রিলে অবতরণের অনুমতি দেয়।
কানাডার ভিসা না থাকায় যাত্রীদের কয়েক ঘণ্টা বিমানের ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। এর মধ্যে হুইল চেয়ারের কয়েকজন যাত্রীও ছিলেন। ভিসাজনিত সমস্যার সাময়িক সমাধান করে বিমানবন্দরের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কয়েকজন যাত্রীকে নিউইয়র্কগামী অন্য বিমানে তুলে দেওয়া হয়। বাকিদের সড়কপথে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ব্রাসেলস থেকে উড্ডয়নের প্রায় 2 ঘণ্টা পর এফএএ থেকে বিমানের ফাইট অপারেশনকে জানানো হয় তারা ওই ফাইটকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামার অনুমতি দেবে না। তখন ফ্লাইট অপারেশন থেকে বলা , আমাদের বিমান 2 ঘণ্টা আগে ব্রাসেলস ত্যাগ করেছে। তাই এখন আর ব্রাসেলস ফেরা সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, শনিবার বিমানের উড়োজাহাজ ডিসি-10 (এস-2 এসিআর) 272 জন নিউইয়র্কগামী যাত্রী নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে। উলেখ্য, 6 মাস আগে এই বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার কারণে এফএএ 20 ঘণ্টা আটক করে রেখেছিল। উড়োজাহাজটিকে যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত করে পরে ফ্লাই করার অনমুতি দেওয়া হয়। ওই উড়োজাহাজটি যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এই কারণ দেখিয়ে এফএএ বিমানটিকে আমেরিকায় পাঠাতে নিষেধ করে দেয়। তবে এক মাস আগে এই উড়োজাহাজটি আমেরিকায় পাঠানো হয়। গত শনিবার ফের পাঠানো হলে এফএএ বিমান অবতরণে বাধা দেয়।
পাইলট এসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সভাপতি ক্যাপ্টেন নাসিমুল হক এ ব্যাপারে ভোরের কাগজকে বলেন, ফ্লাইট প্ল্যান ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পর পাইলট ক্লিয়ারেন্স নিয়েই টেক অফ করেন। এফএএ-এর অনুমতি পেয়েই পাইলট নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই অবস্থায় তাকে অবতরণের অনুমতি না দিয়ে এফএএ ফাইট ডাইভার্ট করতে পারে না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন রয়েছে। বিমান এফএএ-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে 35 বছরের লোকসানের টাকা তুলে আনতে পারে। বিমানের এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। এতে বিমানের এয়ারপোর্ট চার্জ, ফুয়েল খরচ, যাত্রীদের দুর্ভোগের ক্ষতিপূরণ দিতে তারা বাধ্য"।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



