somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনের পশু না মনের পশু?

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বনের পশু নয় মনের পশুরে কুরবানি কর'- কথাটি ইদানিং খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই কথা বলে তারা কুরবানিকে অবজ্ঞা করছে- ব্যপারটা কিন্তু এই রকমও নয়। বরং তারা কুরবানির জন্য পশু ক্রয় করছে এবং যথা নিয়মে ঈদের সকালে পশুটি জবাইও করছে। কিন্তু তারা কুরবানির তাৎপর্যকে এইভাবে গ্রহন করেছে যে, এই পশু কুরবানি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের আমাতে লুকিয়ে থাকা পাশবিকতার উপস্থিতি। Symbolically কথাটি যে একেবারে অযৌক্তিক একথা কোন চিন্তাশীল মানুষ বলতে পারবেনা। সবচেয়ে বড় কথা এই interpretation এর মধ্যে এক ধরনের intellectual intoxication রয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে utility উপর অত্যধিক গুরুত্ত প্রদানে আমার হাল্কা allergy আছে। একজন মুমিনের religious belief ও practice কি utilitarian হওয়া উচিত?

কিছুদিন আগে islamization of education শিরনামে এক ওয়ার্কসপে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে বিজ্ঞ বক্তা বারবার আমাদের বুজাচ্ছিলেন ইসলাম কিভাবে আমাদের নানা উপকারে লাগে। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন "আল্লাহতে বিশ্বাস করে আমাদের কি লাভ?" নানামুনি নানা মত দিয়েছিল (বাংগাল বুদ্ধিজীবী হইবার সুযোগ পাইলে তাহা হাতছাড়া করিবে কেন?)! আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম আল্লাহতে বিশ্বাস করার কোন লাভ যদি আমি খুজে না পাই, তাহলে আমি কি আল্লাহতে বিশ্বাস করবোনা?

আল্লাহ আমাদের কতটুকু knowledge দিয়েছেন যা দিয়ে আমরা ব্যখ্যা করে বের করে ফেলব আল্লাহ্‌র হুকুম আহকাম বাস্তবায়নের মধ্যে কি হেকমত লুকায়িত? কিন্তু আমরা উঠেপড়ে লেগেছি তাৎপর্য অনুসন্ধানে। ভাবখানা এমন যে, আমাদের অনুসন্ধিৎসু মননশীলতা কুরয়ান-হাদিসের ব্যক্ষাকে আর যথেষ্ট মনে করছেনা!!! নইলে লাভ-ক্ষতি কিংবা বনের পশু-মনের পশু তত্ত কোথা থেকে আসলো? আল্লাহ কি রাসুল (স:) কে বলেছিল "পশু কুরবানির মাধ্যমে তোমার মনের পশুকে কুরবানি কর" কিংবা রাসুল (স:) কি তার সাহাবা (রা:)দের বলেছেন "বনের পশু কুরবানির মাধ্যমে তোমার মনের পশুকে কুরবানি কর" কিংবা সাহাবা (রা:)দের মধ্য থেকে কেউকি রাসুলের (স:) কাছে কুরবানির তাৎপর্য জানতে চেয়েছিল? মোদ্দা কথা হল, আমাদের ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ যাতটুকু আল্লাহ ও তার রাসুল (স:) আমাদের জানিয়েছেন। বুজা উচিৎ আমাদের knowledge এর রয়েছে সীমাবদ্ধতা।

Saint Augustine নাকি একবার স্রষ্টার লীলা বুজার বাসনা নিয়ে সমূদ্র পাড়ে ধ্যন করছিলেন। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন একটি বাচ্চা ছেলে (সে ছিল আল্লাহ প্রেরিত একজন ফেরেশতা) সাগর থেকে বালতিতে করে জল এনে একটি ছোট খাদে ঢালছে। Augustine বিরক্ত হয়ে বলল "এই ছোকরা! এখনে কি করছো?" তার তড়িৎ জবাব "আমি সমূদ্রের সব পানি এই ছোট খাদে ঢালবো।" Augustine বাচ্চাটির বোকামি দেখে হাসলো, আর বলল "আরে বোকা ছেলে তুমি কি করে এই ছোট গুহায় এত বিশাল সাগরকে ধারন করাবে?" দেবশিশুটি বলল " তাহলে তুমিও কি বোকা নও? অতি ক্ষুদ্র মানব-জ্ঞান নিয়ে স্রষ্টার লীলার বিশালতাকে বুজা কি সম্ভব?" Augustine একটি কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর পেয়ে গেলেন।

সুতরাং পশু কুরবানির মাযে কি হেকমত লুকায়িত তা আল্লাহতালা ভাল জানেন। আমি মনের পুশুকে কুরবানির করার জন্য নয়, আমি কুরবানি করি কারন:

*এটি একটি ঈবাদাত।
*এটি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
*এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকওয়ার পরীক্ষা নেন।
*এটি আমাদের জাতির পিতা ইব্রাহীম (আ:) এর সুন্নাহ।

কুরয়ান-সুন্নাহ আমাকে কোরবানির এই তাৎপর্যগুলো শিখিয়েছে। আমি একেই যথেষ্ট মনে করি।

সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে কোরবানির যে symbolic interpretation করা হচ্ছে আমি সেটা appreciate করি। কিন্তু "মনের পশু কোরবানি কর" স্লোগানটি মিডিয়ায় এমনভাবে highlighted হচ্ছে, ভয় হয় মানুষ না জানি এটাকেই কোরবানির মূল তাৎপর্য হিসেবে গ্রহন করে!!! একথা ভূলে গেলে চলবেনা যে, আমল কবুলের প্রধানতম পূর্বশত' নিয়তের পরিশুদ্ধতা। "মনের পশু কোরবানি" করার নিয়তে কেও কুরবানির করলে সেটি কতটুকু শরিয়াসম্মত হবে?

Rationalistic হওয়া অনেক সময় শুধুমাত্র যৌক্তিক নয়, অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে rationalistic tendency ( of course, in Western sense) কখনো কখনো খুবই বিপদজনক। তাই ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে আমাদের তাই করা উচিৎ যা সাহাবা (রা:) গন করেছিলেন। আল্লাহ যখন কোন বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছন কিংবা রাসুল (সা:) যখন দীন শিখিয়েছেন, তখন তারা কোন reasoning এ যাননি, তাদের philosophy ছিল

"শুনলাম
এবং
মানলাম।"

জী, হ্যা। আমি শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করার জন্য, রাসুল (সা:)এর সুন্নাহ অনুসরণ করে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি জন্য, কুরবানি ঈবাদাত করি। মনের পশুকে হত্যা করতে নয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×