somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অধিকার

০১ লা মে, ২০১৪ দুপুর ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৮৮৬। সালটি অনেকেরই মনে আছে। কেননা নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে May Day এর উপর প্যাসেজ ছিল। তাই আমার মত দুএকজন অগত্যা পড়লেও অনেকে তা প্রয়োজনে পড়েছিল। আমারই বরং তেমন মনে নেই। তবে আমি গরীব শ্রেণীয়, তাই গরীবদের প্রতি আমার টান আছে বৈকি। আর তাই আমি কিঞ্চিৎ জানার চেষ্টা করেছিলাম এই বেপারে। আপনারা সবাই নিশ্চয় আমার চায়তে ভাল জানেন।
ছোট্ট করে বলি, যুগে যুগে শাসক শ্রেণির লোকেরা শ্রমিকের উপর অত্যাচার আর জুলুম করে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় অতিস্ট হয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয় ১৮৮৬'র ও শতাধিক বছর পূর্বে। তাদের আন্দোলন ছিল কর্মঘণ্টা কমানো ও ন্যায্য বেতন ভাতার প্রাপ্তির জন্য। কিন্তু লোভী ঐ শ্রেণির অমানুষদের ভেতর মানবিকতা ছিল না। তাই ৮৬ তে শ্রমিকদের আন্দোলন সভায় গুলিবর্ষণ করে অনেক শ্রমিকের রক্তে হলি খেলে। তবুও দমাতে না পেরে শেষে ৮ ঘণ্টা সময় বেধে দেয় শ্রমিকদের জন্য। তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি। আর সেই থেকে ৮ ঘণ্টার কাজের সময়সীমা শুরু হয় সারা বিশ্বে। এ বেপারে আইনও পাশ করা হয়।
হ্যাঁ, ৮ ঘণ্টা তো করাই যায়। এটাকে বেশি বলতে পারছি না।
এবার আসি আমাদের দেশে। আমাদের দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা। কিন্তু প্রকৃতির সম্পদ প্রকৃতিতেই থেকে যায় দক্ষ কারিগর, যন্ত্রপাতি ও সরকারের অবহেলায়। আর বিদেশীদের দিয়ে উত্তোলন করলে যে যৎসামান্য সম্পদ আমরা ভাগে পাই তা কেবলই গরীবের ছোট্ট বাচ্চাটিকে অভাবের তাড়নায় আটা দিয়ে সাদা আর চিনি দিয়ে স্বাদ করা কাচের পুরনো বোতলে ভরে দুধ বলে খাইয়ে সান্ত্বনা দেয়ার মতই।
তাছাড়া আমাদের এমন কিছুর প্রয়োজন পড়ে যা আমাদের দেশে নেই, আমদানি করতে হয়। এখন কেবল দেশীয় সম্পদ দিয়ে সব ঘাটতি পুরন কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই বিদেশে পণ্য বা সেবা দিয়ে অর্জিত আয় থেকে নিজ দেশের উন্নয়ন করা হয়। বাংলাদেশে এমন একটি দিক হল গার্মেন্টস। গার্মেন্টস শিল্পে শুরুটা বাংলাদেশে খুব বেশি আগে নয়। এই পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর আগের ঘটনা। কয়েকজন মিলে এই শিল্পের সূত্রপাত করে। তখন হয়ত তাদের কেউই ভাবেনি যে আজ সে শিল্প এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াবে। কিন্তু এটিই সত্য যে বাংলাদেশ এখনও টিকে থাকার পেছনে এই শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। তানাহলে বাংলাদেশে রাজনীতিবিদরা থাকতো ভারত, পাকিস্তান আর অ্যামেরিকায়। আর সাধারণদের অবস্থা হত সোমালিয়ানদের মত।
এখন একটু খোঁজ নিলেই পাবেন যে এই শিল্পকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছেন সেই শ্রমিকরা কোন অবস্থানে আছেন!
মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি মাসে ছুটি দেয় ৪ দিন চার শুক্রবারে। বাড়তি একদিন ছুটি পেলে শ্রমিকদের ঈদের আনন্দ অনুভূত হয়। কিন্তু সেই অনুভুতি বছরে দু-একবারই হয়ে থাকে। আর ঈদের ছুটি হয়ত একটিতে পায়, তাও ঈদের দিন আর তার পরের দিন। তা যাক।
এখন আসি কর্মঘণ্টায়। দৈনিক কাজ করতে হয় ১০-১২ ঘণ্টা! তাহলে বলুন সেই মে ডে বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক আইন বা দিবসের ফলাফল কী? তাও বাদ দিলাম।
এখন আসি বেতনে। সরকার নিয়মিতই ভোট ধরে রাখার জন্য এই শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য তোলপাড় শুরু করে। কেননা ৩০ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে এই শিল্পে। আর প্রত্যেকের সংসারে থাকে আরও ৩০ লক্ষাধিক লোক থাকে। তাদের ভোট পেলে আর কি লাগে। কিন্তু সেই তোলপাড় শেষ হয় কারখানা মালিকদের দেয়া টাকায়।
তার উপর নেই কারও জীবনের নিরাপত্তা। আজ এই কারখানা ধসে পড়ছে, কাল আরেকটাতে আগুনে পুড়ে মরছে হাজারো শ্রমিক! এদের প্রত্যেকের জীবনের অবসানের সাথে সাথে একটু একটু করে এদেশের অবসান হচ্ছে।
তাহলে কোথায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী পুরন হয়েছে? এটি মাত্র একটির উদাহরণ দিলাম। বাংলাদেশের প্রত্যেক সেক্টরে শ্রমিকরা আজও নির্যাতিত, নিপীড়িত। আমরা এখনও নতুন, এখনও আমাদের সেই বয়সটা হয়নি। আমরা কোন মালিক নই। তবু আমরাও নিয়মিত শ্রমিক নির্যাতন করছি। রিক্সাওয়ালার ন্যায্য ভারাটা পর্যন্ত আমরা দেই না।
অনেক আক্ষেপ হচ্ছে মানুষ হিসেবে জন্ম নেয়ায়। মানুষের যে মুল বৈশিষ্ট্য তা আজ খুব কম সংখ্যক মানুষের ভেতর আছে। আল্লাহ্‌ আমাদের জ্ঞান দিন। দেশ রক্ষা করুন। শ্রমিকদের রক্ষা করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৪ দুপুর ১২:৩১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×