আমি চাইলেই কবিতা লিখতে পারি
মাঝে মধ্যেই দম্ভের সাথে বলে ফেলি
কবিবন্ধুদের। কবিতায় ব্যবহার করে ফেলতে পারি
যুথসই উপমা, নিরেট অলঙ্কার এবঙ ছন্দে
করে তুলতে পারি শিল্পোর্ত্তীর্ণ
কালের ভেলায় ভাসিয়ে দিতে পারি
কবিতার পঙক্তি যা ভেসে চলবে
কবিতা পিপাসুদের নিত্যপাঠের আসরে।
আজও চাইলেই লিখে ফেলতে পারবো
সেই দম্ভ নিয়েই লিখতে বসেছি।
ভাবছি পদ্যভাবনা, কোন সম্বোধনে
অথবা কবিতার নিয়ম ভেঙ্গেচুরে নতুন
কী লেখা যায়। হরহামেশাই তো
লিখি প্রিয়নামের আরাধনার পঙক্তি।
লিখে ফেলি ঠোঁট ও অধরের কামনীয় বর্ণনাঃ
আমার তৃষ্ণার্ত কামের যৌগিক বিলাস!
আজ লিখতে চাই অন্যকিছু, যা কেউ
কখনো ভাবেনি, কোন কবির মানসপটেও
আসেনি এই দার্শনিক চিন্তা।
পাঠক কবিতা পড়া মাত্রই বলে ফেলবে
শালার কবি কি লিখেছে কিভাবে লিখেছে
সিউর মদ খেয়ে মাতাল হয়ে লিখেছে
অথবা গাঁজা খেয়ে ব্ল্যাকআউট হয়ে গিয়েছিল
না হয় এভাবে লিখা সম্ভব না!
অথচ আমার দাম্ভিকতায় আজ কোন
শব্দ নেই, আমার কি হাহাকার আছে?
না তাও নেই দেখছি, অথচ কী প্যাড
ফাটিয়ে লিখে যাচ্ছি একের পর এক শব্দ
কিন্তু কী প্যাডের শব্দকে ছাড়িয়ে ভেসে
উঠছে অন্য এক শব্দ, বিকট চিৎকার!
মায়ের বুক খুঁজে ফেরা কোন শিশুর
আর্তচিৎকার নয়। অন্যকিছুর গোঙ্গানী!
সচেতন পাঠক হয়তো ভাবছেন পশুর কাছে
কুমারীত্ব হারানোর বালিকার কথা বুঝি লিখছি!
না তা নয়। আসলে শব্দরা গুম হয়ে যাচ্ছে
গুম হয়ে যাচ্ছে শব্দের পেছনের মানুষগুলো
ঘোমটা টানা লাজুক বৌয়ের মেহেদী রাঙ্গানো
হাত, গুম হয়ে যাচ্ছে সব, কোটি টাকায়
বিকোচ্ছে গুমের নীলনকশা, রক্ষকের কোষাগারে
জমা পড়ছে পাঁজরের হাঁড় ও অস্থি।
মেডিকেলের এনাটমি বিভাগে আজকাল
কঙ্কালের বড় সংকট, মেডিকেল সায়েন্সের
উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে চাই গোটা গোটা
শরীর, শত শত কঙ্কাল। তাই রক্ষকের দল
ভার নিয়েছে শরীর যোগানের এবং সরবারাহ
করে যাচ্ছে মেহেদী রাঙ্গা হাতের সিঁদুর
এবং সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর পিতার সহজাত হাসি
বিবাহ প্রস্তুতী নেয়া বরের শেরওয়ানীর দায়িত্ব।
আমি তাই আমার কবিতার দাম্ভিকতায়
দাগ কেটে যাচ্ছি হারানো মানুষের ইত্যকার
বর্ণনা আর এক এক করে ছক এঁকে যাচ্ছি
আমার কবিতা কবে গুম হবে এবঙ
বিবেকের কোষগুলো একে একে মরে যাবে
দেশ হয়ে উঠবে একমাত্র শ্মশান ঘাট!
০৬০৫২০১৪
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



