এই মুহূর্তে আমি রাস্তার ধারে বসে আছি যদিও রাস্তার
ধারে বসে থাকার কোন মানে নেই তার পরেও
বসে বসে এক জনের জন্য ওয়েট করছি।
অনেকে বলে অপেক্ষার সময় কঠিন আমার কাছে সে রকম
লাগে না ঐ সময়টা আমি বিভিন্ন জিনিষ
দেখে কাটিয়ে দেই। এই যেমন এখন একটা দৃশ্য দেখছি…
.
দুই বন্ধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে একটা কথা বলছে আর
একটা কোকাকোলা খাচ্ছে। পাশেই একটা টোকাই
ছেলে দাড়িয়ে আছে। সে এখন কিছু বলবে না যেই
কোকাকোলার ৩ ভাগের এক ভাগ থাকবে তখন
আস্তে করে বলবে ভাইয়া বোতলটা দিবেন
সরাসরি কোকাকোলা চাইবে না।
কোকাকোলা না না চাওয়ার কারণ হল কার কাছ
থেকে খাবারের জন্য টাকা চাওয়া যায় কিন্তু
খাচ্ছে এমন জিনিস চাওয়া যায় না খুবই লজ্জা লাগে।
ঠিক তাই হল ছেলেটা বোতল চাই।
কোকাকোলা চাওয়া লাগে না যারা বুদ্ধি ম্যান
তারা কিছুটা কোকাকোলা রেখেই বোতল সহ দিয়ে দেয়।
মানুষের ভিতর এই মানবতা টুকু এখন ও আছে।
হ্যাঁ কিছুটা কোকাকোলা থাকা অবস্থাই
বোতলটা দিয়ে দিল ছেলেটাকে।
.
আরেক যায়গায় একটা অল্প বয়সী মেয়ে একটা পালকের
ঝারু দিয়ে প্রাইভেট কার গাড়ির গ্লাস পরিষ্কার করছে।
পরিষ্কার করা শেষে গাড়ির মালিকের কাছে হাত
পাতছে কিন্তু কেউ টাকা দিচ্ছে না তাতেও সে হতাশ
হচ্ছে না একের পর এক গাড়ির গ্লাস মুছেই যাচ্ছে। এইবার
একটা CNG এর গ্লাস পরিষ্কার করে CNG ড্রাইভারের
পিছে হাত পাতছে। CNG ড্রাইভার তার হাতে কিছু
টাকা দিল। মেয়েটা কিছু অবাক হল যেই যায়গায়
প্রাইভেট কার গাড়ির গ্লাস পরিষ্কার করে কিছু পেল
না সেখানে সে CNG এর গ্লাস পরিষ্কার
করে টাকা পেয়ে যেই হাসিটা দিল তার দাম কোন
টাকা দিয়ে হবে না।
.
আরেক সাইডে একটা ছেলে গ্যাস বেলুন বিক্রি করছে।
বেলুন গুলোর সুতা একটা লাঠিতে বাধা আর বেলুন
গুলো উপরের দিকে ভাসছে। একটা ছেলে তার
বাবা কে বার বার বলছে একটা বেলুন
কিনে দিতে ভদ্রলোক রাজি হচ্ছেন না। মনে হয়
না সমস্যা আর্থিক সমস্যা হল অপচয়ের কেননা একটু পরেই
ঐ ছেলে বেলুন ছেড়ে দিবে বেলুন
আকাশে উরে যাবে ভদ্রলোকের টাকা নষ্ট হবে। এক
পর্যায় ছেলেকে চড় মেরে বসল ভদ্রলোক। চড়
মেরে ভদ্রলোক নিজেই হতভম্ব হয়ে গেল। বেলুন ওয়ালার
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে লোকটা এবং ছেলেকে একটা বেলুন
কিনে দিল। ছেলেটার চোখে এখন পানি অথচ
মুখে হাসি অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে ছেলেটাকে এখন।
আমার পকেটে মোবাইল বাঝছে যার জন্য ওয়েট করছি তার
ফোন আমার পর্যবেক্ষণ শেষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


